রূপগঞ্জে ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি রুহুল আমিনকে পুলিশের অপারেশন ডেবিল হান্ট অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার বাগবের এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত রুহুল আমিন রূপগঞ্জের বাগবের এলাকার আফজাল হোসেনের ছেলে। 

রূপগঞ্জ থানার ওসি লিয়াকত আলী জানান,  গত ৫ আগষ্টের আগে সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর ছত্রছায়ায় এলাকায় ভূমিদস্যুতা, সন্ত্রাসী কর্মকান্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করে আসছিল। ৫ আগষ্টের পর বেশ কিছুদিন গা ডাকা দেয়ার পর ফের বেপরোয়া হয়ে উঠে সে। তার ভয়ে কেউ কথা বলতে পারতোনা।

তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিস্ফোরণ আইনে মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়।

.

উৎস: Narayanganj Times

কীওয়ার্ড: র পগঞ জ য বল গ ন র য়ণগঞ জ র পগঞ জ

এছাড়াও পড়ুন:

‘সরকারের সঙ্গে ঘেঁষা মানেই একটা ছাপ পড়ে যাওয়া’

অলাত এহ্সান: ৯০তম জন্মদিনে আপনি ছায়ানট-এ গেয়েছিলেন।

ন্‌জীদা খাতুন: হ্যাঁ, খালি গলায় একটা দৃষ্টান্ত দিয়েছিলাম আরকি। ঘরে বসে গাই নিজের মতন করে, কারণ গানের স্কেলটা লো হয়ে গেছে। এই স্কেলে কেউ বাইরে গাইবে না। তবে গাইলে গাওয়া যায়।

দেখো, আমার সবচেয়ে ভালো সময় কাটে ছায়ানটের যারা রবীন্দ্রসংগীতের শিক্ষক, তারা আমার কাছে আসে সপ্তাহে চার দিন। ওদের আগেই আমি একটা গান দিয়ে রাখি, ওরা তুলে আসে। সঠিক স্কেলে সবাই তুলে আসতে পারে না সব সময়। সেগুলো বোঝাতে হয়। স্পর্শস্বরকে অর্ধস্বর করে ফেলে, অর্ধস্বরকে স্পর্শস্বর করে ফেলে। এগুলো বোঝাতে হয়। বোঝাই, তাদের গানের বিশ্লেষণ করি। গানে নিয়ে মোটিভেশনের কথা বলতে হয়। এসব বলে, করে আমার সময় কেটে যায়।

আব্বা অনেক গান শুনতেন। গুনগুন করতেন, তবে তাঁর সুর ঠিক থাকত না, তালও ভালো পরাতেন না। আমরা শুনে হাসতাম।

অলাত: আপনার কি কাজী নজরুল ইসলামের কাছে গান শেখার সুযোগ হয়েছিল?

সন্‌জীদা খাতুন: নজরুলকে আমি দেখিইনি। আমি তখন অনেক ছোট। নজরুলের জীবনের প্রেমের এক অধ্যায় বইটা যিনি লিখেছেন, আমাদের সৈয়দ আলী আশরাফ, বাবাকে লেখা নজরুলের চিঠিগুলো তিনি আমাদের বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিলেন, নিয়ে বইটা তিনি লিখেছিলেন। সেই বইতে আমাদের পরিবারের একটা ছবি আছে, সেখানে আমার ওপরের যে বোন, সে নজরুলের কোলে বসে আছে। আমার তখন জন্ম হয়নি। বড়দি নজরুলের কোলে বসে গান শিখেছেন, ‘বাগিচায় বুলবুলি তুই...’ ওকে কোলে বসিয়ে সভায় গাইয়েছেন।

