Prothomalo:
2025-04-04@14:32:24 GMT

আত্মহত্যা বিষয়ে ইসলাম কী বলে

Published: 4th, April 2025 GMT

আত্মহত্যা মানে স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশ। ইসলামে আত্মহত্যা মানে আল্লাহর ইচ্ছার বিরুদ্ধাচরণ, মহাপাপ। যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করেন, তিনি দাফন-কাফনের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা পেতে পারেন না। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৯ ধারা অনুসারে আত্মহত্যার চেষ্টা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

আত্মহত্যার কারণ খুঁজলে দেখা যায়, এক মানুষের জীবনে অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট, আপনজনরা তাকে মূল্যায়ন করছে না, অথবা প্রিয়জনের কাছে অবহেলার পাত্র হয়ে গিয়েছে ইত্যাদি।

প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.

)-এর জীবনেও অশান্তি ছিল। ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে কষ্ট সহ্য করেছেন, তা কোরআন হাদিস, নবীর (সা.) জীবনী পড়লে জানা যাবে। তখন জীবনের কষ্ট আর কষ্ট মনে হবে না।

আত্মহত্যার পরিণতি কী

মজার ব্যাপার হলো, যারা আত্মহত্যার মাধ্যমে দুনিয়ার অশান্তি থেকে মুক্তি চায়, আসলে কিন্তু তারা তা পায় না। কারণ, মৃত্যুই শেষ কথা নয়। আবার আরেকটি জীবন অপেক্ষা করছে। আল্লাহর বিধান না মানার কারণে সে-জীবনেও সে শান্তির দেখা পাবে না। মৃত্যু তো একদিন আসতই, কিন্তু এই ধরনের ইচ্ছামৃত্যুর কারণে সে নিজেকে পাপী বলে প্রমাণিত করে ফেলেছে। আল্লাহ বলেছেন, ‘প্রত্যেক প্রাণকেই মরণের স্বাদ নিতে হবে তারপর আমারই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে আনা হবে।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত: ৫৭)

আরও পড়ুনজামাতে নামাজ পড়ার গুরুত্ব অনেক বেশি২৫ জানুয়ারি ২০২৫

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে হাদিসে জানা যায়, রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, সে তার বিষ তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করেছে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে। সেটি দিয়ে সে নিজের নিজের উদর ছিন্ন করতে থাকবে।’ (মুসলিম, হাদিস: ১০৯)

নিরাশ হওয়া যাবে না

আল্লাহ বলেছেন, ‘বলো, হে আমার বান্দাগণ, তোমরা যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছ, আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপারে নিরাশ হয়ো না। আল্লাহ সমুদয় পাপ ক্ষমা করে দেবেন। তিনি তো ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।’ (সুরা জুমার, আয়াত: ৫৩)

আল্লাহ্ বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। আল্লাহ তো তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। এবং আর যে কেউ বিদ্বেষবশত ও অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, আমি নিশ্চয় তাকে তাকে আগুনে পোড়াব, আর এ আল্লাহর পক্ষে সহজসাধ্য।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)

আল্লাহ্ আরও বলেন ‘আর তোমরা নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ করো না, আর তোমরা সৎকর্ম করো। আল্লাহ সৎকর্মপরায়ণদের কে ভালোবাসেন।’ (সুরা বাকারা,আয়াত: ১৯৫)

আরও পড়ুনআত্মহত্যা অনুচিত ও মহাপাপ২২ জানুয়ারি ২০২৫

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: আল ল হ

এছাড়াও পড়ুন:

নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রাম পুলিশ গ্রেপ্তার

নাশকতার পরিকল্পনা করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে মাদারীপুরে কামাল সরদার নামের এক গ্রাম পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার কামাল জেলার মস্তফাপুর ইউনিয়নের চাপাতলী গ্রামের কেরামত সরদারের ছেলে। তিনি একই ইউনিয়নে গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত। 

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাশকতার পরিকল্পনাকারীদের ধরতে চাপাতলীতে অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। এ সময় নিজ বাড়ি থেকে কামাল সরদারকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে তাকে পুলিশ বাদী মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করে ডিবি পুলিশ। 

স্থানীয়রা জানায়, আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় এলাকায় নানা অপকর্ম করে আসছিলেন কামাল। তার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, পুলিশ বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। কয়েকবার তাকে সতর্ক করা হলেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় হায়দার হোসেন বলেন, ‘কামাল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হয়ে কাজ করেন। পাশাপাশি মারামারি, মোটরসাইকেল চুরিসহ নানা অপকর্মে তিনি জড়িত। তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা আছে।’

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোকছেদুর রহমান জানান, কামাল সরদারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় এক ডজন মামলা রয়েছে। তবে পুলিশ বাদী একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