খুলনার ফুলতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল বাশারকে (৫২) লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করেছে দুর্বৃত্তরা। তবে, বোমাটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে দূরে গিয়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) রাতে খুলনা-যশোর মহাসড়কের চৌদ্দমাইল এলাকায় এ বোমা হামলা হয়।

এ ঘটনার পর বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ফুলতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.

জেল্লাল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

পুলিশ ও বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে শেখ আবুল বাশার তার সহযোগীর মোটরসাইকেলের পিছনে বসে ফুলতলা বাজার থেকে বুড়িয়ারডাঙ্গা সরদার বাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। খুলনা-যশোর মহাসড়কে সুপার জুট মিলের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে বোমা নিক্ষেপ করে। বোমাটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে রাস্তার ওপর পড়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে তিনি রক্ষা পান। 

শেখ আবুল বাশারের ওপর বোমা হামলা হয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে সড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। 

পরে বাসস্ট্যান্ড চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে খুলনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান মন্টু, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আবুল বাশার, সদস্য সচিব মনির হাসান টিটো, যুগ্ম আহ্বায়ক মোল্যা মনিরুল ইসলাম, কাজী আনোয়ার হোসেন বাবু, শফিক আহমেদ মেজবা, আতাউর রহমান, শেখ আলমগীর হোসেন, মোতাহার হোসেন কিরণ প্রমুখ বক্তৃতা করেন। তারা অবিলম্বে বোমা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। 

খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতারা যৌথ বিবৃতিতে বোমা হামলার তীব্র নিন্দা এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, পতিত সরকারের দোসররা খুলনাকে অশান্ত করতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। বিএনপি নেতা শেখ আবুল বাশারের ওপর বোমা হামলা তারই অংশ।

বিবৃতিদাতারা হলেন—বিএনপির নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু হোসেন বাবু, খুলনা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদী, মাসুদ পারভেজ বাবু এবং চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ।

ঢাকা/নূরুজ্জামান/রফিক

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ব এনপ র স র ওপর

এছাড়াও পড়ুন:

সিলেটের আল-হারামাইনে কেন এসেছিলেন নাহিদ ইসলাম

সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সিলেট আগমন নিয়ে তোলপার চলছে। আকষ্মিক আলোচিত ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান নাসিরের সিলেটের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল হারামাইন হসপিটাল পরিদর্শন করার পর তোলপাড় শুরু হয়। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সস্ত্রীক সিলেটে পৌঁছে নাহিদ ইসলাম নগরীর সোবহানিঘাট এলাকার আল হারামাইন হাসপাতালে যান। বিষয়টি শুক্রবার জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। 

সম্প্রতি ব্যবসায়ী নাসেরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে হুন্ডি ব্যবসাসহ সিলেটে তার বাসা কাজী ক্যাসলে আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এ অবস্থায় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নাহিদ ইসলামের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। 

তবে হাসপাতালের জিএম পারভেজ আহমদ সমকালকে জানান, বৃহস্পতিবার পায়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন নাহিদ। অর্থোপেডিক্স ডাক্তার দেখিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এনসিপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে (বিএস-৫৩৫) স্ত্রীসহ ঢাকা থেকে সিলেট আসেন নাহিদ ইসলাম। পরে বিকেল ৩টার দিকে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় অবস্থিত আল হারামাইন হাসপাতালে যান। সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর সড়কপথে মৌলভীবাজারে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। 

শুক্রবার রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি শ্রীমঙ্গলের একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। আজ শনিবার তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।  

প্রসঙ্গত, মাহতাবুর রহমান নাসিরের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিদেশে কোটি কোটি পাচারের অভিযোগ উঠে। আতর ব্যবসার আড়ালে হুন্ডির মাধ্যমে এ টাকা পাচার করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এমনকি ৫ আগসেটর পর তার বিলাসবহুল বাড়ি কাজী ক্যাসলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। 
পরবর্তীতে এলাকার লোকজন ওই বাড়িতে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। দুদক ও এনবিআর তার সম্পদের গোপন রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