Samakal:
2025-04-03@22:20:33 GMT

থমকে গেছে খুলনার উন্নয়ন

Published: 3rd, April 2025 GMT

থমকে গেছে খুলনার উন্নয়ন

দফায় দফায় বেড়েছে মেয়াদ, সঙ্গে লাগামহীন খরচ। দুই যুগেও শেষ হয়নি কাজ। খুলনার উন্নয়নে প্রায় সাড়ে ২৮ হাজার কোটি টাকার এমন ৩৪ প্রকল্পের ১৭টিতে স্থবিরতা; ঝুলে গেছে ১৫টি। বাতিল হয়েছে ৬৩৬ কোটি টাকার দুটি প্রকল্প। দীর্ঘদিনের সীমাহীন ভোগান্তিকে মানুষ ‘নিয়তি’ মেনে চলছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঠিকাদারের গাফিলতি, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি সংস্থার তদারকির অভাব, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনসহ নানা জটিলতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে খুলনার উন্নয়ন।

বন্ধ হয়ে যাওয়া খুলনা টেক্সটাইল মিলের ২৬ একর জমিতে বিটিএমসি ১৯৯৯ সালে শুরু করে টেক্সটাইল পল্লির কাজ। ২০১৮ সালে এসে এটি ভেস্তে যায়। পরে গত বছর জুনে সেখানে থিম পার্ক করার সিদ্ধান্ত হয়। প্রকল্প পরিচালক কাজী ফিরোজ হোসেন জানান, আগ্রহীদের কাছে প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প ২০১৩ সালে একনেকে অনুমোদন পায়। প্রায় ৯ বছর পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় চার কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ। ৯৯ কোটি থেকে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৫৪ কোটি টাকায়। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর করা হলেও ৩০ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। জমি অধিগ্রহণে দেরি ও ঠিকাদারের গাফিলতিতে এক যুগ ধরে সড়কটিতে মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী আরমান হোসেন জানান, কাজ দ্রুত শেষ করতে ঠিকাদারকে বলা হয়েছে।

খুলনার জয় বাংলা মোড়ের কাছে ৩০ একর জমিতে ২০১১ সালে ২ হাজার বন্দি ধারণক্ষমতার জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়। জমি অধিগ্রহণে জটিলতা ও ঠিকাদারের কারণে ১৪৪ কোটি টাকার প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে সাতবার; ব্যয় ঠেকেছে ২৮৮ কোটি টাকায়। গণপূর্ত-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো.

আসাদুজ্জামান জানান, কাজ শেষে হস্তান্তরের জন্য গঠিত কমিটি কিছু ত্রুটির কথা জানায়, সেগুলো করা হচ্ছে।

২০১৭ সালে ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের আটতলা ভবন নির্মাণ শুরু হয়। কয়েক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে হয়েছে ছয়তলা পর্যন্ত। প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয় বাড়লেও দ্বিতীয় ধাপের দরপত্র না হওয়ায় সাত ও আটতলার কাজ আটকে গেছে। গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, পুনঃদরপত্র আহ্বানের কাজ চলছে।

জয় বাংলা মোড়ে ৪ দশমিক ৮০ একর জমিতে খুলনা বিভাগীয় শিশু হাসপাতালের পাঁচতলা ভবন নির্মাণ শুরু হয় ২০১৭ সালে। দু’দফা মেয়াদ বাড়িয়ে সম্প্রতি কাজ শেষ হয়েছে। ৩৭ কোটি টাকার প্রকল্প ঠেকেছে ৬৩ কোটিতে। ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শেখ মো. কামাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের প্রবেশ সড়ক হয়নি। জনবলও নেই। এ জন্য বুঝে নিতে দেরি হচ্ছে।

২০১১ সালে নগরীর ফুলবাড়ি গেট রেলক্রসিংয়ে ওভারপাস নির্মাণে ৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প নেয় কেডিএ। ১৪ বছরে একাধিকবার প্রকল্প সংশোধনে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি টাকায়। এর পরও প্রকল্পের তেমন অগ্রগতি নেই বলে জানান কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (পূর্ত) আরমান হোসেন।

কেসিসি এলাকা সম্প্রসারণে ২০০৭ সাল থেকে ছয় দফায় প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু ১৮ বছরেও তা আলোর মুখ দেখেনি। প্রস্তাবটি সচিব কমিটির সভায় উত্থাপনের অপেক্ষায় বলে জানান কেসিসির এস্টেট অফিসার গাজী সালাউদ্দিন।

দুই প্রকল্প বাতিল
২০২২ সালে জোড়াগেট সিঅ্যান্ডবি কলোনি এলাকায় ১০ একর জমিতে ৫৫৩ কোটি টাকায় নভোথিয়েটার স্থাপনে প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। ভিন্ন জমিতে করার দাবিতে স্থানীয়দের আন্দোলনে এটি ভেস্তে যায়। গণপূর্ত বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান জানান, জানুয়ারিতে প্রকল্পটি বাতিল করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, রাজবাঁধ এলাকায় ২০১৮ সালে ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক কসাইখানা নির্মাণে উদ্যোগ নেয় কেসিসি ও প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ১০০ শতক জমিও হস্তান্তর করে কেসিসি। গত বছর জানুয়ারিতে দরপত্র হলেও অর্থ সংকটে বাতিল করা হয় ডিসেম্বরে।

