Samakal:
2025-04-04@23:24:11 GMT

একটি স্বপ্ন ও অন্যান্য

Published: 4th, April 2025 GMT

একটি স্বপ্ন ও অন্যান্য

অধ্যাপক-বধূর নিয়তি
মূল: দ্য ফেইট অব দ্য প্রফেসর’স ওয়াইফ
রচনাকাল: আগস্ট ২১, ১৯৩৬

একবার এক অধ্যাপক এমন কিছু একটা খেয়ে ফেলেছিলেন; যা ঠিক খাওয়ার উপযোগী ছিল না। খাওয়ার পর তিনি বমি করতে শুরু করলেন।
তাঁর বউ এসে জিজ্ঞেস করল, “কী হয়েছে?”
অধ্যাপক বললেন, “কিছু না।” শুনে বউ চলে গেল। 
এর পর অধ্যাপক সোফায় শুয়ে পড়লেন, কিছুক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম নিলেন আর তার পর কাজে চলে গেলেন।
কাজের জায়গায় তার জন্য একটা চমক অপেক্ষা করছিল: তারা তার বেতন কমিয়ে দিয়েছে। ৬৫০ রুবলের বদলে তিনি পাবেন ৫০০ রুবল। অধ্যাপক প্রতিবাদ করলেন, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। তিনি পরিচালকের কাছে গেলেন। পরিচালক তাকে ঘাড় ধরে বের করে দিল। তিনি হিসাবরক্ষকের কাছে গেলেন। হিসাবরক্ষক বলল, “পরিচালকের কাছে যান।” অধ্যাপক ট্রেনে চেপে মস্কো চলে গেলেন।
পথে অধ্যাপক ফ্লুতে আক্রান্ত হলেন। মস্কোতে পৌঁছলেন ঠিকই কিন্তু ট্রেন থেকে প্ল্যাটফর্মে নামতে সক্ষম হলেন না।
তারা অধ্যাপককে স্ট্রেচারে করে বয়ে নিয়ে গেল হাসপাতালে।
অধ্যাপক হাসপাতালে প্রায় চার দিন পড়ে রইলেন এবং অক্কা পেলেন।
অধ্যাপকের মৃতদেহ দাহ করার জায়গায় নিয়ে দাহ করা হলো। এরপর তাঁর ভস্ম একটা পাত্রে ভরে তার বউকে পাঠিয়ে দেওয়া হলো।
ওদিকে অধ্যাপকের বউ বসে বসে কফি পান করছিলেন। এমন সময় দরকার ঘণ্টা বেজে উঠল। কী চাই জিজ্ঞেস করলে জবাব এলো: “আপনার জন্য একটি প্যাকেজ আছে।”
শুনে বউ উত্তেজিত হয়ে উঠল, খুশিতে দাঁত বের করে হাসল। ডাকপিয়নের হাতে আধ-রুবল গুঁজে দিয়ে তাড়াতাড়ি প্যাকেজ খুলতে গেল।
প্যাকেজ খুলে ভেতরে তাকাতে দেখল একটা জারভর্তি ছাই, সাথে একটা চিরকুট: “আপনার স্বামীর যা অবশিষ্ট আছে তা হলো এই।” 
বউ কিছু বুঝতে পারল না। জারটি ঝাঁকিয়ে দেখল, আলোর বিপরীতে উঁচু করে ধরে দেখল। ছয়বার চিরকুট পড়ল। অবশেষে বুঝল কী হয়েছে এবং চরমভাবে ভেঙে পড়ল।
দারুণভাবে ভেঙে পড়ে অধ্যাপকের বউ প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে কাঁদল, তারপর দেহভস্ম ভরা জারটা কবর দিতে বের হলো। একটা খবরের কাগজ দিয়ে জারটা মুড়িয়ে নিয়ে গেল বর্তমান প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা পার্কে; যা অতীতে টাভরিচেস্কি উদ্যান নামে পরিচিত ছিল। সবচেয়ে নির্জন পথটা বেছে নিয়ে গিয়ে যখনই সে জার মাটিতে পুঁতবে, তখনই সেখানে হাজির হলো এক পাহারাদার।
“এই যে!” চেঁচিয়ে বলে পাহারাদার। “ওখানে কী করছেন বলুন তো?”
