দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা
Published: 4th, April 2025 GMT
যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব।’
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে ভাষণদানকালে প্রধান উপদেষ্টা একথা বলেন।
বাংলাদেশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “১৯৭১ সালে লাখ লাখ সাধারণ নারী-পুরুষ, শিশু ও যুবক একটি নৃশংস সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নয় মাসব্যাপী গণহত্যায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল।”
“আমাদের জনগণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে প্রতিটি সাধারণ মানুষ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।”
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, গত পনেরো বছরে আমাদের জনগণ বিশেষ করে যুবসমাজ, ক্রমাগত তাদের অধিকার ও স্বাধীনতা সংকুচিত হতে দেখেছে। তারা রাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অবক্ষয় ও নাগরিক অধিকারের অবমাননা প্রত্যক্ষ করেছে।”
সাধারণ জনগণ একটি নৃশংস স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষ, যাদের বেশিরভাগই তরুণ এবং ১১৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
“বাংলাদেশের জনগণ তার ইতিহাসে এক নবজাগরণ প্রত্যক্ষ করেছে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “যেসব ছাত্রনেতা এই গণজাগরণে নেতৃত্ব দিয়ে শেখ হাসিনার দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী শাসন থেকে দেশকে মুক্ত করেছে, তারা তাকে অনুরোধ করেছিল এই সংকটময় মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে।”
তিনি বলেন, “আমি আমাদের জনগণের স্বার্থে এই দায়িত্ব গ্রহণে সম্মত হয়েছি।”
সরকারপ্রধান বলেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে তারা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই প্রবৃদ্ধি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বলিষ্ঠ ও সুদূরপ্রসারী সংস্কার গ্রহণ করবে।”
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়গুলোই আমাদের পরিকল্পিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য।”
“সরকার ইতিমধ্যে বিচার ব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও সংবিধান সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছে, যাতে জনগণের মালিকানা, জবাবদিহিতা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।”
প্রধান উপদেষ্টা জানান, এই কমিশনগুলো ইতিমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে, যা বর্তমানে সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা ৭ সদস্যবিশিষ্ট একটি ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’ গঠন করেছি। আমি নিজেই যার নেতৃত্ব দিচ্ছি এবং এতে ছয়টি কমিশনের প্রধানরা রয়েছেন। এই কমিশনগুলো যে সুপারিশগুলো জমা দিয়েছে, তা পর্যালোচনা এবং গ্রহণ করার জন্য এ কমিশন গঠন করা হয়েছে।”
সরকার প্রধান আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি আরো চারটি কমিশন গঠন করেছে, গণমাধ্যম, স্বাস্থ্য, শ্রম এবং নারী অধিকার সংক্রান্ত নীতিগত সুপারিশ দেওয়ার লক্ষ্যে।
তিনি বলেন, “আমরা যখন বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করছি, তখন আমরা দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করতে অবিচলভাবে কাজ চালিয়ে যাব, তারা নারী হোক কিংবা জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু হোক।”
অনুষ্ঠানে থাই প্রধানমন্ত্রী এবং সম্মেলনের চেয়ারপারসন পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা, বিমসটেক মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মনি পান্ডে এবং বিমসটেক সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যসূত্র: বাসস
ঢাকা/ইভা
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
কোন কোন উপদেষ্টাকে সরাতে বলেছেন মির্জা ফখরুল
শুরু থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির টক্কর লেগে আছে। আবার সরকারও যে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানে সন্তুষ্ট নয়, সে কথা হাবেভাবে উপদেষ্টারা জানিয়ে দিচ্ছেন। বিএনপি যখনই দ্রুত নির্বাচনের দাবি সামনে আনে; ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংস্কারের আগে কোনো নির্বাচন নয়।
সংস্কার ও নির্বাচন পরস্পরের প্রতিপক্ষ নয়। তারপরও কেউ কেউ এটাকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করাচ্ছেন। কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে যে বিএনপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের একটা টানপোড়েন চলছে, এটা স্পষ্ট। সংস্কার নিয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠকেও কোনো আশার বাণী শোনা যাচ্ছে না। যে যার অবস্থানে অনড় আছেন।
ছাত্রনেতৃত্ব থেকে গড়ে ওঠা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নতুন বন্দোবস্তের কথা বললেও তাদের কৌশল ও আচরণে পুরোনো রাজনীতির ধারাই বহমান। এনসিপি বলেছে, বিচার ও সংস্কার শেষ হোক, তারপর নির্বাচন। বিএনপির দাবি, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যেটুকু সংস্কার দরকার, সেটুকু করা হোক। এর বেশি তারা মানবে না।
বিএনপির প্রবল চাপ সত্ত্বেও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি। অনেকে বলবেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করার দায়িত্ব কমিশনের। কিন্তু তারা যখন ডিসেম্বের কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা সেই পুরোনো কথাই শোনালেন। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে।
এর আগে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কার চাইলে চলতি বছরের শেষে এবং বেশি সংস্কার চাইলে আগামী বছরের জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে। আবার সরকারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ ডিসেম্বর বা মার্চের কথাও বলেছেন। ডিসেম্বর, মার্চ ও জুনের গোলক ধাঁধা থেকে সরকার কবে বেরিয়ে আসবে?
