চট্টগ্রামে মূল শহর থেকে কিছুটা দূরে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত। বছরজুড়ে এই সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে আসেন শহর ও আশপাশের এলাকার লোকজন। দর্শনার্থীদের মধ্যে থাকেন বাইরের জেলার মানুষও। বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামে সৈকতে। ঈদের আনন্দ উদ্‌যাপনে সময় কাটাতে সমুদ্র দেখতে হাজির হন হাজারো মানুষ। সকাল থেকে বিকেল, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত পর্যন্ত মানুষের উপস্থিতিতে মুখর সৈকত এলাকা।

আজ বুধবারও এই চিত্রের পরিবর্তন হয়নি। ঈদের দিন বিকেল থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আসতে শুরু করেন নানা শ্রেণি-পেশার বিভিন্ন বয়সের মানুষ। আজও পর্যটকের ভিড় লেগেই ছিল।

সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের দল বেঁধে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অনেকেই সৈকতের বালুচরে নেমে সমুদ্রে স্নান করেন। কেউ কেউ স্পিডবোটে চড়েন।

চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে কলেজপড়ুয়া ছয় বন্ধু আজ বিকেলে এসেছিলেন বেড়াতে। তাঁদের একজন সালেহ নকীব। তিনি বলেন, ঈদের সময় লম্বা ছুটি পাওয়া যায়। বন্ধুরাও গ্রামে আসেন। সবাই মিলে প্রতিবছর ঈদে একেক জায়গায় বেড়াতে যান। এবার অবশ্য বেশি দূরে যাননি। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে এসেছেন।

নগরের সাগরিকা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত আউটার রিং রোড এবং পতেঙ্গায় কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের পর এই এলাকার আগের চেনা পরিবেশ পাল্টে গেছে। বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে নির্মিত আউটার রিং রোডের পাশে এলাকাও দর্শনার্থীদের ঘুরে বেড়ানোর জায়গায় পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে এসেছিলেন চাকরিজীবী শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, এবার ঈদে লম্বা ছুটি মিলেছে। তাই ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে এখানে বেড়াতে এসেছেন। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, টানেল ঘুরে দেখেছেন। তাঁদের ছোটবেলার সঙ্গে এখনকার সৈকতের পরিবেশ অনেক পাল্টে গেছে।

ঈদের দিন সোমবার থেকে বুধবার পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় এক লাখের বেশি মানুষ ঘুরতে এসেছেন বলে জানান পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটিতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে মানুষের ঢল নেমেছে। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে এসেছেন হাজার হাজার মানুষ। বিপুলসংখ্যক পর্যটক এলেও কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেনি। শুরু থেকে তাঁরা তৎপর ছিলেন।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে তিনটি পার্ক বন্ধ হয়ে যায়। আগ্রাবাদ, কাজীর দেউড়ি ও বহদ্দারহাট এলাকার এই তিনটি পার্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের চাপ বেড়ে গেছে চালু থাকা বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ফয়’স লেক, কর্ণফুলী নদীর তীরেও ঘুরতে বের হওয়া মানুষের জমজমাট উপস্থিতি ছিল। চিড়িয়াখানায় তিন দিনে ৪০ হাজারের মতো মানুষ ঘুরতে এসেছিলেন। চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের বেশি আগ্রহ ছিল বাঘ, সিংহ, হরিণ, বানর নিয়ে। এসব প্রাণীর খাঁচার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই ছিল। পশুপাখি দেখতে শিশু-কিশোরদের আগ্রহই বেশি চোখে পড়েছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, এবার ঈদের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ ছিল। তিন দিনে ৪০ হাজারের বেশি মানুষ ঘুরতে এসেছেন। ঈদের ছুটি এখনো শেষ হয়নি। আশা করছেন, আগামী দু-তিন দিন এই ভিড় থাকবে।

চিড়িয়াখানার পাশেই রয়েছে ফয়’স লেক। সেখানেও দর্শনার্থীদের ভিড় লেগে ছিল। এখানে তিনটি অংশ রয়েছে—ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট, সি ওয়ার্ল্ড ও বেজক্যাম্প। সবখানে মানুষের সরব উপস্থিতি। সি ওয়ার্ল্ডের সুইমিংপুলে শত শত মানুষ আনন্দে মেতেছেন। নানা বয়সী মানুষ মেতে উঠেছেন জলকেলিতে। পার্কের রাইডগুলোতেও চড়ে বসেছে অনেক শিশু-কিশোর।

ফয়’স লেক কমপ্লেক্সের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কনকর্ডের ব্যবস্থাপক (বিপণন) বিশ্বজিৎ ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, এবার নতুন করে ছয়টি রাইড যুক্ত করা হয়েছে। এতে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: এস ছ ন স কত র

এছাড়াও পড়ুন:

খুলনায় বিদেশি পিস্তল, শটগান ও গুলিসহ আটক ২

খুলনা নগরীতে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি শটগান, আট রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও সাত রাউন্ড শটগানের গুলিসহ ফারুক হোসেন ও খাইরুল সরদার নামে দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ভোররাতে নগরীর রায়েল মহল এলাকা থেকে এগুলো উদ্ধার করা হয়। সেসময় ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হরিণটানা থানার ওসি খায়রুল বাশার।

কেএমপির অতিরিক্ত উপ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আহসান হাবীব জানান, হরিণটানা থানা পুলিশ বুধবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে জানতে পারে যে, দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্য গোলা-গুলি হয়। এতে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। হরিণটানা থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে জনৈক খাইরুল সরদারকে (২৭) সনাক্ত করে।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা যায়, হরিণটানা থানাধীন বাঙ্গালবাড়ি এলাকায় তাদের দুই গ্রুপের মধ্য গোলা-গুলি হয় এবং অস্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় তার হাতে থাকা পিস্তলের গুলি অসর্তকতার কারণে ফায়ার হয়ে তার বাম হাতের তালুতে লেগে জখম হয়। সে সন্ত্রাসী ফারুক হোসেনের গ্রুপে ছিল। তখন তাকে নিয়ে পুলিশ ৩ এপ্রিল সকাল থেকে বাঙ্গালীবাড়ি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। 

গুলিবিদ্ধ খাইরুল অস্ত্র বিক্রেতা ফারুক হোসেনের বাড়ি দেখিয়ে দিলে ফারুক হোসেনের বাড়ি তল্লাশী করা হয়। এ সময় ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তার কাছে অস্ত্র আছে বলে স্বীকার করে। এক পর্যায়ে তার নির্দেশনায় রান্না ঘরে থাকা জ্বালানি কাঠের স্তুপের মধ্য থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, তার বসত ঘরের মধ্য থাকা টিনের বাক্সে রাখা একটি শটগান এবং শটগানের সাত রাউন্ড কার্তুজ, ঘরের ভেতরের দেয়ালের উপর থেকে পিস্তলের আট রাউন্ড তাজা গুলি এবং এক রাউন্ড এমটি কার্তুজ ও তার বসত ঘরের খাটের নিচ থেকে একটি বড় রামদা উদ্ধার করা হয়। 

সেইসাথে অবৈধ অস্ত্র বেচাকেনার কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত শটগান পুলিশের লুণ্ঠিত অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বিভিন্ন সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ এবং দুস্কৃতকারীদের কাছে অবৈধ অস্ত্র কেনাবেচা করে বলে স্বীকার করে। খাইরুলের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। অভিযান অব্যহত রয়েছে।

ঢাকা/নুরুজ্জামান/এস

সম্পর্কিত নিবন্ধ