চলতি বছরের মার্চে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ২৯৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে রাজনৈতিক বিষয়ে। এ–সংক্রান্ত ১০৫টি ভুল তথ্য ছড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা মোট ভুল তথ্যের ৩৫ শতাংশ। এ ছাড়া জাতীয় বিষয়ে ১০৩টি, আন্তর্জাতিক বিষয়ে ১২টি, ধর্মীয় বিষয়ে ৩৬টি, বিনোদন ও সাহিত্য বিষয়ে ৩টি, শিক্ষা বিষয়ে ৩টি, প্রতারণা বিষয়ে ১২টি এবং খেলাধুলা বিষয়ে ১৬টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়েছে মার্চে।

বুধবার রিউমর স্ক্যানার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর আগে গত জানুয়ারিতে ২৭১টি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২৬৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওকেন্দ্রিক ভুল তথ্য সবচেয়ে বেশি ছড়ানো হয়েছে। ২৯৮টি ভুল তথ্যের মধ্যে ১৪৩টি ভিডিওকেন্দ্রিক। এ ছাড়া তথ্যকেন্দ্রিক ভুল ছিল ১১০টি এবং ছবিকেন্দ্রিক ভুল ছিল ৪৫টি। শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যগুলোর মধ্যে মিথ্যা হিসেবে ১৬৮টি, বিভ্রান্তিকর হিসেবে ৯৭টি এবং বিকৃত হিসেবে ৩১টি ঘটনাকে সাব্যস্ত করা হয়েছে। প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গত মাসে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, সংখ্যার হিসাবে যা ২৭৩টি। এ ছাড়া এক্সে ৬২টি, টিকটকে সাতটি, ইউটিউবে ৪৪টি, ইনস্টাগ্রামে ২৬টি, থ্রেডসে অন্তত পাঁচটি ভুল তথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে। ভুল তথ্য প্রচারের তালিকা থেকে বাদ যায়নি দেশের গণমাধ্যমও। ১৬টি ঘটনায় দেশের একাধিক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।

গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে রিউমর স্ক্যানার। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, গেল মার্চেও এই ধারাবাহিকতা দেখেছে তারা। গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমে চারটি ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে ভুয়া তথ্যের প্রচার করা হয়েছে।

সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচারের বিষয়টি গেল কিছু মাস ধরেই আলোচনায় রয়েছে। মার্চে এমন ২৬টি সাম্প্রদায়িক অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এর মধ্যে অর্ধেক ঘটনাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

রিউমর স্ক্যানার টিমের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গেল মাসে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে জড়িয়ে ১৫টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ভুল তথ্যগুলোর ধরন বুঝতে এগুলোকে রিউমর স্ক্যানার দুটি আলাদা ভাগে ভাগ করেছে সরকারের পক্ষে যায় এমন ভুল তথ্যের প্রচারকে ইতিবাচক এবং বিপক্ষে যায় এমন অপতথ্যের প্রচারকে নেতিবাচক হিসেবে ধরে নিয়ে রিউমর স্ক্যানার দেখেছে, এসব অপতথ্যের সবগুলোই সরকারের বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ রেখেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টাদের নিয়েও ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে উল্লেখ করে রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্চে ২২টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে। এর মধ্যে মাত্র ৭৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই এসব অপতথ্য তাঁর বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ রেখেছে।

অন্যদিকে ২৩ শতাংশ ক্ষেত্রে ভুল তথ্যগুলো তাঁর পক্ষে যাওয়ার সুযোগ রেখেছে। সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে জড়িয়ে দুটি (সবগুলোই বিপক্ষে), সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে), আসিফ নজরুলকে জড়িয়ে চারটি (সবগুলোই বিপক্ষে), সালেহউদ্দিন আহমেদকে জড়িয়ে দুটি (সবগুলোই বিপক্ষে), মো.