অধ্যাপকের বউ ঘাবড়ে গেল। বলল, “কতগুলো ব্যাঙ ধরে জারে ভরতে চাইছিলাম।”
“ঠিক আছে,” পাহারাদার বলে, “অসুবিধা নাই, কিন্তু দেখেশুনে চলুন –ঘাসের ‘পরে হাঁটা কিন্তু নিষেধ। 
পাহারাদার চলে যেতেই অধ্যাপকের বউ জারটা মাটিচাপা দিল, আলগা মাটি পা দিয়ে সমান করল আর তারপর পার্কে হাঁটাহাঁটি করতে লাগল।
পার্কে কিছু নাবিক তার সাথে ভাব জমাতে চাইল। আরে এসো এসো, চল যাই, শোবে চল– এইসব। জবাবে সে বলল, “দিনের বেলা শোবো কেন রে?” ওদিকে নাবিক তবু শোবার কথা বলে যেতে লাগল বারবার। 
বারবার শোয়ার কথা শুনে অধ্যাপকের বউয়ের একরকম ঘুম পেয়ে গেল।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে ঘুম পেল খুব। চারপাশে নানারকম মানুষ ছুটে চলেছে, নীল, সবুজ নানারকমের; অথচ তার তখনও ঘুম পাচ্ছে। 
সে তখন হাঁটছে ঘুমের ঘোরে। ঘুমোতে ঘুমোতে স্বপ্ন দেখল, লিও টলস্টয় তার দিকে এগিয়ে আসছে, হাতে একটা চিলমচি। সে জিজ্ঞেস করল– “ওটা কী বস্তু?” টলস্টয় চিলমচি দেখিয়ে বললেন:
“এখানে,” যোগ করলেন, “আমি এটার মধ্যে কিছু করেছি, এখন সেটা নিয়ে সারা দুনিয়াকে দেখাতে চলেছি।”
অধ্যাপকের বউ সেটার ভিতরটা দেখার চেষ্টা করতে লাগল, কিন্তু দেখল মানুষটা আর টলস্টয় নয়, বরং একটা ছাউনি হয়ে গেছে আর সেই ছাউনির নিচে বসে আছে একটা মুরগি।
অধ্যাপকের বউ মুরগির পেছনে ধাওয়া করতে গেল, কিন্তু মুরগিটা একটা সোফার নিচে ঢুকে গেল আর আড়াল থেকে যখন উঁকি দিল দেখা গেল সেটা আসলে একটা খরগোশ।
অধ্যাপকের বউ হামাগুড়ি দিয়ে খরগোশের পিছু পিছু সোফার নিচে ঢুকল আর তার ঘুম ভেঙে গেল। 
ঘুম ভাঙতে সে চারদিকে নজর বুলিয়ে দেখল: সে আসলেই একটা সোফার নিচে শুয়ে আছে। 
হামাগুড়ি দিয়ে সে বেরিয়ে এলো আর দেখল আসলে নিজের ঘরেই আছে। একটা টেবিলে মগে শেষ না করা কফি। টেবিলের ওপরে চিরকুট: “আপনার স্বামীর যা অবশিষ্ট আছে তা হলো এই।”
আরেকবার অধ্যাপকের বউ ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল আর বাকি ঠান্ডা কফিটুকু পান করার জন্য বসল।
হঠাৎ দরজায় ঘণ্টা বেজে উঠল। আবার কী? কতগুলো লোক ঢুকে পড়ে বল, “চল ঘুরে আসি।”
“কোথায়?” অধ্যাপকের বউ জিজ্ঞেস করে। 
“পাগলাগারদে,” লোকগুলো জবাব দ্যায়।
অধ্যাপকের বউ লাথি ছুড়ে, চিৎকার করে, মেঝেতে জুতোর হিল ঠেকিয়ে নানাভাবে বাধা দিল কিন্তু লোকগুলো তাকে জাপটে ধরে গাড়িতে করে পাগলাগারদে নিয়ে গেল। 
আর তাই এখানে দেখা যাচ্ছে পাগলাগারদের একটা খাটিয়ায় একেবারে স্বাভাবিক একজন স্ত্রীলোক বসে আছে, হাতে মাছ ধরার ছিপ। মেঝে থেকে যেন অদৃশ্য মাছ ধরছে।
দুনিয়ায় কত রকম হতভাগা মানুষ থাকে; যাদের জীবনে যেখানে থাকার কথা থাকে না, সেখানেই তাদের ঠিকানা হয়। এর স্রেফ একটা করুণ উদাহরণ হচ্ছে এই অধ্যাপকের বউ।