বর্ধমান হাউসের (বর্তমানে বাংলা একাডেমি) একটা পুকুর ছিল, এখনো আছে, প্রায় মজে গেছে, ওই পুকুরটার ধারে বসে নজরুল রাত ১২টায় বাঁশি বাজাতেন। বাবা তো নজরুল বলতে অজ্ঞান ছিলেন, বন্ধু, মতিহার। বাবাকে তিনি ডাকতেন ‘মতিহার’। বলতেন, তোমার নাম মোতাহার কে রেখেছেন? তুমি তো মতিহার।

বড়দি একবার ওই পুকুরে গোসল করতে গিয়ে তাঁর হাতের সোনার বালা পড়ে গিয়েছিল। নজরুল সেই রাত ১২টায় ঘাটে বসে বাঁশি বাজাতে বাজাতে দেখেন কি, তলায় কী চকচক করছে। ডুব দিয়ে তুলে নিয়ে এসেছেন বালাটা।

অলাত: পরিবারের ভেতর নারীদের, মানে আপনাদের বিকাশ কেমন ছিল?

সন্‌জীদা খাতুন: আব্বা আমার অনেক পরিচর্যা করেছেন। আমি ক্লাস সেভেন পর্যন্ত উনার কোলে উঠে পড়েছি। তাঁর ধারণা হয়েছিল, আমার সাহিত্য বোধ আছে। আর আমার সেজদি ছিলেন, আব্বা মনে করতেন, তাঁরও সাহিত্য বোধ আছে। তাঁর যে বইটা সঞ্চরণ নামে, ওই বইটা আমাকে আর আমার সেই বোনকে উৎসর্গ করেছিলেন। ছোট থেকেই সেই বই পড়েছি।

যা কিছু লিখতাম, আব্বাকে দেখাতম। কবিতা লিখলে দেখাতাম। এমনি ছন্দে কবিতা লিখলে তাঁর আপত্তি ছিল না। একবার গদ্য কবিতা লিখেছি। দেখে বললেন, এটা কী হয়েছে, ঘোড়ার ডিম! আমাদের একটা বেলগাছ ছিল, তার পাতার ফাঁকে ফাঁকে জালের মতো তলায় ছায়া পড়েছিল। খুব ভালো লাগছিল। সেই অনুভূতি নিয়েই একটা কিছু লিখেছিলাম। আব্বা এমন বললেন যে জন্মেও আর গদ্য কবিতা লিখতে যাইনি। তিনি তো একটু সেকেলে।

অলাত: আপনার বাবা কাজী মোতাহার হোসেন কি অনেক গান শুনতেন?

সন্‌জীদা খাতুন: আব্বা অনেক গান শুনতেন। গুনগুন করতেন, তবে তাঁর সুর ঠিক থাকত না, তালও ভালো পরাতেন না। আমরা শুনে হাসতাম।

অলাত: কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, তিনি নাকি একাধিকবার ‘এই কাজীর’—কাজী মোতাহার হোসেন—সঙ্গে দাবা খেলার জন্যই ঢাকা এসেছেন?

সন্‌জীদা খাতুন: আব্বা নজরুলের সঙ্গে দাবা খেলেছেন খুব। তাঁকে একবার বোধ হয় ইন্টারন্যাশনাল একটা দাবা প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে ছিলেন। ভালোবাসতেন তো। নজরুল তো আব্বাকে নিয়ে একটা কবিতাও লিখেছিলেন।

রণজিৎ অধিকারী: মুসলিম সাহিত্য সমাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন—কাজী আবদুল ওদুদ, মোতাহার হোসেন চৌধুরী। তাঁরা কি আসতেন আপনাদের বাসায়?