বিএনপির নেতারা সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও সন্দেহ করেছেন। এর কারণ নতুন করে কেউ কেউ জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন। এনসিপির একজন নেতা পাঁচ বছর মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইলে তাঁকে তো নির্বাচিত হতে হবে।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের নেতারা রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব দেন, তখন বিএনপি রাজি হয়নি। ফলে অন্যান্য দলকেও পিছিয়ে আসতে হয়েছে এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অরাজনৈতিক চরিত্রের একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। সেটাই সঠিক ছিল। কিন্তু এরপরই আন্দোলনকারী ছাত্রপ্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে তিনজনকে উপদেষ্টা করা হলে অরাজনৈতিক সরকারের রাজনৈতিক চরিত্র পায়।
বিএনপির সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের বিরোধের এটাও অন্যতম কারণ। দ্বিতীয়ত যেই ছাত্রনেতৃত্ব জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিল, তারাও কয়েক ভাগে বিভক্ত। কেউ দল করেছেন, কেউ আগের অবস্থানে অনড় আছেন, কেউ সাংস্কৃতিক মঞ্চ করেছেন। এদের বাইরে আরেকটি গ্রুপ এনসিপির বাইরে আরেকটি নতুন দল করার ঘোষণা দিয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে মতভেদ আছে বলেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। একপক্ষ মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে দিয়ে যৌক্তিক সময়ে বিদায় নেওয়াই তাদের কর্তব্য। কিন্তু অপর পক্ষের ধারণা, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে ফের স্বৈরাচারের পুনরাগমন ঘটবে। কেবল একটি নির্বাচন করার জন্য এত বড় গণঅভ্যুত্থান হয়নি। তাদের বক্তব্যে এনসিপির নেতাদের প্রতিধ্বনি আছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতৃত্ব।এ পটভূমিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঈদের আগের দিন রোববার সংবাদ সম্মেলন করে অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন, এমন উপদেষ্টাদের অপসারণ চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উচিত, সেই সব উপদেষ্টার অপসারণ করা, যাঁরা তাঁর সরকারের নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন এবং সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।’
মির্জা ফখরুল কোনো উপদেষ্টার নাম বলেননি। তবে এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, ‘আসন্ন নির্বাচনের আগে সরকার নিরপেক্ষতা হারালে বিএনপি তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। আমরা সরকারের পূর্ণ নিরপেক্ষতা প্রত্যাশা করি, বিশেষ করে অধ্যাপক ইউনূসের কাছ থেকে। যদি তিনি অনুভব করেন যে তাঁর মন্ত্রিসভার( উপদেষ্টা পরিষদের) কেউ নিরপেক্ষতা নষ্ট করছেন, তবে তাঁদের অপসারণ করা উচিত। তাঁকে (ড. ইউনূস) সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকতে হবে। যদি প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তাহলে জনগণের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হবে যে এ সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।’
কথায় বলে বুদ্ধিমানের জন্য ইশারাই যথেষ্ট। বিএনপির মহাসচিব কাদের ইংগিত করেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘সরকারের কিছু উপদেষ্টা একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের স্বার্থে সরকারি সম্পদ অপব্যবহার করে থাকেন, সেটা নিশ্চয়ই সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করে’। রাজনৈতিক সরকারের সময়ে নির্বাচনী বৈতরণী পর হতে দলীয় নেতাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া হতো বা প্রকল্প নেওয়া হতো। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের তো কোনো রাজনৈতিক অভিলাষ থাকার কথা নয়। তারপরও বিশেষ বিবেচনায় কোথাও কোথাও বরাদ্দ হচ্ছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আপত্তি সেখানেই।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে থাকা স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না হলে দেশে অস্থিতিশীলতা এবং ‘জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ’ দেখা দেবে। তাঁর মতে, ডিসেম্বর হচ্ছে সর্বসম্মত সময়সূচি। নির্বাচন এর পরে গেলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেবে।’
রয়টার্স বলছে, শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা পলাতক থাকায় আওয়ামী লীগ কার্যত ভেঙে পড়েছে। এ ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ছাত্রনেতারা বাংলাদেশের প্রাচীন দল দুটির বাইরে এসে নতুন করে পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের কুশল বিনিময়ের সময় আরেক ধাপ এগিয়ে বলেছেন, একটি শক্তি ক্ষমতায় থাকার জন্য নতুন নতুন পন্থা বের করছে; কিন্তু ফ্যাসিস্টরা দাঁড়াতে পারেনি। এই শক্তিও যাতে দাঁড়াতে না পারে, সে জন্য বাংলাদেশের মানুষ প্রস্তুত রয়েছে।
তিন জ্যেষ্ঠ নেতার বক্তব্য থেকে এটাই ধারণা করা যায় যে তারা ডিসেম্বরে নির্বাচনের প্রশ্নে বিএনপি ছাড় দিতে নারাজ। এর আগে দলের একাধিক নেতা গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারে আন্দোলনে যাওয়ারও ইংগিত দিয়েছেন।
নির্বাচন নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে মতভেদ আছে বলেও বিভিন্ন সময়ে সংবাদমাধ্যমে এসেছে। একপক্ষ মনে করে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করে দিয়ে যৌক্তিক সময়ে বিদায় নেওয়াই তাদের কর্তব্য। কিন্তু অপর পক্ষের ধারণা, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হলে ফের স্বৈরাচারের পুনরাগমন ঘটবে। কেবল একটি নির্বাচন করার জন্য এত বড় গণঅভ্যুত্থান হয়নি। তাদের বক্তব্যে এনসিপির নেতাদের প্রতিধ্বনি আছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতৃত্ব।
তাহলে কি আমরা আরেকটি অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছি?
সোহরাব হাসান, কবি ও প্রথম আলোর যুহ্ম সম্পাদক