বাপ-বেটি
মূল: ফাদার অ্যান্ড ডটার
রচনাকাল: সেপ্টেম্বর ১, ১৯৩৬

নাতাশার হাতে দুইটা লেবেঞ্চুস ছিল। একটা সে খেয়ে ফেলল আর একটা রয়ে গেল। সামনের টেবিলে রয়ে যাওয়া লেবেঞ্চুসটা রেখে সে কাঁদতে লাগল। চোখ তুলে তাকাতে দেখল হঠাৎ সামনে দুটো লেবেঞ্চুসই হাজির। নাতাশা সেখান থেকে আবার একটা খেয়ে ফেলল আর কাঁদতে শুরু করল। নাতাশা কাঁদতেই থাকল, কিন্তু পুরোটা সময় আড়চোখে টেবিলের দিকে তাকিয়ে থাকল দেখতে যে আদৌ দ্বিতীয় লেবেঞ্চুসটা হাজির হয় কিনা। কিন্তু তা হলো না। নাতাশা কান্না থামিয়ে গান গাইতে শুরু করল, গাইতেই থাকল, গাইতেই থাকল আর হঠাৎ অক্কা পেল। নাতাশার বাবা ঘরে ঢুকল, নাতাশাকে তুলে বহন করে ভবনের তত্ত্বাবধায়কের কাছে নিয়ে গেল, “এই যে,” নাতাশার বাবা বলল, “মৃত্যুসনদ দিন তো।” তত্ত্বাবধায়ক স্ট্যাম্পের ওপরে মুখের ভাপ দিয়ে নাতাশার কপালে সিল মারার জন্য চেপে ধরল। “ধন্যবাদ,” বলে নাতাশার বাবা নাতাশাকে বহন করে নিয়ে যেতে লাগল কবরস্থানে। পাহারাদার মাতভেই যথারীতি ছিল কবরস্থানে। ফটকের কাছে বসে থাকত সে আর কাউকে ঢুকতে দিত না। আর তাই মৃতদের কবর দিতে হতো রাস্তার ওপর। অতএব বাবা নাতাশাকে রাস্তায় কবর দিল। তারপর মাথার হ্যাটটা খুলে নাতাশার জন্য যেখানে মাটি খুঁড়েছে সেখানে রাখল, আর বাড়ি ফিরে এলো। বাড়ি ফিরে দেখল নাতাশা দিব্যি সেখানেই বসে আছে। কীভাবে সম্ভব? সহজ: সে মাটির নিচে থেকে হামাগুড়ি দিয়ে বেরিয়ে এসে এক দৌড়ে বাড়ি ফিরেছে। কতটুকুই-বা জানি আমরা! বাবা এতটাই হতবুদ্ধি হয়ে পড়ল যে পড়ে গেল আর অক্কা পেল। নাতাশা তত্ত্বাবধায়ককে ডেকে এনে বলল, “মৃত্যুসনদ দিন তো।” তত্ত্বাবধায়ক স্ট্যাম্পের ওপরে মুখের ভাপ দিয়ে একটা ছোট কাগজের টুকরোর ওপরে চেপে ধরল। তারপর সেই কাগজে লিখল, “এতদ্দ্বারা জানানো যাইতেছে যে অমুক আসলেই মৃত্যুবরণ করেছে।” নাতাশা কাগজের টুকরোটা নিয়ে কবরস্থানে নিয়ে গেল দাফন করবে বলে। কিন্তু পাহারাদার মাতভেই বাদ সেধে নাতাশাকে বলল, “কোনোভাবেই ঢুকতে দিতে পারব না।” নাতাশা বলল, “আমি শুধু এক টুকরো কাগজ কবর দিতে এসেছি।” কিন্তু পাহারাদার অটল, “অহেতুক শক্তি খরচ করে লাভ নেই।” আর তাই নাতাশা কাগজের টুকরোটা রাস্তায় মাটিচাপা দিল, সেইসাথে তার মোজা জোড়াও একই জায়গায় পুঁতে বাড়ি ফিরল। বাড়ি ফিরে দেখল তার বাবা এরই মধ্যে দিব্যি একা একা ছোট পুল টেবিলে ধাতব বল দিয়ে বিলিয়ার্ড খেলছে।
নাতাশা অবাক হলো, কিন্তু কিছুই না বলে নিজের ঘরে চলে গেল বড় হবে বলে।
বড় সে হতেই থাকল। মোটে চার বছরে বেশ পরিপক্ব তরুণী হয়ে উঠল, নাতাশার বাবা ওদিকে বুড়ো হয়ে বয়সের ভারে কুঁজো হয়ে উঠল। কিন্তু যখনই তাদের মনে পড়ত কীভাবে তারা একে অন্যকে মৃত ধরে নিয়েছিল, তারা হাসতে হাসতে সোফায় গড়াগড়ি খেত। কখনও কখনও তারা টানা কুড়ি মিনিট ধরে হাসত।
পড়শিরা তাদের হাসি শুনে জামাকাপড় পরে তৈরি হয়ে সিনেমা দেখতে চলে যেত। একবার তারা বেরিয়ে গেল কিন্তু আর ফিরে এলো না। আমার মনে তারা সবাই গাড়িচাপা পড়েছিল।