তৌহিদ হোসেনকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে উল্লেখ করে রিউমর স্ক্যানার তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রিউমর স্ক্যানার গেল মাসের ফ্যাক্টচেকগুলো বিশ্লেষণে দেখেছে, এই সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে (৭) জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। এসব ভুল তথ্যের ৮৬ শতাংশই দলটির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করার সুযোগ রেখেছে।

দলটির আমির শফিকুর রহমানকে জড়িয়ে এই সময়ে দুটি অপতথ্য (সবগুলোই বিপক্ষে) প্রচারের প্রমাণ মিলেছে। দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে এই সময়ে ছয়টি (সবগুলোই বিপক্ষে) অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) জড়িয়ে গত মাসে চারটি (৭৫ শতাংশই বিপক্ষে) ভুল তথ্যের প্রচার দেখেছে রিউমর স্ক্যানার। এই সময়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি (পক্ষে) এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে দুটি (সবগুলোই পক্ষে) ভুল তথ্যের প্রচার করা হয়েছে।

দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলকে জড়িয়ে এই সময়ে চারটি (সবগুলোই বিপক্ষে) অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে ছয়টি অপতথ্য (৮৩ শতাংশই পক্ষে) শনাক্ত করা হয়েছে। মার্চে দলটির ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে জড়িয়ে প্রচার হওয়া একটি ভুল তথ্য (পক্ষে) শনাক্ত করা হয়েছে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে এই সময়ে ৩৩টি ভুল তথ্য (৮৫ শতাংশই পক্ষে) প্রচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীরা সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। দলটিকে জড়িয়ে গত মাসে দুটি অপতথ্য (সবগুলোই বিপক্ষে) শনাক্ত করা হয়েছে। এই দলের শীর্ষ পদ অর্থাৎ আহ্বায়ক পদে রয়েছেন নাহিদ ইসলাম। তাঁকে জড়িয়ে গত মাসে চারটি (সবগুলোই বিপক্ষে) অপতথ্যের প্রচার করা হয়েছে গত মাসে। এ ছাড়া দলটির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে জড়িয়ে ছয়টি (সবগুলোই বিপক্ষে), সারজিস আলমকে জড়িয়ে তিনটি (সবগুলোই বিপক্ষে), তাসনিম জারাকে জড়িয়ে চারটি (সবগুলোই বিপক্ষে), হুমায়রা নুরকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে), আব্দুল হান্নান মাসউদকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) অপতথ্য প্রচার দেখা গেছে।

ভুল তথ্যের রোষানল থেকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোও রক্ষা পায়নি উল্লেখ করে রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গেল মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জড়িয়ে সাতটিসহ এই বাহিনীকে জড়িয়ে ২৩টি ভুল তথ্য প্রচার দেখেছে রিউমর স্ক্যানার। গত বছরের আগস্ট পরবর্তী সময়ে একক মাস হিসেবে এটিই সেনাবাহিনীকে জড়িয়ে সর্বোচ্চ শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যের সংখ্যা। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের বিষয়ে ছড়ানো তিনটি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার। এর বাইরে র‌্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে জড়িয়ে একটি করে ভুয়া তথ্যের প্রচার ছিল মার্চে।

কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতনের সময়টায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ফেব্রুয়ারিতে তিনটি অপতথ্যের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে সংগঠনটির মুখপাত্র উমামা ফাতেমাকে জড়িয়ে একটি অপতথ্য প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।

গেল মাসের ভুল তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে রিউমর স্ক্যানার দেখেছে, বিভিন্ন অঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে গত মাসে ১৭টি মৃত্যুর গুজব প্রচার করা হয়েছে। মার্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত হয়েছে নয়টি। একই সময়ে ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে পাঁচটি।

মার্চে ধর্ষণ–সম্পর্কিত খবর এবং এ–সংক্রান্ত তথ্য, ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে প্রচার বেড়ে যাওয়ার ঘটনা লক্ষ করা যায় বলে উল্লেখ করা হয় রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মার্চ মাসের মানবাধিকার প্রতিবেদনেও দাবি করা হচ্ছে, মার্চ মাসে দেশে ধর্ষণের সংখ্যা গত ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এর ফলে জনমনে শঙ্কার অবকাশের সুযোগ নিয়ে অপতথ্যের প্রচার ছিল গত মাসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রিউমর স্ক্যানার গেল মাসে ধর্ষণবিষয়ক অন্তত ২৭টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে একক ঘটনা হিসেবে মাগুরায় আট বছরের এক শিশুর ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আটটি ভুয়া তথ্য শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার।

