Prothomalo:
2025-04-04@21:27:36 GMT

পোশাকের চাহিদা কমে যেতে পারে

Published: 4th, April 2025 GMT

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা পাল্টা শুল্ক বলবৎ থাকলে তৈরি পোশাকের কিছু ক্রয়াদেশ ভারত ও পাকিস্তানে চলে যাবে। শুল্ক কম থাকায় এ দেশগুলোয় হেভি জার্সি, ডেনিম প্যান্ট, হোম টেক্সটাইলের মতো ক্রয়াদেশ চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্যের দাম বাড়বে। এতে দেশটিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। অন্যান্য দেশেও পাল্টা শুল্কের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়বে। ফলে সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাকের চাহিদা কমে যেতে পারে। সেটি হলে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ কমবে। প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে যাবে।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক পর্যালোচনা করা। আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রচুর পরিমাণে তুলা আমদানি করি। প্রয়োজনে আমরা আন্তর্জাতিক কটন কাউন্সিলকে সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দর–কষাকষি করতে পারি। আমরা তাদের বলতে পারি, তোমাদের তুলা আমরা ব্যবহার করব। এর বিপরীতে তোমরা শুল্ক কমাও। প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে গুদাম স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। যাতে তারা দ্রুত বাংলাদেশের কারখানাগুলোকে তুলা সরবরাহ করতে পারে।

ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কের কারণে মার্কিন ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন তৈরি পোশাকের দাম কমাতে আমাদের ওপর চাপ দেবে। পোশাকের রপ্তানি মূল্য কমে গেলে সে ক্ষেত্রে এ খাতের শিল্পমালিকদের রপ্তানি প্রণোদনা হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। এতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কোনো বাধা নেই। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া হিসেবে এরই মধ্যে পোশাক রপ্তানিসহ বিভিন্ন খাতে নগদ সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি ধরে রাখতে হলে নগদ সহায়তা বাড়াতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, রপ্তানির সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানও জড়িত। এ কারণে খাতটি যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দ্রুততার সঙ্গে সরকারকে তাদের কর্মকৌশল ঠিক করে এ নিয়ে দর–কষাকষি শুরু করতে হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র। তাই দেশটি পাল্টা শুল্ক আরোপের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।

আনোয়ার–উল–আলম চৌধুরী

সভাপতি, বাংলাদেশ চেম্বার

সাবেক সভাপতি, বিজিএমইএ

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

রাশিয়ার বিরুদ্ধে শান্তি প্রচেষ্টা বানচালের অভিযোগ

ইউক্রেনে দ্রুত শান্তিচুক্তি চাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁর প্রশাসন। রাশিয়া ট্রাম্প প্রশাসনের সব প্রচেষ্টাকে বানচাল করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউরোপের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

গতকাল শুক্রবার বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে সামরিক জোট ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক বৈঠকে ইউরোপের প্রতিনিধিরা ওই মনোভাব ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করতে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আরও কঠিন অবস্থান গ্রহণ করা উচিত ট্রাম্প প্রশাসনের। কারণ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট শান্তিচুক্তির বিষয়ে আন্তরিক নন।

ব্রাসেলসের বৈঠক সম্পর্কে জানেন এমন কয়েকটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, পুতিনের মনোভাব নিয়ে সম্প্রতি সতর্ক হয়ে উঠেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প যদিও এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে বলছেন, তিনি বিশ্বাস করেন, পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান।

মার্চ মাসে মস্কোকে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব দিয়েছিল ওয়াশিংটন। কিয়েভ এতে সম্মতি জানিয়েছিল। শর্ত সাপেক্ষে তাতে সম্মত হবে বলে জানালেও শেষ পর্যন্ত তা প্রত্যাখ্যান করেছিল মস্কো। তবে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের বিষয়ে উভয় পক্ষ একমত হয়েছিল। কিন্তু পরে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে।

এএফপি জানায়, ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের দ্বিতীয় দিনের বৈঠকের আগে গতকাল ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন নোয়েল ব্যারোট বলেন, মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জবাব দিতে বাধ্য। তারা মধ্যস্থতা ও যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, পুতিন বিভ্রান্তি অব্যাহত রেখেছেন। ল্যাং মারাও চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি চাইলে এখনই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পারেন। কিন্তু তিনি ইউক্রেন, দেশটির সাধারণ মানুষ এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বোমা হামলা অব্যাহত রেখেছেন। আমরা আপনাকে দেখছি ভ্লাদিমির পুতিন। আপনি যা করছেন, আমরা তা জানি।’

পুতিনের শান্তিচুক্তির আলোচনা ‘অন্তঃসারশূন্য প্রতিশ্রুতি ছাড়া কিছু নয়’ উল্লেখ করে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেন, ‘নতুন নতুন দাবি উত্থাপন করে তিনি সময়ক্ষেপণ করছেন।’ কানাডা ও এস্তোনিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রস্তাব গ্রহণের সময়সীমা ঘোষণার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির জন্য মস্কো ও কিয়েভ উভয়ের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। ন্যাটোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেনের পক্ষে, যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে এবং যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রতি এখনও সমর্থন রয়েছে। 

সম্পর্কিত নিবন্ধ