তোরঙ্গ
মূল: দ্য ট্রাঙ্ক

লম্বা চিকন গলার এক লোক হামাগুড়ি দিয়ে একটা ট্রাঙ্কের মধ্যে ঢুকে এর ঢাকনা বন্ধ করে দিল আর এতে তার দম আটকে এলো। 
“এখন,” দম আটকে আসা লম্বা চিকন গলার লোক বলল, “ট্রাঙ্কের মধ্যে আমার নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। কারণ, আমার গলা লম্বা আর সরু। ট্রাঙ্কের ঢাকনা বন্ধ, তাই ভেতরে কোনো বাতাস ঢুকছে না। এভাবে ক্রমে আমার শ্বাসরোধ হ’তে থাকবে কিন্তু আমি ট্রাঙ্ক খুলব না। আস্তে আস্তে আমি মারা যেতে শুরু করব। জীবন আর মৃত্যুর লড়াই দেখতে পাব। লড়াইটা হবে প্রকৃতির নিয়মের বিপরীতে, সমানে সমান, কেননা প্রাকৃতিকভাবেই মৃত্যু জয়ী বলে। এখানে জীবন-মরণের সাথে নিশ্চিত নিয়তি জেনেও অহেতুক শত্রুর সাথে লড়ে যাবে, একেবারে শেষ মুহূর্ত অবধি ব্যর্থ আশা ত্যাগ না করে। যে লড়াই এখন চলবে সেখানে জীবন জানবে তার কৌশল অর্থাৎ জীবন আমাকে বাধ্য করবে ট্রাঙ্কের ঢাকনা খোলার জন্য। দেখা যাক কে জয়ী হয়। সমস্যা একটাই বাক্সে ভীষণ মথবলের (গন্ধগুটি) গন্ধ। জীবন যদি এই যুদ্ধে জিতে যায় তবে এরপর থেকে কাপড়ে তামাক ছড়াব এর বদলে … এই তো শুরু হলো: আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। আমি যে শেষ হ’তে চলেছি সন্দেহ নেই। আর কোনো মুক্তি নেই আমার। মাথায় আর আসছে না কোন উচ্চমার্গের চিন্তাভাবনা, দম বন্ধ হয়ে গেছে!.

..”
“আরেহ! এ কী? কিছু একটা হলো, আমি জানি না ঠিক কী হলো। কিছু একটা দেখলাম কিংবা শুনলাম মনে হলো।”
“আরেহ! আবার কিছু হলো। হে খোদা! নিঃশ্বাস নেওয়ার আর কোনো বাতাস নাই, মনে হচ্ছে মরে যাচ্ছি।
“কিন্তু এসব হওয়ার কি কথা ছিল? আমি গান গাইছি কেন? গলায় ব্যথা পাচ্ছি … কিন্তু ট্রাঙ্ক কোথায়? কেন চারপাশে ঘরের সবকিছু দেখতে পাচ্ছি? এটা কি হ’তে পারে আমি ঘরের মেঝেতে শুয়ে আছি? কিন্তু ট্রাঙ্কটা গেল কোথায়?
লম্বা চিকন গলার লোকটা মেঝে থেকে উঠে চারপাশে নজর বুলাল। ট্রাঙ্কটা নেই আশেপাশে। চেয়ার আর বিছানার ওপর ট্রাঙ্ক খালি করার সময় যা যা বের করা হয়েছিল সেগুলো ছড়িয়ে আছে। কিন্তু ট্রাঙ্কটা কোথাও নেই।
লম্বা চিকন গলার লোকটা বলল:
“এর মানে হলো জীবন মৃত্যুকে কী উপায়ে পরাজিত করে তা আমার জানা নাই।”

