ই–মেইলের নিরাপত্তা বাড়াতে নতুন সুবিধা চালু করছে জিমেইল
Published: 3rd, April 2025 GMT
ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য ই–মেইল নিরাপত্তা আরও সহজ করতে নতুন এনক্রিপশন প্রযুক্তি চালু করছে গুগল। নতুন এই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে জিমেইল ব্যবহারকারীরা সহজেই এনক্রিপ্টেড ই–মেইল পাঠাতে পারবেন। গুগল জানিয়েছে, নতুন প্রযুক্তিটি ব্যবহারের জন্য প্রেরক ও প্রাপককে আলাদা কোনো সফটওয়্যার ইনস্টল বা এনক্রিপশন সার্টিফিকেট বিনিময় করতে হবে না। আর তাই প্রযুক্তিটি প্রচলিত এনক্রিপশন পদ্ধতির তুলনায় সহজ ও ব্যবহারবান্ধব।
গুগলের তথ্যমতে, গতকাল বুধবার থেকে পরীক্ষামূলকভাবে নতুন এনক্রিপশন প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ সুবিধা কাজে লাগিয়ে শুধু একই প্রতিষ্ঠানের জিমেইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে এনক্রিপ্টেড ই–মেইল পাঠানো যাবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এটি সব জিমেইল ব্যবহারকারীর জন্য চালু করা হবে। নতুন এই নিরাপত্তাব্যবস্থা ক্লায়েন্ট-সাইড এনক্রিপশন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে ‘এনক্রিপশন কি’ ব্যবস্থাপনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে প্রতিষ্ঠানের হাতে। তবে প্রযুক্তিটি পুরোপুরি এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন নয়।
আরও পড়ুনজিমেইলে ই-মেইল শিডিউল করে রাখবেন যেভাবে১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫বর্তমানে জিমেইল সিকিউর মাল্টিপারপাস ইন্টারনেট মেইল এক্সটেনশনস প্রটোকলের মাধ্যমে এনক্রিপশন সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে এই পদ্ধতিতে এক্সটারনাল ই–মেইল পাঠাতে হলে প্রাপককে এই প্রটোকল কনফিগার করতে হয়, যা অপেক্ষাকৃত জটিল। নতুন এনক্রিপশন প্রযুক্তি চালু হলে এ জটিলতা অনেকটাই কমে যাবে।
আরও পড়ুনজিমেইল অ্যাকাউন্টের জায়গা খালি করবেন যেভাবে৩০ আগস্ট ২০২৪নতুন এনক্রিপশন প্রযুক্তিতে ই–মেইল লেখার সময় ব্যবহারকারীরা ‘অ্যাডিশনাল এনক্রিপশন’ অপশন চালু করলেই বার্তা এনক্রিপ্ট হয়ে যাবে। যদি প্রাপক জিমেইল ব্যবহার না করেন তবে তিনি একটি লিংক পাবেন, যেখানে অতিথি হিসেবে গুগল ওয়ার্কস্পেস অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে ই–মেইল পড়ার পাশাপাশি উত্তর দেওয়া যাবে।
সূত্র: দ্য ভার্জ
আরও পড়ুনজিমেইলের এই পাঁচ সুবিধার কথা জানেন তো০২ জুলাই ২০২৪.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
সাঁতারেও চলছে প্রবাসীর খোঁজ
এক ‘হামজা হাওয়ায়’ ফুটবলে যে আলোড়ন উঠেছে, মুখ ফিরিয়ে রাখা দর্শকদের মধ্যে যেভাবে আন্দোলিত করেছে, তা দেখে অনেকেই প্রভাবিত। শিলংয়ে ভারতের বিপক্ষে হামজা চৌধুরীর লাল-সবুজ জার্সিতে অভিষেকের পর একটি ব্যাপারে প্রায় সবাই একমত পরীক্ষিত প্রবাসী অ্যাথলেটদের ফিজিক্যাল ফিটনেস বিশ্বমানের হয়ে থাকে। সেই তুলনায় স্থানীয়রা অনেকটাই পিছিয়ে। এই উপলব্ধি থেকেই সাঁতারেও এখন চলছে প্রবাসীদের খোঁজ।
অতীতে লন্ডন প্রবাসী সাঁতারু জুনাইনা আহমেদ দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তবে টোকিও অলিম্পিকের পর পুল থেকে অবসর নিয়েছেন তিনি। সুইমিং ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটিও চাইছে প্রবাসী সাঁতারুকে দেশের পুলে আনতে।
