দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ সিদ্দিক
Published: 3rd, April 2025 GMT
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোনের মেয়ে এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে তার ‘আইনজীবীরা প্রস্তুত।’
দুর্নীতির অভিযোগে দলের চাপের মুখে পদত্যাগের পর এবারই প্রথম গণমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন টিউলিপ। বুধবার স্কাই নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
টিউলিপ দাবি করেছেন, দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একবারের জন্যও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
বাংলাদেশী আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দলের সাথে তার স্পষ্ট সংযোগের জন্য তিনি অনুতপ্ত কিনা জানতে চাইলে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, “আপনি আমার আইনি চিঠিটি কেন দেখেন না এবং দেখেন না যে আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আছে কিনা.
বাংলাদেশে দুর্নীতির একাধিক তদন্তে নাম আসার পর জানুয়ারিতে ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান টিউলিপ। মূলত দুর্নীতির দায়ে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছিলেন যুক্তরাজ্যের সাবেক এই সিটি মিনিস্টার। সাবেকক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠজনদের কাছ থেকে ফ্ল্যাট উপহার নেওয়া, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এক প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, “কয়েক মাস ধরে (দুর্নীতির) অভিযোগ আসছে এবং কেউ আমার সাথে যোগাযোগ করেনি।”
সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্কাই নিউজকে বলেছিরেন, বাংলাদেশে বিপুল সম্পদ রয়েছে টিউলিপ সিদ্দিকের এবং তাকে জবাবদিহি করা উচিত। টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবীরা কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি লেখেন এবং সেখানে অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা ও বিরক্তিকর’ বলে আখ্যায়িত করেন।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, কোনো প্রশ্ন থাকলে দুদককে ‘২০২৫ সালের ২৫ মার্চের মধ্যে’ টিউলিপ সিদ্দিককে প্রশ্ন করতে হবে, অন্যথায় “আমরা ধরে নেব যে উত্তর দেওয়ার জন্য কোনো বৈধ প্রশ্নের অবকাশ নেই।”
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে টিউলিপ বলেছেন, (প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার) সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে এবং কর্তৃপক্ষ কোনো উত্তর দেয়নি।
স্কাই নিউজ এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছে।
ঢাকা/শাহেদ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ট উল প স দ দ ক য গ য গ কর মন ত র র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছে
বুয়েনস এইরেসের সান ইসিদরো আদালতে চলছে মামলার শুনানি। ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু অসুস্থতার কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি অবহেলা ছিল চিকিৎসকদের, তা খতিয়ে দেখছেন আদালত। কিংবদন্তির শেষ দিনগুলোয় তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন যে আটজন চিকিৎসক, তাঁদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলাজনিত অপরাধের অভিযোগে চলছে বিচার কার্যক্রম।
বাদীপক্ষ ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার হয়ে আদালতে লড়ছেন আর্জেন্টাইন আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো। এক টিভি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, ‘পশুর সঙ্গে যেমন আচরণ করে, ডিয়েগোর সঙ্গে সেটাই করা হয়েছে। আদালতে যা কিছু দেখা গেছে, সেটাই প্রমাণ করে।’
আরও পড়ুনমেসির দেহরক্ষীকে নিষেধাজ্ঞা৪ ঘণ্টা আগেআর্জেন্টিনার টিভি চ্যানেল এলত্রেসে প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘লা নোচে দে মিরথা’য় বার্লান্দো ব্যাখ্যা করেন, ২০২০ সালের ২৫ নভেম্বর ম্যারাডোনাকে হত্যা করা হয়েছিল—এটা প্রমাণ করাই তাঁর আইনি দলের লক্ষ্য, ‘অবহেলার বিষয়টি আমরা আগেই পেরিয়ে এসেছি। এখন তা বিচারিকভাবে প্রমাণের চেষ্টা করছি।’
এই পৃথিবীতে ডিয়েগোর অনুপস্থিতিতে লাভটা তৃতীয় পক্ষের, যারা তাঁর উত্তরাধিকার নয়। কিছু লোক আছে, যারা কিছু সন্দেহজনক চুক্তিপত্র সইয়ের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর পরও লাভবান হচ্ছে, এমনকি তাঁর ওপর ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছে।ফের্নান্দো বার্লান্দো, ম্যারাডোনার মেয়ে দালমা ও জিয়ান্নিনার পক্ষের আইনজীবীবার্লান্দোর দাবি, পরিকল্পনা করে ছিয়াশির বিশ্বকাপ কিংবদন্তিকে মেরে ফেলা হয়েছে। চিকিৎসাজনিত অবহেলা তাঁর মৃত্যুর কারণ নয়, ‘আমি একমত, কোনো সন্দেহ নেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।’ অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা আর্জেন্টাইন অভিনেত্রী ও সঞ্চালক মিরথা লেগ্রান্দ আইনজীবী বার্লান্দোর কাছে জানতে চান, ম্যারাডোনাকে মৃত্যুমুখে পতিত করা হয়েছে, নাকি হত্যা করা হয়েছে?’ বার্লান্দোর উত্তর, ‘ম্যারাডোনার মানসিক ও শারীরিক চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা আটজন ইচ্ছাপ্রসূত হত্যার দায়ে জড়িত। কেউ যখন সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়, এ ক্ষেত্রে যেটা মৃত্যু এবং তাদের আচরণে মনে হয় কিছুই হয়নি, তখন এটা হত্যা।’
ম্যারাডোনার দুই মেয়ে দালমা ও জিয়ানিন্নার পক্ষের আইনজীবী ফের্নান্দো বার্লান্দো