টেকনাফে ‘মাদক সেবনে বাধা’ দেওয়ায় গৃহবধূকে ছুরিকাঘাতে হত্যা
Published: 2nd, April 2025 GMT
কক্সবাজারের টেকনাফে ছুরিকাঘাতে এক গৃহবধূকে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর নাম জান্নাত আরা (৩৫)। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালীর পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ আলম বলেন, আজ বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ওরফে লুতিয়া নিজ বাড়িতে মাদক সেবনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ছোট ভাই মোহাম্মদ ইসমাইলের স্ত্রী জান্নাত আরা উঠানে কাপড় শুকাতে দিতে গিয়ে এসব দেখেন, ঈদের সময় মেহমান আসবে তাই মাদক সেবন না করার জন্য বলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছুরি দিয়ে জান্নাতকে উপর্যুপরি আঘাত করেন ইব্রাহিম। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে জান্নাত আরার মৃত্যু হয়।
হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মোজাহেরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ইব্রাহিম পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
যমজ একভাই চোখের সামনে, অন্য ভাই কবরে
যমজ ভাই মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ আর মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ। জন্মের পর তাঁরা ২৫ বছর ৯ মাস ১৪ দিন তাঁরা কমবেশি একসঙ্গে কাটিয়েছেন। পরের দিনটিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মুগ্ধ শহীদ হন।
আরেক যমজ আসিফ হাসান আর রাকিব হাসান। জীবনের প্রায় ২২টি বছর একসঙ্গে কাটিয়েছেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে মাহফুজুর রহমানের (মুগ্ধ) মতো আসিফও শহীদ হন।
জীবনে এবারই প্রথম যমজ ভাইকে ছাড়া ঈদ করলেন স্নিগ্ধ ও রাকিব। এই দুই পরিবারের সদস্যদের কষ্টটা যেন একটু বেশি; যমজ একজন চোখের সামনে থাকলেও আরেকজন নেই।
গণ–অভ্যুত্থান চলাকালে গত বছরের ১৮ জুলাই রাজধানীর উত্তরার আজমপুরে মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর কপালে গুলি লাগে। স্বজনদের মধ্যে ভাই স্নিগ্ধ হাসপাতালে গিয়ে মুগ্ধর মরদেহ প্রথম দেখেন। ওই দিন অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া মানুষজনের মধ্যে পানি বিতরণ করছিলেন মুগ্ধ। পানির কেস হাতে নিয়ে ‘কারও পানি লাগবে, পানি, পানি...’ বলছিলেন মুগ্ধ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়।
মুগ্ধর আগে জন্ম স্নিগ্ধর। মুগ্ধর চোখের নিচে একটি ছোট তিল আর শারীরিক গড়নে একটু হালকা–পাতলা—এই পার্থক্য ছাড়া দুজনের চেহারায় ছিল দারুণ মিল।
মুগ্ধ ২০২৩ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে স্নাতক শেষ করেন। ঢাকায় ফিরে এমবিএ পড়তে ভর্তি হয়েছিলেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি)। পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করে আয়ও করতেন।