‘প্রবাসী বাংলাদেশিরা যদি আসে, আমাদের লেভেলটা আরও ওপরে নিয়ে যায়, সেটার জন্য আমি সব সময় উদ্বুদ্ধ করি। আমরা চেষ্টা করছি, কোথাও প্রবাসী সাঁতারু পাওয়া যায় কিনা। পর্যবেক্ষণ করছি। ফুটবলে যেমন হামজা চৌধুরী, জামাল ভূঁইয়ার মতো প্রবাসীরা এসেছেন, তেমনি যদি সাঁতারে আসেন, আমরা মনে করি দেশের সাঁতারের জন্য ভালো হবে।’ সাবেক সাঁতারু ও বর্তমান সুইমিং ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির সদস্য মাহফিজুর রহমান সাগর জানান, তাদের সন্ধান চলছে।
যদিও এই মুহূর্তে তেমন কাউকে খুঁজে পাচ্ছে না ফেডারেশন। ‘সত্যি বলতে কী, সেভাবে প্রবাসী সাঁতারু পাওয়াই যাচ্ছে না। একজন অস্ট্রেলিয়ান প্রবাসী বাঙালি পেয়েছিলাম, সেও কিছুদিন পর সাঁতার ছেড়ে দিয়েছে। এখন পাওয়াটা কঠিন। তার পরও সন্ধান চলছে।’
অতীতে লন্ডন প্রবাসী জুনাইনা আহমেদ দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০১৭ সালে দেশের বয়সভিত্তিক সাঁতারে অংশগ্রহণ করে নজর কেড়েছিলেন জুনাইনা। ২০১৯ সালে জাতীয় সাঁতারে আটটিতে রেকর্ড গড়ে ৯টি স্বর্ণ জেতেন। দেশীয় সাঁতারে রীতিমতো ঝড় তুলে দেন তিনি। এরপর বিশ্ব সাঁতার চ্যাম্পিয়নেও প্রত্যাশা পূরণ করেন। কিন্তু টোকিও অলিম্পিকে সেই মান ধরে রাখতে পারেননি। সেটাই ছিল দেশের হয়ে তাঁর শেষবারের মতো পুলে নামা। বছর তিনেক আগে দন্ত চিকিৎসক জুনাইনা পড়ালেখার চাপের কথা বলে পুল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। এরপর আর সেভাবে আলোচনায় আসেনি প্রবাসী সাঁতারুর আলোচনা। জুনাইনার বাবা জুবায়ের আহমেদ মাঝে ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন তাঁর ছোট মেয়ে জামাইমার অংশগ্রহণ নিয়ে। কিন্তু কোনো অ্যামেচার সাঁতারু নয়, ফেডারেশন আগ্রহী পেশাদার সাঁতারু অন্তর্ভুক্তিতে।
ফুটবলে যেমন এই মুহূর্তে ১৩ দেশের ৩২ জন প্রবাসী বাংলাদেশি ফুটবলার লাল-সবুজের হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ২৫ জুন ঢাকায় তাদের অনেককে নিয়ে ট্রায়াল করার চিন্তাভাবনা করছে ফুটবল ফেডারেশন। তারাও চাইছে যে কেউ এলেই আর দলে জায়গা মিলবে না, যদি কোনো প্রবাসী বিদেশি লিগে ভালো কোনো দল বা লিগে খেলে থাকেন, তাদেরকেই বিবেচনা করা হবে। এর পাশাপাশি কাউকে কাউকে বয়সভিত্তিক দলের জন্যও বিবেচনা করা হবে।
সাঁতারেও তেমন মানের কাউকেই চাইছেন মাহফিজুর রহমান সাগর। জুনাইনার খোঁজও তিনিই এনেছিলেন। সাগর নিজে বিদেশে ট্রেনিং করেছেন, অংশগ্রহণ করেছেন অনেক আন্তর্জাতিক আসরে। প্রবাসীদের সঙ্গে স্থানীয়দের তফাতটা তিনি ভালোই জানেন। ‘বিদেশি পেশাদার সাঁতারুদের সঙ্গে আমাদের স্থানীয়দের পার্থক্য এ টু জেড। ওরা পুরো সায়েন্স নিয়ে থাকে। ওদের কোচ, নিউট্রিশন, অনুশীলন, অনুশীলনের পরিবেশ, ট্রেনিং প্রোগ্রাম– সব উচ্চ পর্যায়ের। যদি আমার অভিজ্ঞতার কথা বলি, এ রকম উচ্চ সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন প্রতিটি দেশই ট্রেনিং করে। তার পরও কিন্তু সবাই পারছে না। অলিম্পিকে ফাইনাল খেলবে কিংবা পদক পাবে। এখানে অনেকে ব্যর্থ হচ্ছে। কিন্তু তারা সাফল্য পাওয়ার জন্য দৌড়াচ্ছে, সেই ট্র্যাকে আমরা নেই।’
জিমন্যাস্টিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাইক সিজার, বক্সিংয়ে জিনাত ফেরদৌস কিংবা ট্র্যাকে লন্ডন প্রবাসী ইমরানুর রহমান– দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনেক প্রবাসীরই আগমন ঘটেছে। বিদায়ও হয়েছে কারও ফর্মের কারণে, কারওবা ফেডারেশনের সঙ্গে মনকষাকষিতে। তবে জামাল, হামজার মতো এমন পেশাদার কাউকে সেভাবে দেখা যায়নি আগে, তাই তাদের মতোই কাউকে খুঁজছে সুইমিং ফেডারেশন।