বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্র্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে করণীয় কী হতে পারে, সে বিষয়ে জরুরি পর্যালোচনা সভায় বসছে সরকার।

অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে আগামী রবিবার (৬ এপ্রিল) এই সভা হতে যাচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র তথ্য দিয়েছে।

ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের অনেক দেশের পণ্য আমদানির ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বাংলাদেশি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। আজ (৪ এপ্রিল) থেকে এটি কার্যকর হচ্ছে।

আরো পড়ুন:

ট্রাম্পের শুল্কে উদ্বেগে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা, যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

৯ দিনের ছুটি
ভোমরা স্থলবন্দরে ১৪ কোটি টাকার রাজস্ব হারাবে সরকার

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্টের শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও প্রতিষ্ঠানের মতো বাংলাদেশেও তার তাৎক্ষণিক ও ভবিষ্যৎ অভিঘাত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক শীর্ষ গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ঘোষণায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছে, যা নিয় কথা বলেছেন ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞরা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে যে শুল্ক আরোপ করেছে তা পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার । তবে ঈদের ছুটি থাকায় বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) আনুষ্ঠানিক সভা করা সম্ভব হয়নি। ঈদের ছুটি শেষে রবিবার থেকে অফিস শুরু হবে এবং ওই দিনই শুল্ক নিয়ে জরুরি সভা হবে।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করবেন। সভায় বাণিজ্য উপদেষ্টা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান, অর্থ সচিব, বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। 

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র যে শুল্ক আরোপ করেছে, তা উদ্বেগের বিষয়। এ কারণে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। ঈদের ছুটি শেষে রবিবার অফিস খুলবে, ওই দিনই এই জরুরি সভা হবে।

তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন দেশ থেকে সমালোচনা হচ্ছে। নতুন শুল্ক আরোপের ফলে বাংলাদেশ কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়তে পারে, তা নিয়ে সভায় পর্যালোচনা করা হবে।

এতদিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক ছিল। তার ওপর অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এখন শুল্কের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ৫১ শতাংশের কিছু কম-বেশি। এই অবস্থায় বৈদেশি মুদ্রা আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প কী নীতিতে চলবে, সরকার কী ধরনের সহায়তা দেবে, সেসব বিষয়ে জরুরি সভায় আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই শুল্কের কারণে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা করছেন রপ্তানিকারকরা। কারণ, বাংলাদেশের মোট পণ্য রপ্তানির ১৮ শতাংশের গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র।

তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাংলাদেশের পক্ষে। আমদানির তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি অনেক বেশি। অবশ্য বাংলাদেশের রপ্তানি তৈরি পোশাকের ওপরই নির্ভরশীল, যার মধ্যে বেশিরভাগ মৌলিক আইটেম।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে যেসব পণ্য রপ্তানি করে, তার মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো- লোহা, ইস্পাত, খনিজ জ্বালানি, তুলা, তেলবীজ ও নিউক্লিয়ার রেক্টর।

ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক পরিচালক মো.

মহিউদ্দিন রুবেল বৃহস্পতিবার রাইজিংবিডি ডটকমকে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ বা বৃদ্ধি করেছে। প্রত্যেক দেশের ওপরই তার প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্রয় ক্ষমতা কমবে, মূল্যস্ফীতি বাড়বে, যা দেশটির জন্য ভালো কিছু হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ-বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে সারা বিশ্ব ধুম্রজালের মধ্যে পড়েছে। এটা নিয়ে ব্যবসায়ীরা উদ্বিগ্ন।”

“বাংলাদেশ সরকার এটা নিয়ে কাজ করলে শুল্ক কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা করে ন্যূনতম পর্যায়ে আনতে হবে; যাতে আমাদের প্রতিযোগী দেশগুলোর চেয়ে যেন শুল্ক না বাড়ে। তাহলে আমরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারব। তাছাড়া আমরা অনেকটা পিছিয়ে পড়ব,” বলেন মহিউদ্দিন রুবেল।

মুক্তবাজার অর্থনীতির এই সময়ে এসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কযুদ্ধ কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা নিয়ে রাইজিংবিডি ডটকম কথা বলে বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানের সঙ্গে।  