শেষ হয় না কাজ, বাড়ে ভোগান্তি
‘খুলনা পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় ২৭০ কিলোমিটার সড়ক খুঁড়ে পাইপলাইন বসানো শুরু হয় ২০২২ সালের অক্টোবরে। খুলনা ওয়াসার ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কারণে আড়াই বছর চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে নগরবাসী। ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও কাজ বাকি ৪০ শতাংশের বেশি। প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী খান সেলিম আহম্মদ জানান, দেরিতে অনুমোদনের কারণে ঝুলে গেছে।

কয়রার ১৪/১ নম্বর পোল্ডারে ১২৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ সংস্কার ও টেকসই কাজ শুরু হয় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। গত ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হলেও ১ হাজার ১৭২ কোটি টাকার প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ২১ শতাংশ। প্রকল্প পরিচালক পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সৈয়দ সহিদুল আলম বলেন, অর্থছাড় ও জমি অধিগ্রহণে সময় লেগেছে। কার্যাদেশেও দেরি হয়। ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ বেড়েছে। কাজ শেষ করতে আরও এক বছর লাগবে।

৬৫ কিলোমিটার কয়রা-বেতগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের জানুয়ারিতে। দু’দফায় সময় বেড়ে শেষ হবে জুনে। তবে ৩৭৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার প্রকল্পে পাঁচ বছরে অগ্রগতি ৬৪ শতাংশ। জরাজীর্ণ সড়কে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে মানুষ। ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে বলে জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক।

নগরীর পশ্চিম রূপসা এলাকায় ১৭০ কোটি টাকায় ৩ দশমিক ৫৯ একর জমিতে হাই-টেক পার্ক নির্মাণ শুরু হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে। এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ৩৬ ভাগ। গত বছর ৫ আগস্ট ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লার্সেন অ্যান্ড টুবরোর লোকজন চলে গেলে বন্ধ হয় কাজ। প্রকল্প পরিচালক এ কে এ এম ফজলুল হক জানান, প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্প হয়, মেলে না সহায়তা
দাকোপ উপজেলার পানখালীতে ঝপঝপিয়া নদীর ওপর ১ হাজার ২৩২ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণে ২০১৬ সালে ৭৮২ কোটি টাকার প্রকল্প হয়। চীন সরকারের অনুদান দেওয়ার কথা থাকলেও তা মেলেনি। ২০২২ সালের আগস্টে দাকোপে চুনকুড়ি নদীর পোদ্দারগঞ্জ ফেরিঘাটে ১ হাজার ২৩৪ মিটার দৈর্ঘ্য সেতু নির্মাণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। ৭৪৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার প্রকল্পে ৫৭৪ কোটি ঋণ সহায়তা দিতে চেয়েছিল আবুধাবি ও কুয়েত। প্রকল্প পরিচালক সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কুয়েতের সঙ্গে ঋণ সহায়তা চুক্তি হয়েছে। আবুধাবির সঙ্গে না হওয়ায় ঝুলে আছে।’

প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম ফিরোজী জানান, ৬ মার্চ বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা ঢাকায় ভারতের এলওসি নিয়ে পর্যালোচনা সভা করেন। সভায় প্রকল্পটি এলওসি থেকে বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, ঠিক সময়ে সড়ক, সেতুসহ অবকাঠামো নির্মাণ না করা নিয়ম হয়ে গেছে। ঠিকাদারের গাফিলতির পাশাপাশি সংস্থাগুলোর তদারকির অভাবও দায়ী। তাদের কারণে প্রকল্পের বাড়তি ব্যয় জনগণকে দিতে হচ্ছে; আবার ভোগান্তিও পোহাচ্ছেন তারা।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) খুলনার সাবেক সভাপতি কুদরত-ই খুদা বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ চলছে ধীরে। জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর ভূমিকার অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প অনুমোদন পায়নি। ফলে খুলনার উন্নয়ন মুখ থুবড়ে পড়েছে।

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ট ক র প রকল প ২০২২ স ল র এর ন র ব হ প রকল প র ণ প রকল প প রকল প প ড স ম বর একন ক

এছাড়াও পড়ুন:

শীর্ষ তিন পোশাকের রপ্তানি কমছে 

চার দশকের বেশি সময় ধরে কম দামের তৈরি পোশাক রপ্তানি করে আসছে বাংলাদেশ। তার মধ্যে পাঁচটি ক্যাটাগরি বা শ্রেণির তৈরি পোশাকই বেশি রপ্তানি হয়। সেগুলো হচ্ছে ট্রাউজার, টি–শার্ট ও নিট শার্ট, সোয়েটার, শার্ট ও ব্লাউজ এবং অন্তর্বাস। মূলত ট্রাউজার, টি–শার্ট ও সোয়েটারই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয়। গত দুই অর্থবছর (২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪) ধরে এই পাঁচ শ্রেণির পোশাকের রপ্তানি কমছে। 

