আজ ৩ এপ্রিল, বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জন্য সত্যিই বিশেষ দিন। কারণ এই দিনকে চলচ্চিত্র দিবস হিসেবে পালন করা হয়। সেই সঙ্গে এই দিনেই দেশের কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা আলমগীরের জন্মদিন। তাই এই তারকার প্রতিটি জন্মদিনই চলচ্চিত্র পরিবার বিশেষভাবে উদযাপন করে থাকেন।
এবারের জন্মদিনটি আরও স্পেশ্যাল, কারণ এ বছর ৭৫-এ পা রাখলেন গুণী এই অভিনেতা। জন্মদিন উপলক্ষে আলমগীরকে নিয়ে কথা বলেছেন ঢালিউডের দুই প্রজন্মের দুজন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক।
আলমগীরের পুরো নাম মহিউদ্দিন আহমেদ আলমগীর। সত্তরের দশক থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত তিনি অভিনয় করেছেন অত্যন্ত প্রতাপের সঙ্গে। উপহার দিয়েছেন অসংখ্য হিট সিনেমা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছেন রেকর্ড ৯ বার।
১৯৫০ সালের ৩ এপ্রিল আলমগীরের জন্ম হয়েছিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার বাবার নাম কলিম উদ্দিন আহম্মেদ ওরফে দুদু মিয়া। তিনি বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’-এর অন্যতম একজন প্রযোজক ছিলেন। আলমগীরদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে।
১৯৭৩ সালে আলমগীর কুমকুম পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ‘আমার জন্মভূমি’ সিনেমায় প্রথম অভিনয় করেন। এরপর একে একে ‘দস্যুরাণী’, ‘লাভ ইন সিমলা’, ‘মনিহার’, ‘মনের মানুষ’, ‘আগুনের আলো’, ‘সাম্পানওয়ালা’, ‘প্রতিজ্ঞা’, ‘বৌমা’, ‘ভাত দে’, ‘গরীবের বউ’, ‘পিতা-মাতা’, ‘জজ ব্যারিস্টার’, ‘স্ত্রীর মর্যাদা’সহ অসংখ্য আলোচিত ও সুপারহিট সিনেমায় দেখা গেছে তাকে।
১৯৮৬ সালে কামাল আহমেদ পরিচালিত ‘মা ও ছেলে’ সিনেমাতে অভিনয়ের জন্য প্রথম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান আলমগীর। এরপর ১৯৮৭ সালে ‘অপো’, ১৯৮৯ সালে ‘ক্ষতিপূরণ’, ১৯৯০ সালে ‘মরণের পরে’, ১৯৯১ সালে ‘পিতা মাতা সন্তান’, ১৯৯২ সালে ‘অন্ধ বিশ্বাস, ১৯৯৪ সালে ‘দেশ প্রেমিক’সহ মোট ৯ বার এই পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।
এছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননাও পেয়েছেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা। চলচ্চিত্রের অস্থিরতা ও বর্তমান সংকট সমাধানে বর্তমানে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আহ্বায়ক কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আলমগীর।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: আলমগ র চলচ চ ত র প আলমগ র র প রস ক র র র জন ম
এছাড়াও পড়ুন:
নাটোরে তুচ্ছ ঘটনায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬, কার্যালয় ভাঙচুর
নাটোরের লালপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়সহ কয়েকটি দোকানে ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
গতকাল সোমবার রাত সোয়া ১১ টার দিকে উপজেলার চংধুপইল ইউনিয়নের আব্দুলপুর কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন আব্দুলপুর গ্রামের সেকেন্দার প্রামাণিকের ছেলে জুলহাস আলী (৫৫), রিপন আলীর ছেলে মো.রাফি (২২), করিম মন্ডলের ছেলে অন্তর মন্ডল (২১), জারেফ আলীর ছেলে শিশির হোসেন (১৪), হাজজাজের ছেলে মো. শুভ্র (৩০) ও আলমগীর হোসেন (৪৫)। এর মধ্যে জুলহাস আলী চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার বিকেলে বাওড়া রেল ব্রিজ এলাকায় মেলায় লটারি কেনাবেচা নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলামের আত্মীয় ইসলামপুর গ্রামের নাহিদ ও তাঁর বন্ধু আরিফুলসহ কয়েকজন বিএনপি নেতা জুলহাসের আত্মীয় রাফি, অন্তর ও শিশিরকে মারধর করে। এই ঘটনার জেরে রাতে পুনরায় দুই পক্ষের সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় আরিফের সমর্থক শুভ্র ও কালামের নেতৃত্বে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালসসহ কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের জুলহাস আলী, শুভ্র ও আলমগীরসহ ছয়জন আহত হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে চংধুপইল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জুলহাস আলী বলেন, ‘আমাদের অন্যায়ভাবে মারা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠ বিচার চাই।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।’
এ বিষয়ে লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হককে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ধরেননি।