ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে কনের বাড়িতে বর, ভিড় জমান উৎসুক মানুষ
Published: 3rd, April 2025 GMT
একসময় দেশে গরু বা ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার প্রচলন ছিল। কালের বিবর্তনে এ দৃশ্য এখন বিরল। তবে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে পুরোনো সেই রীতিতে ঘোড়ার গাড়ি নিয়ে বিয়ে সেরেছেন এক তরুণ। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দাদের নজর কেড়েছে। এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।
ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে কনের বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করে আবার সেটিতেই কনেকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের সাইফুল ইসলাম।
ঘোড়ার গাড়ির পাশাপাশি ১০টি মোটরসাইকেল ও চারটি মাইক্রোবাসে অর্ধশতাধিক বরযাত্রী নিয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে কনের বাড়িতে হাজির হন তিনি। এ দৃশ্য দেখতে সেখানে ভিড় জমান উৎসুক বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সুবিদখালী গ্রামের বাসিন্দা আবু জাফরের ছেলে সাইফুলের সঙ্গে বিয়ে হয় একই উপজেলার কলাগাছিয়া গ্রামের বশির হাওলাদারের মেয়ে তানিয়া আক্তারের। বর সাইফুল একটি প্রতিষ্ঠানের বরিশাল ডিপোর হিসাবরক্ষক পদে কর্মরত।
সাইফুলের বাবা আবু জাফর বলেন, ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে ওর কয়েকজন বন্ধুর উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী আয়োজনে উভয় পরিবারসহ এলাকার সবাই বেশ খুশি।
এমন আয়োজনের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাইফুলের বন্ধু বিকাশ দাস বলেন, ‘ঘোড়ার গাড়িতে বিয়ে করতে কনের বাড়িতে যাওয়ার রীতিটি বড়দের কাছ থেকে শুনেছিলাম। আমরা কয়েকজন মিলে বন্ধু সাইফুলের বিয়েতে অন্য এলাকা থেকে ভাড়ায় একটি ঘোড়ার গাড়ি এনেছি।’
এমন আয়োজন দেখে নিজের মুগ্ধতা প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশিদ মিয়া বলেন, ‘একসময় ঘোড়ার গাড়ি ও গরুর গাড়িই ছিল গ্রামবাংলার ঐতিহ্য। এখন সচরাচর এসব যানবাহন দেখা যায় না। অনেক দিন পর গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া সেই ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে কনের বাড়িতে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পেলাম। খুব ভালো লাগল।’
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
বগুড়ার শেরপুরে শিশুপার্কে নেই খেলনা, ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত শিশুরা
বগুড়ার শেরপুর পৌর শহরে শিশুদের বিনোদনের জন্য স্থাপিত একমাত্র শিশুপার্কটি এখন অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ। একসময় যেখানে শিশুরা খেলাধুলায় মেতে উঠত, এখন সেখানে নেই কোনো খেলনা। পূর্বে স্থাপিত খেলনাগুলো নষ্ট হয়ে পড়েছে, মরিচা পড়ে অকার্যকর হয়ে গেছে।
শহরের একমাত্র দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা শাপলা চত্বরের একই অবস্থা। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একসময় যেখানে শিশুরা আনন্দে সময় কাটাত—এখন অব্যবস্থাপনার কারণে সেখানে কেউ যায় না। এ বছরও ঈদে শেরপুরের শিশুরা এসব স্থান থেকে বিনোদনবঞ্চিত হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, শেরপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরসাহাপাড়া মহল্লায় ১৯৯৮ সালে নির্মিত শিশুপার্কটির অবস্থা শোচনীয়। একসময় এখানে নানা ধরনের খেলনা ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেগুলোর কিছুই অবশিষ্ট নেই। পার্কের প্রবেশমুখে শহীদ মিনার ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলার ভাস্কর্য থাকলেও ভেতরে বিনোদনের কোনো উপকরণ নেই। বসার জন্য তৈরি ইট-সিমেন্টের চেয়ার-টেবিলও ভেঙে গেছে। এখন পার্কটি কার্যত পরিত্যক্ত।
অন্যদিকে ২০১২ সালে শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথপাড়া মহল্লায় শেরপুর খেলার মাঠের পাশে নির্মিত শাপলা চত্বর ও ফোয়ারা এখন জীর্ণদশায় পরিণত হয়েছে। সিমেন্টের তৈরি শাপলা ফুলটি খসে পড়ছে, ফোয়ারাটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। জায়গাটি আগাছায় ঢাকা, অপরিষ্কার। চার বছর ধরে এখানে কোনো আলো জ্বলে না।
পার্কে স্বাধীন বাংলার ভাস্কর্যও অযত্ন-অবহেলায় জরাজীর্ণ