প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের পিএইচডি ফেলোশিপ, মাসে মিলবে ২৫০০০
Published: 3rd, April 2025 GMT
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত পিএইচডি গবেষকদের কাছ থেকে ফেলোশিপের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পিএইচডি কোর্সে ভর্তিকৃত-অধ্যয়নরত গবেষকদের কাছ থেকে এ জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। গত ১৬ মার্চ থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। ফেলোশিপ ও বৃত্তি বাবদ পিএইচডি কোর্সে মাসিক ২৫ হাজার টাকা হারে ফেলোশিপ মিলবে।
আরও পড়ুনবিনা মূল্যে আইটি প্রশিক্ষণে নতুন বিজ্ঞপ্তি, ২ লাখ টাকার কোর্স শেষে কর্মসংস্থান, যাদের সুযোগ১৬ মার্চ ২০২৫গবেষণার অধিক্ষেত্র হলো—সামাজিক বিজ্ঞান
কলা ও মানবিক
ব্যবসায় শিক্ষা
সমুদ্রবিজ্ঞান
আইন
ভৌতবিজ্ঞান
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি
বিজ্ঞান
জীববিজ্ঞান
শিক্ষা ও উন্নয়ন
চিকিৎসাবিজ্ঞান
চারু ও কারু
কৃষিবিজ্ঞান
ধর্মীয় শিক্ষা।
আবেদনের নিয়ম ও শর্তগবেষকেরা অনলাইনে আবেদন করবেন
শিক্ষাজীবনে ন্যূনতম দুটি প্রথম বিভাগ (জিপিএ-৫ স্কেলে ৩.
ফেলোশিপের জন্য আবেদন জমার তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ৪৫ বছর হতে হবে
অনলাইনে আবেদনপত্রের সঙ্গে সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত অনুলিপি (সনদ ও মার্কশিট), পিএইচডি কোর্সে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশনের কপি, গবেষণা প্রস্তাবনা ও বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নপত্র সংযোজন করতে হবে
অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র ডাউনলোড করে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রসহ (দুই সেট আবেদন) আবেদনের শেষ তারিখের মধ্যে অফিস চলাকালে সরাসরি বা ডাকযোগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট, বাড়ি নম্বর-৪৪, সড়ক নম্বর-১২/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা-১২০৯ বরাবর পাঠাতে হবে
সরকারি বা আধা সরকারি অথবা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রার্থীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের কপি সংযোজন করতে হবে
কর্তৃপক্ষ এ বিজ্ঞপ্তি বাতিল বা পরিবর্তন এবং যেকোনো আবেদন বিবেচনা বা বাতিলের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে
বিস্তারিত জানতে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে এ-সংক্রান্ত নির্দেশিকাসহ অন্য বিষয় জানতে পারবেন আগ্রহী প্রার্থীরা। এ ছাড়া প্রার্থীরা ০১৭৭৮৯৬৪১৫৬, ০১৭২৪৫৯৬৬৭৬, ০১৭৩৬৩২৭৫৬২—এই হটলাইনে যেকোনো ব্যাপারে যোগাযোগ করতে পারবেন।
আরও পড়ুনআইইএলটিএস প্রস্তুতি, ইংরেজির স্পষ্ট উচ্চারণের জন্য প্রতিদিন করণীয়১৩ মার্চ ২০২৫প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, ষষ্ঠ থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপবৃত্তি প্রদান, ভর্তি নিশ্চিতকরণে আর্থিক সহায়তা প্রদান, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে এককালীন অনুদান প্রদানসহ এমফিল ও পিএইচডি কোর্সে বৃত্তি এবং ফেলোশিপ প্রদান করছে। উচ্চশিক্ষায় ফেলোশিপ ও বৃত্তি বাবদ পিএইচডি কোর্সে মাসিক ২৫ হাজার টাকা হারে ফেলোশিপ ও বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
আবেদন শেষ কবে১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন আগ্রহী প্রার্থীরা।
আরও পড়ুনআয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের ক্যারিয়ারের সম্ভাবনা, যেভাবে মিলবে সুযোগ১২ মার্চ ২০২৫উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: প এইচড র জন য সরক র
এছাড়াও পড়ুন:
ঘাটতির শঙ্কায় রাজস্ব আদায় নিয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজস্ব আদায়ে গতি ফিরে এলেও বছর শেষে একটি বড় ধরণের রাজস্ব ঘাটতির সম্মুখীন হতে চলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ৮০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাথে একটি ঋণ চুক্তির মধ্যে রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় রাজস্ব আয়ের একটি টার্গেটও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের হার যেভাবে এগুচ্ছে তা এই টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হবে না। ফলে ঋণের বাদবাকি কিস্তি সংস্থাটির কাছ থেকে পেতে বেশ বেগ পেতে হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এনবিআর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেড়েছে। তা স্বত্বেও গত আট মাসে ২ লাখ ৮০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৫৮ হাজার কোটি টাকার বেশি।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৮১৭ টাকা। কিন্তু আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। টার্গেট অনুযায়ী রাজস্ব ঘাটতি ২১ শতাংশ কম ছিল।
অন্যদিকে, আগের অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৯৭১ কোাটি টাকা। অর্থাৎ আলোচ্য সময়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব আদায় হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে টানা তিন মাস রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
এনবিআরের তথ্য অনুসারে, ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায় বেড়েছে প্রায় ১ শতাংশ, যা এর আগের মাস জানুয়ারিতে ছিল প্রায় ৭ শতাংশ।
এ বিষয়ে এনবিআর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোন গবেষণা ছাড়াই প্রতিবছর একটি বিশাল অঙ্কের রাজস্ব আদায়ের টার্গেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। কিন্তু বছর শেষে এসে দেখা যায়, মূল্য লক্ষ্যমাত্রা তো দূরের কথা সংশোধিত আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করাও সম্ভব হয় না।
তিনি বলেন, “বিভিন্ন পণ্য দাম কমানোর জন্য এই সকল পণ্য’র ওপর কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। এতে করে রাজস্ব আদায় কমে গেছে। তবে বছরের বাদবাকি সময়ে এই আদায় আরও বাড়বে বলে আমাদের ধারণা।”
এদিকে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আদায় হোক বা না হোক, আগামী তিন অর্থবছরের জন্য মোট ১৮ লাখ ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের একটি পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই রাজস্ব আদায়ের টার্গেট দেওয়া হবে এনবিআরকে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে রাজস্বখাত থেকে আয় করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে আসবে পাঁচ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয় প্রাপ্তি ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে এনবিআর থেকে আসবে পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। ২০২৭-২০২৮ অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে সাত লাখ ৫৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর থেকে আদায়ের পরিকল্পনা প্রাক্কলন করা হয়েছে ছয় লাখ ৮৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
এদিকে, বাজেট পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবছর বাজেটে রাজস্ব আদায়ের যে মূল লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, সেটি অর্জন করা তো দূরের কথা, সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাও অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্জন করা সম্ভব হয় না। গত আট অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এর মধ্যে এনবিআর-এর আওতাধীন রাজস্ব ঘাটতিই সবচেয়ে বেশি। আর এই ধরণের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাকে একধরণের ‘সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে অর্থমন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি)।
ঢাকা/টিপু