চৈত্রের খরতাপে পুড়ছে চারদিক। দেশের কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ। কিছু স্থানে আকাশ মেঘলা থাকছে, ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। বেশ কয়েক দিন ধরেই এমন অবস্থা চলছে। আজ বৃহস্পতিবার তাপপ্রবাহের পরিধি কমে আসতে পারে। আর শনিবার নাগাদ এই খরতাপ কিছুটা কমে বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলছে আবহাওয়া অফিস।

গতকাল যে ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যায়, সেগুলো হলো রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, নওগাঁ, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, মৌলভীবাজার ও রাঙামাটি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় রাজশাহীতে, ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিনও রাজশাহীতে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তাপমাত্রা ৩৬ থেকে শুরু করে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো.

ওমর ফারুক গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, তাপপ্রবাহের পরিধি বৃহস্পতিবার কিছুটা কমে আসতে পারে। বিশেষ করে উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসতে পারে। ওই অঞ্চলে মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে ধীরে ধীরে।

প্রায় চার দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। অবশ্য এরই মধ্যে দেশের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

ওমর ফারুক আরও বলেন, আগামী শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন স্থানে এ বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পর তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। বৃষ্টি পরের দিন রোববারও থাকতে পারে।

গতকাল রাজধানী ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিনের চেয়ে গতকাল রাজধানীর তাপমাত্রা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যায়। আজ রাজধানীতে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা আছে বলে আবহাওয়ার বার্তায় বলা হয়েছে।

এপ্রিল বছরের উষ্ণতম মাস। এ মাসের গড় তাপমাত্রা ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চলতি এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া এ মাসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এ ছাড়া এ মাসে একাধিক তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।

ইতিমধ্যে দেশের কয়েকটি স্থানে কালবৈশাখী হয়েছে। এ মাসে পাঁচ থেকে সাত দিন বজ্র, শিলাবৃষ্টিসহ হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। এক থেকে তিন দিন তীব্র কালবৈশাখীর আশঙ্কা আছে।

এ মাসে বঙ্গোপসাগরে এক থেকে দুটি লঘুচাপও সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি নিম্নচাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা নিশ্চিত নয় এখনো।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: স লস য় স দশম ক গতক ল

এছাড়াও পড়ুন:

পাঁচ আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় হামলায় বিএনপি জড়িত 

সিলেটে আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ভাঙচুরে বিএনপি ও ছাত্রদল জড়িত বলে দাবি করেছেন সাবেক সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। তিনি লন্ডনে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন। তবে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হামলা ভাঙচুরের জন্য বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করা হলেও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। তারা বলছেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি ও ছাত্রদলের সম্পৃক্ততা নেই। 

এদিকে হামলার ঘটনায় কেউ থানায় মামলা বা অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, বুধবার ছাত্রলীগের মিছিল বের করার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন– ছাত্রলীগ নেতা শাফায়াত খান, জহিরুল ইসলাম, সোহেল আহমদ সানী, রবিন কর, ফাহিম আহমদ, রাজন আহমদ রমজান, বশির খান লাল ও সোয়েব আহমেদ।

বুধবার সকালে নগরীর ধোপাদিঘির পূর্ব পাড় এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিলের পর সন্ধ্যায় সিরিজ এ হামলার ঘটনা ঘটে। মিছিলের পর ছাত্রদল নেতারা রাস্তায় নামেন। এক ঘণ্টার ব্যবধানে নগরীর পাঠানটুলা, হাউজিং এস্টেট, সুবিদবাজার, মেজর টিলা ও শামীমাবাদ এলাকায় পাঁচ নেতাকর্মীর বাসায় হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় সিলেটে তোলপাড় চলছে। পক্ষে বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চলছে দোষারোপ। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর পাঠানটুলার মোহনা ব্লক-এ ৫৬/৯ নম্বর বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ভেতর ও বাইরের কাচ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। ভেতরের সাতটি কক্ষের আসবাব ভাঙচুর করা হয়েছে। 

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী গতকাল লন্ডন থেকে সমকালকে জানান, বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা হামলা করেছে। তারা নিজেদের পরিচয় দিয়ে হামলা করে। তিনি দাবি করেন, হামলার পেছনে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদীর অনুসারীরা রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে গতকাল লোদী তাঁর ফেসবুকে লেখেন, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও কাণ্ডজ্ঞানহীন। 

সাবেক মেয়রের বাসায় হামলার এক ঘণ্টার মাথায় নগরীর হাউজিং এস্টেট শুভেচ্ছা আবাসিক এলাকার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের অ্যাপার্টমেন্টে হামলা হয়। গতকাল সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনের সামনের নিরাপত্তাকর্মী বসার বক্স, দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার সামনের জানালার বেশ কয়েকটি কাচ ভাঙা। নাদেল এখন ভারতে আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভবনের ব্যবস্থাপক জানান, তিনি ঘটনার সময় বাইরে ছিলেন। সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে আসা ৩০ থেকে ৩৫ জন হামলা করে চলে যায়।

ওই দিন সন্ধ্যায় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন খানের সুবিদবাজারের বাসায়, মেজরটিলা এলাকায় ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর, ছাত্রলীগ নেতা রুহেল আহমদ ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের ছোট ভাই শফিকুল হক শফির 

শামীমাবাদের বাসায় হামলা হয়। শফির বাসায় হামলার সময় ছাত্রদলের নামে স্লোগান দিতে শোনা যায়। 
অভিযোগের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক দিলোয়ার হোসেন দিনার বলেন, ‘আমরা মব জাস্টিসের বিপক্ষে। কে বা কারা হামলা করেছে আমাদের জানা নেই।’ 

সম্পর্কিত নিবন্ধ