সন্‌জীদা খাতুন: কাজী আবদুল ওদুদকে আবার আব্বা ভীষণ ভালোবাসতেন। তাঁরা কিন্তু একই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আব্বা তাঁকে চাচা বলতেন, গ্রাম সম্পর্কে চাচা। কোনো আত্মীয়তার সম্পর্কও থাকতে পারে। আমার আব্বা কাজী আবদুল ওদুদকে পায়ে ধরে সালাম করতেন। খুবই সম্মান করতেন। আর কাজী আবদুল ওদুদ, আমার মনে আছে, কলকাতায় একবার তাঁর বাসায় গিয়েছিলাম। আমার আব্বা তো ঢাকায়, আমি কলকাতায় থেকেছি তো, খোঁজখবর করে গেছি সেখানে।

রণজিৎ: ১৯৫২ সালে, ২১ ফেব্রুয়ারির পরের দিন সম্ভবত, আপনি একটা জায়গায় হেঁটে গিয়ে সভা করলেন, সেখানে আপনার মা বোধ হয় সভাপতি ছিলেন।

সন্‌জীদা খাতুন: হ্যাঁ। সভাপতি করেছিলেন মাকে, সবাই মিলে। সেই তো প্রথম গুলিবর্ষণ ঢাকায়, ভয়েই সবাই কাতর। আমি হেঁটে যাচ্ছি, আমার মা দেখছেন, মেয়েটা তো জেদি আছে! তখন চট করে আমার সঙ্গে হাঁটতে শুরু করলেন। পথে পুরানা পল্টনের ওখানটায়, তখন পুরানা পল্টনে মিটিং-সিটিং হতো—ওইখানে সব মিলিটারি ট্রাক থাকত। আর ট্রাকে সব অবাঙালি মিলিটারি ডিউটিতে। তারা আমাদের দুই মহিলাকে হেঁটে যেতে দেখে, আমাদের ভয় দেখানো জন্য মাটিতে খুব পা দাপাচ্ছে। আমার মা তা দেখে উল্টো দিকে দৌড় দিলেন। আমি ঘুরে মাকে দেখলাম, দেখে আবার চলতে থাকি। মা আবার ঘুরে দেখেন যে আমি হাঁটছি, আবার তিনি হাঁটলেন আমার সঙ্গে। এই করে গিয়েছিলেন। তাই বলে মা তো রাজনীতির কিছুই বোঝেন না। একেবারে গৃহিণী, আর মেয়ের জন্য সঙ্গে গেছেন। কিন্তু সেখানে বেগম সুফিয়া কামাল ছিলেন, বেগম দৌলতুন্নেছা ছিলেন, রোকাইয়া আনোয়ার বলে একজন ছিলেন। অনেক ভালো ভালো নাম করা লোকজন থাকতেও কেউ সভাপতি হতে চান নাই।

অলাত: সাংস্কৃতিক চর্চার কারণে বেগম সুফিয়া কামাল, জাহানারা ইমাম—তাঁদের পরিবারের সঙ্গে তো আপনাদের সখ্য ছিল।

সন্‌জীদা খাতুন: হুম। সুফিয়া কামাল আবার আমার বাবাকে ‘আব্বু’ বলতেন। আমরা সবাই তাঁকে খালাম্মা বলতাম। আর তাঁর মেয়েরা—লুলু, আমার কাছে আসতই। আর ছোটটা, সুলতানা কামাল, টুলু, ও তো শান্তিনিকেতনে গেল একবার, নয় মাসের কোর্স করতে গেল কলাভবনে। শান্তিনিকেতনে আমার একটা রুম ছিল, ও আমার রুমেই কাটিয়েছে সারা সময়, থেকে গেছে আমার কাছে।

একবার খালাম্মা গিয়েছিলেন শান্তিনিকেতনে, বেড়াতে। আমরা গেলাম। সবাই মিলে পার্কে যাব আরকি। তখন আমি হাঁটতে পারছিলাম না, খালাম্মাও হাঁটতে পারেন না। একটা চৌবাচ্চা দেখে, চৌবাচ্চার ধারে বসেছিলাম। আমার খারাপ লাগছে, খালাম্মা হরিণ দেখতে টিআর পার্কে যেতে পারলেন না। আমি তখন গান গাইছি। এমন সময় খালাম্মা আমার গায়ে হাত দিয়েছেন। তাকিয়ে দেখি হরিণ এসে চৌবাচ্চায় পানি খাচ্ছে। খালাম্মার হরিণ দেখা হয়ে গেল। হরিণ এ রকমই, গান শুনে যে ওরা কত কাছে আসে, এ অভিজ্ঞতাও হলো।

অলাত: আর জাহানারা ইমাম?

