বাষট্টি চলছে তাঁর। এই বয়সেও তাঁর বদরাগী মেজাজ এতটুকু কমেনি; বরং দিন দিন যেন তা মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। চেলসি, ম্যানইউ, টটেনহাম, রোমা ঘুরে এখন তুরস্কের ক্লাব ফেনেরবাখের কোচ হোসে মরিনহো। বুধবার রাতে টার্কিশ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল গালতাসারে। ইস্তাম্বুল ডার্বিখ্যাত সেই হাইভোল্টেজ ম্যাচ ২-১ হেরে প্রতিপক্ষ দলের কোচের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। 

ঘটনাটি বিশ্রী আকারে রূপ নেয় তখন, যখন ওকান বুরুকের নাকে দুই আঙুল দিয়ে চেপে ধরেন মরিনহো। তা নাটকীয় মোড় নেয় যখন সেই কোচ মুখ সরিয়ে নেওয়ার পর মাটিতে পড়ে যান। পুরো ঘটনায় বিরক্ত তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন। মরিনহোর বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি ‘প্রতিপক্ষ কোচকে আক্রমণ’-এর অভিযোগ এনেছে। তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে ৪৫ থেকে ৯০ দিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বেন মরিনহো। ৫ থেকে ১০ ম্যাচে নিষিদ্ধও হতে পারেন এই পর্তুগিজ কোচ, যার অর্থ ফেনেরবাখের বাকি মৌসুমে আর মাঠে থাকতে পারবেন না তিনি।

ম্যাচের শেষ দিকে দুই দলের তিন খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখেছেন। সব মিলিয়ে তীব্র বিতর্কের এক ডার্বি দেখেছেন তুরস্কের দর্শকরা। গেল বছর ইতালিয়ান ক্লাব রোমা থেকে তুরস্কে আসেন মরিনহো। এসেই ঝামেলায় জড়ান তিনি। গত জানুয়ারিতে এই ডার্বিতে মরিনহোর বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্য করার অভিযোগ এনেছিল গালতাসারে কর্তৃপক্ষ। তাদের খেলোয়াড় আর স্টাফদের নাকি ‘বানরের মতো লাফালাফি করছ’ বলে গালি দেন তিনি। 

যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন মরিনহো, কিন্তু তাঁর মুখে বাজে মন্তব্য নতুন নয়। ২০১১ সালে বার্সার সহকারী কোচ টিটো ভিলানোভার চোখে খোঁচা মেরেছিলেন। ২০১৬ সালে চেলসির কোচ কন্তের সঙ্গে জোরে হ্যান্ডশেক করে তাঁর কানে কানে নাকি অশ্লীল কিছু বলেছিলেন। ২০২১ সালে রোমাতে এসেও ভিএআর নিয়ে রেফারির সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন। 

ডাগআউটের বাইরে কিংবা সাইড লাইনের আশপাশে তাঁর অস্থিরতা নতুন কিছু নয়। বছর কয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে নিজের দুর্ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু নিজেকে শুধরে নিতে পারেননি মরিনহো। বরং তিনি বারবার কেন এমন করেন, কোথা থেকে সাহস পান– তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গালতাসারের সহসভাপতি মেতিন ওজর্তুক।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ত রস ক

এছাড়াও পড়ুন:

সন্‌জীদা খাতুনের ৯৩তম জন্মদিন উদ্‌যাপন

ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সন্‌জীদা খাতুনের ৯২ বছর পূর্ণ হয়েছে ৪ এপ্রিল। এ উপলক্ষে পারিবারিক আয়োজনে উদ্‌যাপিত হয়েছে তাঁর ৯৩তম জন্মদিন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে ছায়ানট মিলনায়তনে সন্‌জীদা খাতুনের জন্মদিনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। তাঁর প্রিয় সুর-বাণী-ছন্দের পরিবেশনা ও স্মৃতিচারণায় অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন।

গত ২৫ মার্চ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সন্‌জীদা খাতুন।

সন্‌জীদা খাতুনের বিপুল কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবন সামগ্রিকভাবে বাঙালির মানস ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে। সন্‌জীদা খাতুনের জন্ম ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল। তাঁর বাবা কাজী মোতাহার হোসেন ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক। মা সাজেদা খাতুন গৃহিণী।

সন্‌জীদা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৫৪ সালে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক, ১৯৫৫ সালে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর এবং ১৯৭৮ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষকতা দিয়েই তাঁর কর্মজীবন শুরু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘকাল অধ্যাপনা করেছেন তিনি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