স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধের সুপারিশ
Published: 3rd, April 2025 GMT
উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি হচ্ছে বলে অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। এতে দেশীয় সুতা উৎপাকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না বলেও জানাচ্ছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ বা মূল্য সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি লিখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাকসুদা খন্দকার স্বাক্ষরিত এক চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) দেওয়া তথ্য, অংশীজনের মতামত এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানে সাব্যস্ত হয়েছে যে, বাংলাদেশে সব ধরনের সুতা আমদানিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘোষিত দাম অপেক্ষা স্থলবন্দর থেকে সুতা আমদানিতে উল্লেখযোগ্য হারে অবমূল্যায়ন করা হয়। দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ অবমূল্যায়িত দামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারছে না।
এতে আরও বলা হয়– চীন, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশে উৎপাদিত সুতার গড়মূল্য প্রায় সমান। অথচ স্থলবন্দর ব্যবহার করে আমদানি করা সুতার দাম অনেক কম। ভারতের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত সুতা কলকাতায় গুদামজাত করে দ্রুত শিপমেন্ট করার কারণে দেশের ভেতরে কম দামে প্রবেশ করছে। ফলে দেশীয় সুতার পরিবর্তে স্থলবন্দর দিয়ে আসা সুতা বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পখাত অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সব স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি বা এসআরওতে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংশোধনী জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে অর্থ উপদেষ্টা ড.
এনবিআরে দেওয়া চিঠিতে বিটিএমএ সভাপতি উল্লেখ করেন, বিগত সরকার নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতি দেয়। এসব স্থলবন্দরে সুতার মান যাচাই করে শুল্কায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা কারিগরি সক্ষমতা নেই। শুধু আংশিক আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট শিল্পের পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সুতাকলগুলো।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কার্যাদেশ কম পাওয়াসহ বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত স্থানীয় মিলগুলো। বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প যখন গভীর সংকটে, তখন বাংলাদেশে ভারতের টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
এতে আরও বলা হয়, স্থলবন্দর ব্যবহার করে সুতা আমদানি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। ফলে বিদেশি সুতা নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে, আমদানি ব্যয় বাড়বে। একইসঙ্গে বাড়বে বেকারত্ব।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: স ত আমদ ন ব ট এমএ আমদ ন ব যবহ উৎপ দ
এছাড়াও পড়ুন:
স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধের সুপারিশ
উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি হচ্ছে বলে অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয় উদ্যোক্তারা। এতে দেশীয় সুতা উৎপাকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না বলেও জানাচ্ছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি বন্ধ বা মূল্য সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) চিঠি লিখেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাকসুদা খন্দকার স্বাক্ষরিত এক চিঠি দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) দেওয়া তথ্য, অংশীজনের মতামত এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধানে সাব্যস্ত হয়েছে যে, বাংলাদেশে সব ধরনের সুতা আমদানিতে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে ঘোষিত দাম অপেক্ষা স্থলবন্দর থেকে সুতা আমদানিতে উল্লেখযোগ্য হারে অবমূল্যায়ন করা হয়। দেশীয় সুতা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এ অবমূল্যায়িত দামের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পারছে না।
এতে আরও বলা হয়– চীন, তুরস্ক, উজবেকিস্তান ও বাংলাদেশে উৎপাদিত সুতার গড়মূল্য প্রায় সমান। অথচ স্থলবন্দর ব্যবহার করে আমদানি করা সুতার দাম অনেক কম। ভারতের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত সুতা কলকাতায় গুদামজাত করে দ্রুত শিপমেন্ট করার কারণে দেশের ভেতরে কম দামে প্রবেশ করছে। ফলে দেশীয় সুতার পরিবর্তে স্থলবন্দর দিয়ে আসা সুতা বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পখাত অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ছে। এমন প্রেক্ষাপটে সব স্থলবন্দরের মাধ্যমে সুতা আমদানি বন্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি বা এসআরওতে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংশোধনী জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছে মন্ত্রণালয়।
এর আগে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে দেওয়া এক চিঠিতে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করার দাবি জানায় সুতা ও বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএ। বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল স্বাক্ষরিত ওই চিঠিটি এনিবআরকেও দেওয়া হয়।
এনবিআরে দেওয়া চিঠিতে বিটিএমএ সভাপতি উল্লেখ করেন, বিগত সরকার নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানির অনুমতি দেয়। এসব স্থলবন্দরে সুতার মান যাচাই করে শুল্কায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো বা কারিগরি সক্ষমতা নেই। শুধু আংশিক আমদানির অনুমোদন দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট শিল্পের পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ব্যাপক অপব্যবহার হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্থানীয় সুতাকলগুলো।
চিঠিতে আরও বলা হয়, কার্যাদেশ কম পাওয়াসহ বহুমুখী সমস্যায় জর্জরিত স্থানীয় মিলগুলো। বাংলাদেশের টেক্সটাইল শিল্প যখন গভীর সংকটে, তখন বাংলাদেশে ভারতের টেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি ব্যাপকভাবে বেড়েছে, যা দেশের স্বার্থবিরোধী।
এতে আরও বলা হয়, স্থলবন্দর ব্যবহার করে সুতা আমদানি বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দেশের টেক্সটাইল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে। এতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। ফলে বিদেশি সুতা নির্ভরশীলতা বেড়ে যাবে, আমদানি ব্যয় বাড়বে। একইসঙ্গে বাড়বে বেকারত্ব।