শামীম এহসান বলেন, “শুল্কযুদ্ধ কোনোভাবে আধুনিক বিশ্বে কাম্য নয়। এই শুল্ক আমেরিকার অর্থনীতিতে খুব বেশি সাফল্য বয়ে আনবে না। আমাদের রপ্তানি করা পণ্যে প্রফিট মার্জিন অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, এই পণ্যগুলো মেইড ইন ইউএসএ (যুক্তরাষ্ট্র) হবে। তা সম্ভব নয়। কারণ এই শিল্পগুলো শ্রমঘন ইন্ডাস্ট্রি। আমি মনে করি, শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে কতটুকু স্থির থাকবে ইউএসএ প্রশাসন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।”

ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের কারণে শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠার ওপর জোর দিয়ে বিকেএমইএ-এর নির্বাহী সভাপতি বলছেন, “শুরুতে আমাদের উপর একটা ঝড় আসবে। কারণ বায়াররা সব সময় সুযোগ-সন্ধানী। বায়ররা আমাদের পণ্যের দাম কমানোর চেষ্টা করবে। এটা যদি আমরা কাটিয়ে উঠতে পারি; সরকারের নীতিগত সাপোর্ট নিয়ে যদি টিকে থাকতে পারি, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি সুফল আমরা পাব।”

“এই শুল্কারোপ শুধু আমাদের ক্ষতি করবে না, আমেরিকান নাগরিকদের ওপরও এর প্রভাব পড়বে। তাই আমাদের শঙ্কিত হওয়ার কারণ থাকলেও ভীত হওয়ার কারণ নেই,” বলেন শামীম এহসান।

বিশ্ব ব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কনীতি বাংলাদেশের রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এই প্রভাব পড়বে আমেরিকার অর্থনীতিতে চাহিদা কমার কারণে।

বাংলাদেশের ওপর প্রভাবের পাশাপাশি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে বলে মন্তব্য করে জাহিদ হোসেন বলছেন, ধারণা করা হচ্ছে এই ট্যারিফ (শুল্ক) আরোপ করায় আমেরিকার অর্থনীতিতে মন্দা আসবে। সবকিছুর দাম বাড়বে। এতে ভোক্তাদের ক্রয় ক্ষমতা কমতে পারে। ফলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসে আলোচনা করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক কমানোর যুক্তি তুলে ধরতে হবে। সরকার এরই মধ্যে যে সংস্কারগুলো করেছে, সেগুলো আলোচনায় তুলে ধরা জরুরি। 

বিজিএমইএর সাবেক সহ-সভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, সাধারণত শুল্কের বাড়তি ব্যয় ক্রেতার ওপরেই যায়। নতুন শুল্ক আরোপের কারণে পণ্যের দাম বাড়বে, তখন ক্রেতারা ব্যয় কমানোর জন্য বিকল্প উৎস খুঁজবে। 

“আমাদের চেয়ে যাদের শুল্ক কম তারা তখন সুফল পাবে। তাই যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে শুল্কনীতি পুনর্বিবেচনা এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাছাড়া দেশের পোশাক খাত সংকটে পড়বে,” মনে করেন রকিবুর আলম চৌধুরী।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারত, চীন থেকে শুরু করে বিভিন্ন দেশে শুল্কারোপের হার ঘোষণা করেন। এতে নড়ে যায় বিশ্ব অর্থনীতির ভিত। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে ‘শতবর্ষে বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন’ বলে মনে করছেন বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম।

তিনি বলছেন, “আমদানি পণ্যে ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক রাজস্ব লাফিয়ে এমন জায়গায় পৌঁছাতে পারে, যা গত এক শতকে দেখা যায়নি; ছাড়িয়ে যেতে পারে ১৯৩০-এর দশকের কঠোর সুরক্ষামূলক বাণিজ্যনীতি যুগেকেও। কিংবা রাতারাতি শেয়ার বাজারের পতন দেখা যেতে পারে, বিশেষ করে এশিয়া।”

বিবিসির অর্থনীতি সম্পাদক মনে করেন, এসব কারণে যা যা ঘটবে, তা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বৈশ্বিক বাণিজ্যের অলিগলিতে বড় রদবদল নিয়ে আসবে।