একটি স্বপ্ন
মূল: এ ড্রিম

কালুগিন ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুমিয়ে সে স্বপ্নে দেখল: সে কিছু ঝোপঝাড়ের মধ্যে বসে আছে এবং এক পুলিশ ঝোপঝাড়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।
কালুগিন জেগে উঠল, তারপর গাল চুলকে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। এবার স্বপ্ন দেখল: সে ঝোপঝাড়ের পাশ দিয়ে হাঁটছে আর এক পুলিশ সেই ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে বসে আছে।
কালুগিন আবার জেগে উঠল। তারপর মাথার নিচে একটা খবরের কাগজ বিছিয়ে দিল যেন তার মুখের গড়িয়ে পড়া লালায় বালিশ ডুবে না যায়। এবং আবার ঘুমিয়ে পড়ল। এবারও স্বপ্ন দেখল: সে কিছু ঝোপঝাড়ের মধ্যে বসে আছে আর এক পুলিশ সেই ঝোপঝাড়ের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।
কালুগিন আবার জেগে উঠল, খবরের কাগজটা বদলাল, শুয়ে পড়ল এবং আবার ঘুমিয়ে গেল। এবার সে স্বপ্নে দেখল: সে ঝোপঝাড়ের পাশ দিয়ে হাঁটছে আর এক পুলিশ সেই ঝোপঝাড়ের মধ্যে বসে আছে।
এই পর্যায়ে, কালুগিন জেগে উঠল আর সিদ্ধান্ত নিল আর ঘুমাবে না। কিন্তু সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়ল এবং আবার স্বপ্ন দেখল: সে এক পুলিশের পেছনে বসে আছে আর কিছু ঝোপঝাড় তাদের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।
কালুগিন চিৎকার দিয়ে উঠল এবং বিছানায় ছটফট করল কিন্তু জেগে উঠতে পারল না।
কালুগিন টানা চার দিন চার রাত ঘুমিয়ে কাটাল। পঞ্চম দিনে জেগে উঠল। এ ক’দিনে এতটাই শীর্ণ হয়ে উঠেছে সে যে তার জুতো পায়ে ধরে রাখতে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতে হলো। যে দোকান থেকে সে প্রতিদিন গমের রুটি কিনত, সেখানেও কেউ তাকে চিনতে পারল না। এবং তাকে আধা-রাইয়ের রুটি ধরিয়ে দিল। বাসায় বাসায় পরিদর্শন করে বেড়ানো স্বাস্থ্য কমিশন কালুগিনকে দেখে সিদ্ধান্ত নিল যে সে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে না। তারা বাসার তত্ত্বাবধায়কদের নির্দেশ দিল কালুগিনকে আবর্জনার সাথে ফেলে দিতে।
কালুগিনকে ভাঁজ করে অর্ধেক করা হলো আর আবর্জনার মতোই ফেলে দেওয়া হলো।

লেখক পরিচিতি
দানিল খার্মস (১৯০৫-১৯৪২) ছিলেন অ্যাবসার্ড ধারার লেখক, কবি এবং নাট্যকার। তিনি নিরীক্ষামূলক এবং অ্যাবসার্ড ধারার সাহিত্যকর্মের জন্য বিখ্যাত। স্তালিন শাসনামলে তাঁর কাজকে সমাজবিরোধী মনে করা হয় এবং তিনি সরকারের রোষানলে পড়েন। মৃত্যুর পর ১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে তাঁর কাব্যিক, ব্যঙ্গাত্মক, অ্যাবসার্ড, শক্তিশালী সৃষ্টিগুলো সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রকাশ পেতে শুরু করে।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: জ জ ঞ স কর এক প ল শ র জন য ই থ কল কবর দ র ওপর ত রপর

এছাড়াও পড়ুন:

রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে শিশুসহ ১৪ জন নিহত

ইউক্রেনের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রিভি রিহের একটি আবাসিক এলাকায় রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬ শিশুসহ অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত এটিই রাশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতি হামলা। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

গতকাল শুক্রবার এ হামলা চালায় রাশিয়া। ক্রিভি রিহ শহর জেলেনস্কির জন্মস্থান। রাশিয়া–ইউক্রেন সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটলো।

নিপ্রোপেত্রভক্সের গর্ভনর সেরহি লিসাক বার্তা আদানপ্রদানের অ্যাপ টেলিগ্রামে লিখেছেন, গতকালের হামলায় সেখানকার আবাসিক এলাকার কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে অগ্নিকান্ডের ঘটনাও ঘটেছে।

টেলিগ্রামে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, ফুটপাতে মৃতদেহ ও আহতদের দেহ পড়ে আছে। সেখানে একটি খেলার মাঠের ভিডিও রয়েছে। ভিডিওতে আকাশে ধূসর ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। তবে এসব ভিডিও যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নিপ্রোপেত্রভক্সের গর্ভনর আরও বলেন, জরুরি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে হামলায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। আহতদের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে ৩০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ মাসের শিশুও রয়েছে।

স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ বাহিনী। এই ধরনের অস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে মাত্র কয়েক মিনিট সময় নেয়। অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া এগুলো ধ্বংস করা কঠিন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