সন্‌জীদা খাতুন: জাহানারা ইমাম থাকতেন বোধ হয় আজিমপুরের ১৫ নম্বর বিল্ডিংয়ে। আর আমার বড়দি থাকতেন তার নিচতলায়, ওটা কলোনি। দাওয়াতে-টাওয়াতে বড়দি তাঁর বাসায় যেতেন। তিনি আবার ভীষণ সোশ্যাল ছিলেন। তিনি রেডিওতে প্রোগ্রাম করতেন, রেডিওর লোকদের সব দাওয়াত করতেন। বড়দি সেখানে খুব ইজি ফিল করতেন না।

জাহানারা ইমামকে আমি খুব খুব শ্রদ্ধা করতাম। তাঁর যে একাত্তরের দিনগুলি, সেটা তো বটেই, তার আরেকটা বই আছে অসাধারণ, অন্য জীবন।

অলাত: রণেশ দাশগুপ্ত, সত‍্যেন সেনের সঙ্গে আপনার ভালো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু একই সময়ে আপনারা ছায়ানট করছেন, আর তাঁরা রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী করছেন।

সন্‌জীদা খাতুন: উদীচীর অনেক অনুষ্ঠানে অনেক বক্তৃতা করেছি, অনেক উপদেশ দিয়েছি ওদের। অনেক দিন উপদেষ্টা ছিলাম। কিন্তু এরপরে, কিছু দিন আগে, উদীচীর ভেতর এত নোংরামি দেখে, অনেক গোলমাল, আমি বলেছি, আমাকে তোমরা কোনো কিছুতে ডাকবে না, কোনো কিছুতে রাখবে না। ওরাও আমার ওপর চটা।

সত্যেনদা এখান থেকে শান্তিনিকেতনে চলে গিয়েছিলেন কেন? কারণ, রাজনীতিতে তিনি কোনো পরিষ্কার রাস্তা দেখছিলেন না, তিনি যেখানে রাজনীতি করতেন। সারা জীবন তো কমিউনিস্ট পার্টি করতেন, রণেশদাও করেছেন, তিনিও করেছেন। আসলে সত্যেন সেন ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ওখানে, শান্তিনিকেতনে। কারণ, এখানে আর থাকা যাচ্ছিল না। রণেশদাও তা–ই। রণেশদা কলকাতার যেখানে ছিলেন, সেই জায়গাটা আমি চিনি। কারণ, ওখানে আমরা রিহার্সাল করতাম, মুক্তিযুদ্ধের গানের।

অলাত: রণেশ দাশগুপ্ত সম্ভবত আত্মীয়ের কাছে থাকতেন!

সন্‌জীদা খাতুন: না, বোনের কাছে থাকতেন সত্যেনদা। আর রণেশদা একটা খালি পোড়োবাড়ির মতো বাড়িতে থাকতেন, পরে। আগে হয়তো বোনের বাড়ি বা কারও কাছে থাকতেন, জানি না। ওই বাড়িটার সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় সিঁড়িটা কাঁপত। আর মেঝেগুলো ছিল সব ফাটা। ওই বাড়িতে থাকতেন রণেশদা। আর কী যে দুর্দশা ছিল ওখানকার টয়লেটের। ওখানে তাঁদের পক্ষেই থাকা সম্ভব।

অলাত: এখন সেভাবে শিল্পী হচ্ছে না, সবাই পারফমার হয়ে যাচ্ছে—ছায়ানটে এই ধরনের সমস্যা আছে?

