নারী বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আম্পায়ার তালিকায় বাংলাদেশের দুজন
Published: 3rd, April 2025 GMT
আসন্ন আইসিসি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আম্পায়ার তালিকায় জায়গা পেয়েছেন দুই বাংলাদেশি আম্পায়ার মাসুদুর রহমান ও সাথিরা জাকির। আজ আইসিসির প্রকাশিত আম্পায়ার এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের তালিকায় ১০ আম্পায়ার আর ৩ ম্যাচ রেফারি আছেন।
গত কয়েক বছর ধরে আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্টে আম্পায়ারিং করেছেন মাসুদুর। ২০২০ ও ২০২৪ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ পুরুষ ক্রিকেট বিশ্বকাপেও আম্পায়ার হিসেবে ছিলেন তিনি। সাথিরা তাঁর ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত দুটি নারী ওয়ানডে ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেদিক থেকে এই প্রথম আইসিসির কোনো বড় আসরে আম্পায়ার হিসেবে দেখা যাবে তাঁকে।
আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করে সুনাম কুড়িয়েছেন মাসুদুর রহমান.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চাল ডালের আমদানি
ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা আমদানি বাড়ছে। সবচেয়ে বেশি আমদানি হচ্ছে চাল ও ডাল। যদিও বাজারে চালের দর না কমে বরং বেড়েছে। ডলার পরিস্থিতির উন্নতি, আমদানির ওপর থেকে বিভিন্ন বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া, শুল্ক কমানো এবং যে কোনো ব্যবসায়ীর জন্য পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরিসহ বিভিন্ন কারণে গত ডিসেম্বর থেকে আমদানি বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে দেশে মোট ৪ হাজার ৬৪৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছর যেখানে আমদানি কমেছিল প্রায় ১১ শতাংশ। আর গত নভেম্বর পর্যন্ত আমদানি কম ছিল ১ শতাংশের বেশি।
চরম ডলার সংকটের কারণে ২০২২ সালের জুলাই থেকে আমদানি ব্যয় কমাতে বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেয় সরকার। ওই সময় বিভিন্ন পণ্যে শতভাগ পর্যন্ত এলসি মার্জিন আরোপ করা হয়। এই মার্জিনের পুরোটাই নিজস্ব উৎস থেকে দিতে বলা হয়। বাড়ানো হয় শুল্ক। এসব উদ্যোগের প্রভাবে ২০২২ সালের অক্টোবর থেকে আমদানি কমতে শুরু করে। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এলসি মার্জিনের বিষয়টি ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যে শুল্ক কমানো হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি গ্রুপের সিন্ডিকেট ভেঙে এখন চাইলেই যে কেউ পণ্য আমদানির সুযোগ পাচ্ছে। এসব কারণে বর্তমানে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি আছে ২৪ শতাংশের মতো। রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০ শতাংশ। একদিকে অর্থ পাচার কমে যাওয়া, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল হয়ে এসেছে। বর্তমানে রিজার্ভ রয়েছে ২০ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার। দর ১২২ থেকে ১২৩ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ব্যবসায়ীরা এখন চাইলেই আমদানির ডলার পাচ্ছেন। এরই মধ্যে আমদানির ওপর বেশির ভাগ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ পাচার ঠেকাতে কড়াকড়ি করা হয়েছে। আগে যারা পাচার করেছে, তাদের অর্থ দেশে আনতে উদ্যোগ নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, পণ্য ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চালের আমদানি। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৮ কোটি ৬১ লাখ ডলার সমমূল্যের চাল আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২০৫ গুণ বেশি। অবশ্য গমের আমদানি ৭ শতাংশ কমে ১০৬ কোটি ডলারে নেমেছে। শতাংশ বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ডালের। গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৮০ কোটি ৬৫ লাখ ডলার সমমূল্যের ডাল আমদানি হয়েছে। আগের একই সময়ের চেয়ে যা ১২৮ দশমিক ৫০ শতাংশ বেশি।
চালের আমদানি সবচেয়ে বেশি হলেও দামে তেমন প্রভাব নেই। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে সরু চালের দর ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়ে এখন প্রতি কেজি ৭২ থেকে ৮৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝারি মানের চালে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকা। আর মোটা চালে ৩ শতাংশের মতো বেড়ে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। চাল ছাড়া অবশ্য বেশির ভাগ পণ্যের দর কমেছে। দেশের বাজারে পেঁয়াজ, রসুন, আলু, আটা, চিনি, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকংশ পণ্যের দর অনেক কমেছে। কমেছে ডালের দরও। এসব কারণে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করেছে। মার্চের হিসাব এখনও পাওয়া
যায়নি। গত ফেব্রুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কমে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে। গত ২৩ মাসের মধ্যে যা সর্বনিম্ন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের আট মাসে ভোজ্যতেল ১৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৬৪ কোটি ডলারের আমদানি হয়েছে। মসলা প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে এসেছে ৩০ কোটি ৬২ লাখ ডলারের। আর চিনির আমদানি ২ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ৭৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে নেমেছে। তৈরি পোশাক সম্পর্কিত পণ্য প্রায় ১৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৬৬ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি হয়েছে। মধ্যবর্তী পণ্যের আমদানি ৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেড়েছে। কমেছে মূলধনি পণ্যের আমদানি ১১ শতাংশের বেশি কমেছে। অন্যান্য আমদানি ১১ শতাংশ বেড়ে ৬৫০ কোটি ডলার সমমূল্যের পণ্য দেশে এসেছে।