এক দেশে জন্ম নেওয়া ফুটবলার অন্য দেশের হন কীভাবে, ফিফার নিয়ম কী বলে
Published: 3rd, April 2025 GMT
হামজা চৌধুরীর জন্ম ইংল্যান্ডে, জামাল ভূঁইয়ার ডেনমার্কে, তারিক কাজীর ফিনল্যান্ডে। তাঁরা তিনজনই এখন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও এমন উদাহরণ কম নেই। যেমন নরওয়ের হয়ে খেলা আর্লিং হলান্ডের জন্ম ইংল্যান্ডে, স্পেনের দিয়েগো কস্তার ব্রাজিলে, মরক্কোর আশরাফ হাকিমির স্পেনে।
একজন ফুটবলারের কোনো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন/ফেডারেশনের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার মৌলিক শর্তই হচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব থাকা। কিন্তু কেউ একজন চাইলেই যেমন আরেকটি দেশের নাগরিক হতে পারেন না, তেমনি নাগরিকত্ব নিলেই সে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল খেলার যোগ্যতা অর্জনও নিশ্চিত নয়।
একজন ফুটবলার কোন দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে খেলতে পারবেন, কী কী শর্ত পূরণ করতে হবে—এ নিয়ে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা আছে। আরজিএএস (ফিফা রেগুলেশনস গভর্নিং দ্য অ্যাপ্লিকেশন অব দ্য স্ট্যাটিউটস) নামে পরিচিত নীতিমালাটি একবিংশ শতাব্দীতেই তিন দফা হালনাগাদ হয়েছে, যার সর্বশেষটি ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ফিফার ৭০তম কংগ্রেসে।
একজন ফুটবলার আন্তর্জাতিক ফুটবলে অ্যাসোসিয়েশন বা ফেডারেশনের প্রতিনিধিত্ব করেন মোটের ওপর তিনটি সূত্রে—জন্ম, পরিবার ও বসবাস। ফিফা নীতিমালা অনুসারে, একজন খেলোয়াড়ের জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতার প্রাথমিক ভিত্তি তাঁর জাতীয়তা। যেমন ধারা ৫.
যার অর্থ, জন্মসূত্রে বা জাতিগত সূত্রে (মা–বাবার নাগরিকত্ব) পাওয়া নাগরিকত্বে একজন ফুটবলার সংশ্লিষ্ট দেশের হয়ে খেলতে পারবেন। তবে জন্মগ্রহণ করা মাত্রই যে সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকত্ব নিশ্চিত, তা নয়। কিছু দেশ জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব দেয় না, আবার কেউ কেউ মা–বাবার পেশাগত কারণেও ভিন্ন দেশে জন্মগ্রহণ করে থাকেন। ম্যানচেস্টার সিটির হলান্ডই যেমন ফুটবলার বাবার কর্মসূত্রে ইংল্যান্ডের লিডসে জন্ম নিয়েছেন, তবে জাতীয়তা নরওয়েজীয় এবং সে দেশটির হয়েই বয়সভিত্তিক দল থেকে খেলেছেন বলে কখনো অ্যাসোসিয়েশন বদলানোর প্রসঙ্গই ওঠেনি।
ফিফা বলছে, একজন খেলোয়াড় যে দেশের হয়ে খেলতে চান, সেই দেশটির সঙ্গে তাঁর ‘পরিষ্কার সংযোগ’ বা সম্পর্ক থাকতে হবে। ফিফা নীতিমালায় একটি অ্যাসোসিয়েশনে/জাতীয় দলে যুক্ত হওয়ার ৪টি মাধ্যমের কথা বলা হয়েছে। ধারা ৭.১ অনুসারে:
১. ওই খেলোয়াড়ের জন্ম সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভূখণ্ডে বা দেশে
২. ওই খেলোয়াড়ের জন্মদাতা মা অথবা জন্মদাতা বাবার জন্ম সে দেশে
৩. ওই খেলোয়াড়ের রক্ত সম্পর্কের দাদা/দাদি অথবা নানা/নানির জন্ম সে দেশে
৪. ওই খেলোয়াড় সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের ভূখণ্ডে বসবাস করছেন/করেছেন। এ ক্ষেত্রে দশ বছরের আগে বসবাস শুরু করলে অন্তত ৩ বছর, ১০ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে বসবাস করলে অন্তত ৫ বছর, ১৮ বছর বয়স থেকে বসবাস করলে অন্তত ৫ বছর শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে।
একজন খেলোয়াড় তাঁর অ্যাসোসিয়েশন বা জাতীয় দল পরিবর্তনের আবেদনও করতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় যদি প্রথম জাতীয় দলের হয়ে প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে খেলে ফেলেন, তাহলে এরপর আর জাতীয় দল পরিবর্তন করতে পারবেন না। যেমন, হামজা চৌধুরী যদি ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে ইউরো বা বিশ্বকাপে এক ম্যাচও খেলতেন, বাংলাদেশ দলের হয়ে আর খেলতে পারতেন না। আবার বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার কারণে সামনে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার সুযোগ পাবেন না।
* যদি কোনো খেলোয়াড় ২১ বছর বয়সের আগে তিনটির বেশি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ (প্রীতি নয়) না খেলেন, তাহলে সর্বশেষ ম্যাচের ৩ বছর পর নতুন দেশের হয়ে খেলতে পারবেন। তবে যেসব খেলোয়াড় ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরের আগে পুরোনো দলের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ২১ বছরের নিয়মটি প্রযোজ্য নয়।