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। সংগঠনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ৮১ শতাংশই আসে ট্রাউজার, টি–শার্ট ও নিট শার্ট, সোয়েটার, শার্ট ও ব্লাউজ এবং অন্তর্বাস থেকে। 

শীর্ষ তিন পোশাক পণ্যের রপ্তানি কমে যাওয়া নিয়ে রপ্তানিকারকেরা বলছেন, দুই বছর ধরে সামগ্রিকভাবে তৈরি পোশাকের রপ্তানি কমেছে। বিশেষ করে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হওয়া পোশাকের রপ্তানি কমেছে। এসব পণ্যের ক্রয়াদেশ পেতে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা করতে হয়। বিভিন্ন কারণে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ট্রাউজার, টি–শার্ট ও সোয়েটারের মতো পোশাকের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমছে। যে কারণে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ক্রয়াদেশ ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ছাড়া অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমে যায়। তার প্রভাবে গত দুই বছর সেসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩ হাজার ৬১৫ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তার আগের দুই অর্থবছরে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে যথাক্রমে ৪ হাজার ২৬১ ও ৩ হাজার ৮১৪ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক। এমনটা জানা গেছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে।

বিজিএমইএর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট পোশাক রপ্তানির ৩৩ শতাংশই হলো ট্রাউজার। তবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ট্রাউজারের রপ্তানি প্রায় ৪ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৯৩ কোটি ডলারে নেমে যায়। করোনার সময় ২০২০-২১ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের কম ট্রাউজার রপ্তানি হয়েছিল। তারপর ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৫১ এবং ১ হাজার ২৪১ কোটি ডলারের ট্রাউজার রপ্তানি হয়।

সস্তায় টি–শার্ট রপ্তানিতে বাংলাদেশের বেশ সুনাম রয়েছে। ওয়ার্ল্ড টপ এক্সপোর্ট ডট কমের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ৫১ বিলিয়ন ডলারের টি–শার্ট রপ্তানি হয়। সবচেয়ে বেশি টি–শার্ট রপ্তানি করে চীন, যা মোট রপ্তানির ১৭ শতাংশ। তারপরই বাংলাদেশের অবস্থান, যা মোট রপ্তানির ১৫ শতাংশ। তবে ওই বছর কটন টি–শার্ট রপ্তানিতে শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির ২১ শতাংশ হচ্ছে টি–শার্ট। গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ৭৭৩ কোটি ডলারের টি–শার্ট রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের ২০২২–২৩ অর্থবছরের তুলনায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলার কম। এর আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছিল ৯৮৬ কোটি ডলারের টি–শার্ট।

২০২১-২২ অর্থবছরে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সোয়েটার রপ্তানি হয়। পরের দুই বছরই পণ্যটির রপ্তানি কমেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে ৪৮২ কোটি ডলারের সোয়েটার রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বা ১২ কোটি ডলার বেশি।

বিজিএমইএর তথ্যানুযায়ী, শার্ট ও ব্লাউজের রপ্তানি ৮ শতাংশ কমেছে। সর্বশেষ অর্থবছরে ২৯৩ কোটি ডলারের শার্ট ও ব্লাউজ রপ্তানি হয়। তার আগের অর্থবছর রপ্তানি হয়েছিল ৩১৮ কোটি ডলারের শার্ট ও ব্লাউজ।

জানতে চাইলে নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সাধারণত সামগ্রিকভাবে রপ্তানি কমলে যেসব তৈরি পোশাক বেশি রপ্তানি হয়, সেগুলোর রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এখানে আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে টি–শার্ট, ট্রাউজার ও সোয়েটারের মতো তৈরি পোশাক খুবই মূল্য সংবেদনশীল। অর্থাৎ তীব্র প্রতিযোগিতা করে এসব পণ্যের ক্রয়াদেশ পেতে হয়। শ্রমিকের বেতন ও গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং নগদ সহায়তা কমে যাওয়ার কারণে অনেক রপ্তানিকারক পণ্যগুলোর ক্রয়াদেশ নিতে পারছে না। 

ফজলুল হক আরও বলেন, ‘আমরা রপ্তানিমুখী শীর্ষস্থানীয় পোশাকের বিক্রয়াদেশ হারাচ্ছি কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। কারণ, এসব পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে অনেক কারখানা ও লাখ লাখ শ্রমিক জড়িত। তৈরি পোশাক রপ্তানির এই মূল ভিত্তি টিকিয়ে রাখতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ, গ্যাস–বিদ্যুৎসহ যেকোনো মূল্যবৃদ্ধিতে রপ্তানিকারকদের সময় দিতে হবে। যাতে তাঁরা সেই বাড়তি ব্যয় সমন্বয়ের সুযোগ পান।’

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • শীর্ষ তিন পোশাকের রপ্তানি কমছে 
  • সাতক্ষীরার চরম বেকারত্ব ঘুচবে কীভাবে
  • আরও একবার বিশ্বকাপে চুমু মেসির, কী বললেন লাজুক কণ্ঠে
  • এবার রাগবি বিশ্বকাপও চায় সৌদি আরব