সন্‌জীদা খাতুন: না, শিল্পীও হচ্ছে কিছু। ছায়ানট থেকে ইফ্ফাতারা দেওয়ান, সেলিনা মালেক চৌধুরীর গলা ছিল, নষ্ট হয়ে গেছে। বেনু যাকে বললাম সেই মাহমুদুর রহমান, তারপরে শাহীন মাহমুদ—তখন মাহমুদ ছিল, এখন অন্য রকমের নাম নিয়েছে—এ রকম অনেকে আছে। এই যে শাকিল (খায়রুল আনাম), নজরুলগীতি গায় এখন, ছায়ানটে শিখেছে। ছায়ানট থেকে বেরিয়ে গিয়ে বিদেশে ছিল প্রায় আঠারো বছর, ফিরে এসে আবার ছায়ানট। ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদক ছিল পঁচিশ বছর।

অলাত: ছায়ানটের শুরুর দিকে সন্তোষ গুপ্ত, কলিম শরাফী কি যুক্ত ছিলেন?

সন্‌জীদা খাতুন: সন্তোষ গুপ্তের সঙ্গে আমার ততটা যোগাযোগ ছিল না। যদিও তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে নিয়ে একটা বই বের হয়েছে। তাতে রেকর্ড করা আমার একটা গান আছে। সন্তোষ গুপ্ত করতেন কি, আমার গান পছন্দ করতেন না। তিনি বলতেন, কলিম শরাফীর গান শোনো, যেন কথা বলছে, এত সুন্দর। কলিম শরাফীর তো তুলনা নেই। ভরাট গলা। গলার আলাদা একটা ব্যাপার ছিল—অর্থ বুঝে বুঝে হয়।

আমার বয়স তো তখন অনেক কম। আমি গান করি একটা মিনমিনে গলা, সমু গলা, তাঁর পছন্দ ছিল না। সেটা আমি জানতাম। বলেছিলেন একবার। তাঁর সঙ্গে আমার সে রকম ঘনিষ্ঠতা কখনো হয়নি।

অলাত: কলিম শরাফীর সঙ্গে আপনার হৃার্দিক সম্পর্ক ছিল নিশ্চয়?

সন্‌জীদা খাতুন: কলিম শরাফী আমাকে গান শিখিয়েছিলেন। সাহিত্য সম্মেলন হয়েছিল ১৯৫৪ সালে, সাহিত্য সংসদ থেকে। সেই অনুষ্ঠানে গাওয়ার জন্য আমাকে অনেক কথা বলেছিলেন। তিনি অনেক কথা বলতেন, যেগুলো আমার ভালো লাগত। তাঁর আছে বেশি করে গান শিখেছিল আমার ছোট বোন ফাহমিদা। আমি ততটা সুযোগ পাইনি। আসলে আমি অর্গানাইজেশন নিয়ে এত বেশি ব‍্যস্ত থাকতাম সব সময়।

অলাত: সাংস্কৃতিক চর্চার বলি আর আন্দোলনের ঝান্ডা বলি, ছায়ানট তো নিজেই বড় একটা কেন্দ্র।

সন্‌জীদা খাতুন: হ্যাঁ। বড় একটা প্রতিষ্ঠান। ওটা হচ্ছে সাংস্কৃতিক আন্দোলন। সাংস্কৃতিক আন্দোলন বলে, ওই যে বঙ্গবন্ধুর ছয় দফা আন্দোলন, তিনি আমাকে খবর পাঠিয়েছিলেন, বলেছিলেন, কি সুফিয়া কামাল আর সন্‌জীদা খাতুন ছায়ানট করবে? ওটা (ছায়ানট) আমার হাতে দিক, দেখিয়ে দেব। এ কথাটা আমাকে চা খেতে ডেকে বলেছিলেন শামসুল হুদা চৌধুরী। লায়লা আঞ্জুমান আরার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল তখন। আমরা শুনলেই দিগ্‌বিদিক তাকাতাম। কারণ, সরকারের সঙ্গে ঘেঁষা মানেই একটা ছাপ পড়ে যাওয়া। আমরা কখনোই কোনো সরকারের সঙ্গে ঘেঁষিনি।

সম্পর্কিত নিবন্ধ