ফয়সাল ইসলামের সাদামাটা চোখে ধরা পড়ছে, ট্রাম্প আদতে যুক্তরাষ্ট্রের সব আমদানি পণ্যে সার্বজনীন ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা এই শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত থেকে কার্যকর হচ্ছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্ধৃত রয়েছে এমন কয়েক ডজন ‘বাজে অপরাধী’ দেশের ওপর পাল্টা আরও কিছু শুল্ক যুক্ত হয়েছে।

“বিশেষ করে এশীয় দেশগুলোর ওপর যে শুল্ক দেওয়া হয়েছে, তা চোখ ধাঁধা দেখার মতো বিষয়। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ হাজার হাজার কোম্পানি, কারখানা এবং হয়তো অনেক দেশেরই ব্যবসায়িক মডেল পুরোপুরি গুঁড়িয়ে যাবে,” বলেন তিনি।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই ঘোষণা নিয়ে বিবিসি, সিএনএন, নিউইয়র্ক টাইমসসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। এরই মধ্যে পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণাও আসা শুরু হয়েছে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রে আর কোনো বিনিয়োগ না করার আহ্বান রেখেছেন।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ইইউ বলছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে তারা।

অস্ট্রেলিয়া বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বন্ধুসুলভ নয়। এর মোকাবিলায় যা যা করা দরকার, তারা তা করবে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, নিঃসন্দেহে এই ঘটনার অর্থনৈতিক প্রভাব অনুভূত হবে।

চীন বলেছে, তারা এই ঘটনার প্রতিশোধ নেবে। অর্থাৎ ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের জবাবে তারাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট, ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করে দিলেন।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থ উপদেষ্টা সাহেলউদ্দিনের সভাপতিত্বে রবিবার জরুরি বৈঠক হবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে।

ঢাকা/হাসনাত/রাসেল

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ট র ম প র এই শ ল ক আর প র দ শ র ওপর ব যবস য় পদক ষ প এই শ ল রব ব র আম দ র আম র ক আমদ ন সরক র বলছ ন

এছাড়াও পড়ুন:

সিলেটের আল-হারামাইনে কেন এসেছিলেন নাহিদ ইসলাম

সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সিলেট আগমন নিয়ে তোলপার চলছে। আকষ্মিক আলোচিত ব্যবসায়ী মাহতাবুর রহমান নাসিরের সিলেটের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আল হারামাইন হসপিটাল পরিদর্শন করার পর তোলপাড় শুরু হয়। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সস্ত্রীক সিলেটে পৌঁছে নাহিদ ইসলাম নগরীর সোবহানিঘাট এলাকার আল হারামাইন হাসপাতালে যান। বিষয়টি শুক্রবার জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। 

সম্প্রতি ব্যবসায়ী নাসেরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে হুন্ডি ব্যবসাসহ সিলেটে তার বাসা কাজী ক্যাসলে আওয়ামী লীগের নেতাদের আশ্রয় দেওয়া নিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি। এ অবস্থায় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নাহিদ ইসলামের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। 

তবে হাসপাতালের জিএম পারভেজ আহমদ সমকালকে জানান, বৃহস্পতিবার পায়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন নাহিদ। অর্থোপেডিক্স ডাক্তার দেখিয়ে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

এনসিপি সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ২টার দিকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে (বিএস-৫৩৫) স্ত্রীসহ ঢাকা থেকে সিলেট আসেন নাহিদ ইসলাম। পরে বিকেল ৩টার দিকে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট এলাকায় অবস্থিত আল হারামাইন হাসপাতালে যান। সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর সড়কপথে মৌলভীবাজারে উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। 

শুক্রবার রাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি শ্রীমঙ্গলের একটি রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। আজ শনিবার তিনি ঢাকায় ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।  

প্রসঙ্গত, মাহতাবুর রহমান নাসিরের বিরুদ্ধে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে বিদেশে কোটি কোটি পাচারের অভিযোগ উঠে। আতর ব্যবসার আড়ালে হুন্ডির মাধ্যমে এ টাকা পাচার করা হয় বলে দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। এমনকি ৫ আগসেটর পর তার বিলাসবহুল বাড়ি কাজী ক্যাসলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দীর্ঘদিন অবস্থান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। 
পরবর্তীতে এলাকার লোকজন ওই বাড়িতে হামলা চালায়। এ ঘটনার পর বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। দুদক ও এনবিআর তার সম্পদের গোপন রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