* যদি কোনো খেলোয়াড় তাঁর জন্মগ্রহণ করা দেশের জাতীয় দলে না খেলার সুযোগ পান, তাহলে অন্য কোনো দেশে ৫ বছর বসবাস করলে ওই দেশের হয়ে খেলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভূখণ্ডে ১২ মাসের মধ্যে অন্তত ১৮৩ দিন শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকলে এক বছর গণনা হবে।
* একজন খেলোয়াড় জাতীয় দল পরিবর্তন করার পর আগের দলে ফিরতে পারবেন, যদি নতুন দলের কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক ম্যাচে না খেলে থাকেন। অর্থাৎ, নতুন দলে নাম লিখিয়ে মাত্র এক ম্যাচ খেললেই তিনি আর পূর্বের অ্যাসোসিয়েশনে ফিরতে পারবেন না।
একজন খেলোয়াড়ের জাতীয় দল পরিবর্তনের বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদন করে ফিফা। এ জন্য তাঁর নতুন অ্যাসোসিয়েশন/ফেডারেশনকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ফিফা সচিবালয়ে পাঠাতে হবে। এ ক্ষেত্রে খেলোয়াড়টির ধরন (পূর্বে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছেন/খেলেননি, ১৮ বছরের আগে/পরে বসবাস, নাগরিকত্ব থাকা/না থাকা) অনুসারে কাগজপত্রের ভিন্নতা আছে।
তবে সব ক্ষেত্রেই নতুন দেশটির পাসপোর্ট থাকা আবশ্যক। ফিফা খেলোয়াড়ের জাতীয় দল পরিবর্তনের আবেদনটি তাদের প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির (পিএসসি) কাছে পাঠায়। আবেদনটি গৃহীত/বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: একজন ফ টবল র একজন খ ল য় ড় র জ ত য় দল জ ত য় দল প ওই খ ল য় ড় দ শ র হয় প রব ন র জন ম নত ন দ বসব স বছর র
এছাড়াও পড়ুন:
শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে মনে কষ্ট রাখবেন না: নিশো
ঘটনাটি দুই বছর আগের। আফরান নিশোর অভিষিক্ত সিনেমা ‘সুড়ঙ্গ’মুক্তি পাওয়ার সময়। সে সময় সিনেমার প্রচারণায় বিভিন্ন সময়ে শাকিব খানকে নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন আফরান নিশো। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। তবে এ বিষয়ে একেবারে চুপচাপ থেকেছেন সাকিব খান। যা বলার ভক্তরাই যেনো বলে দিয়েছিলেন। কিন্তু নিশো সম্ভবত মানসিক অশান্তিতেই ছিলেন বিষয়টি নিয়ে। তাই দুই বছর হলেও বিষয়টি ক্লিয়ার করলেন। কৌশলী হয়ে এক প্রকার ভুলও স্বীকার কলে নিলেন!
সম্প্রতি এক স্বাক্ষাৎকারে সে সময়ের ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন আফরান নিশো। অভিনেতা বলেন ‘সে সময়ে যেটা ঘটেছিল, এটা একটা ভুল-বোঝাবুঝি। এইটা খুবই অনাঙ্খিত। আমি শাকিব খানকে বলব—প্লিজ, এটা নিয়ে আপনি মনে কষ্ট রাখবেন না’
এটা কোনো ক্ল্যারিফিকেশন দিচ্ছি না, আমি খুব স্পষ্ট এবং দায়িত্ব নিয়ে বলতে চাই এইটা ভুল বোঝাবুঝি। কোনো একজন মানুষকে কেন্দ্র করে কটূক্তি করা কখনোই ইনটেনশন ছিল না। সেটা এখনও নেই, সামনেও থাকবে না। অনেক সময় প্রাসঙ্গিক বা অপ্রাসঙ্গিক অনেক কিছুই কথাতে চলে আসে। সেই কথার রেশ ধরে কেউ হয়তো চাইল যে ঝগড়াটা একটু বাড়িয়ে দিই বা একটু কমিয়ে দিই। আমার জায়গা থেকে কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলার ধৃষ্টতা আমার নেই। কখনও আমি দেখাইও না।’
এরপর শাকিব খানের কথা টেনে আফরান নিশো বলেন, “যাকে নিয়ে কথা হচ্ছে সে আমার অগ্রজ। ইন্ডাস্ট্রিতে আমার সিনিয়র। তাকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি।
আমার যখন ‘সুড়ঙ্গ’ রিলিজ হয় তখনো তার প্রতি যথেষ্ট সম্মান দেখিয়ে অনেক কথা বলেছি। একজন মানুষ যার এত দীর্ঘ ক্যারিয়ার, এত কিছু দিয়েছে ইন্ডাস্ট্রিকে, বিনিময়ে সে সম্মানটুকু ডিজার্ভ করেন।
নিশো আরও করেন, এর বিনিময়ে তিনি সম্মান ছাড়া আর কিছু চান না। আমার তরফ থেকে তিনি সম্মানের তুঙ্গেই থাকবেন সব সময়। তার পরও যদি এই বিষয়টা তিনি (শাকিব খান) মনে নিয়ে থাকেন তাহলে বলব, আপনি এটা একদমই মনে রাখবেন না। দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এটা একদমই ভুল-বোঝাবুঝি।
সাক্ষাৎকারের একেবারে শেষে এসে প্রশ্ন করা হয় শাকিব খান এবং আফরান নিশো দুই অভিনেতা একসঙ্গে সিনেমাতে পাওয়া যাবে কি না? উত্তেরে নিশো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার কাছে এমন কোনো প্রস্তাব আসেনি। এ রকম কিছু এলে আমি বরং খুশিই হবো।’