গেল মাসে রমজান এবং ঈদ উদ্‌যাপন করেছে এ দেশের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা। এই দুটি বিষয়কে ঘিরে যথাক্রমে ১৬টি ও ছয়টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

গত মাসে গণমাধ্যমের নাম, লোগো, শিরোনাম এবং নকল ও ভুয়া ফটো কার্ড ব্যবহার করে ৩৮টি ঘটনায় দেশি ও বিদেশি ৩৯টি সংবাদমাধ্যমকে জড়িয়ে ৪৫টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় রিউমর স্ক্যানারের প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়, এই পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করে ভুল তথ্য প্রচারে মূলধারার গণমাধ্যম যমুনা টিভির নাম সবচেয়ে বেশি (১০) ব্যবহার করা হয়েছে। গণমাধ্যমটির পর জনকণ্ঠ (৫) ও আমার দেশ (৪)–এর নাম বেশি ব্যবহার করা হয়েছে।

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র উমর স ক য ন র গ ল ম স ব যবহ র কর অপতথ য র র জন ত ক সরক র র উপদ ষ ট গত ম স স গঠন দলট র ইসল ম সবচ য ঘটন য

এছাড়াও পড়ুন:

মার্চে ইন্টারনেটে ২৯৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার

গত মার্চ মাসে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ২৯৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার।

বুধবার (২ এপ্রিল) রিউমার স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রিউমার স্ক্যানার জানায়, গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে যথাক্রমে ২৭১ ও ২৬৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

রিউমর স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে গত মার্চে প্রকাশিত ফ্যাক্টচেকের তথ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিষয়ে সবচেয়ে বেশি ১০৫টি ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ মিলেছে, যা মোট ভুল তথ্যের ৩৫ শতাংশ। জাতীয় বিষয়ে ১০৩টি, আন্তর্জাতিক বিষয়ে ১২টি, ধর্মীয় বিষয়ে ৩৬টি, বিনোদন ও সাহিত্য বিষয়ে তিনটি, শিক্ষা বিষয়ে তিনটি, প্রতারণা বিষয়ে ১২টি, খেলাধুলা বিষয়ে ১৬টি ভুল তথ্য ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধানে শনাক্ত হয়েছে মার্চে।

রিউমার স্ক্যানার জানায়, এসব ঘটনায় ভিডিও-কেন্দ্রিক ভুল ছিল সবচেয়ে বেশি ১৪৩টি। তথ্যকেন্দ্রিক ভুল ছিল ১১০টি এবং ছবিকেন্দ্রিক ভুল ছিল ৪৫টি। শনাক্ত হওয়া ভুল তথ্যগুলোর মধ্যে মিথ্যা হিসেবে ১৬৮টি, বিভ্রান্তিকর হিসেবে ৯৭টি এবং বিকৃত হিসেবে ৩১টি ঘটনাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

রিউমার স্ক্যানার জানায়, প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গত মাসে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি ২৭৩ টি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। এছাড়া, এক্সে ৬২টি, টিকটকে সাতটি, ইউটিউবে ৪৪টি, ইন্সটাগ্রামে ২৬টি, থ্রেডসে অন্তত পাঁচটি ভুল তথ্য প্রচারের প্রমাণ মিলেছে। ভুল তথ্য প্রচারের তালিকা থেকে বাদ যায়নি দেশের গণমাধ্যমও। ১৬টি ঘটনায় দেশের একাধিক গণমাধ্যমে ভুল তথ্য প্রচার শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার।

গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম এবং ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে জড়িয়ে ভুয়া তথ্য প্রচারের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চেও এর ধারাবাহিকতা দেখেছে রিউমার স্ক্যানার।

রিউমার স্ক্যানারের অনুসন্ধান টিম জানায়, গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমে চারটি ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। তিনটি ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে ভুয়া তথ্য প্রচার করা হয়েছে। সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচারের বিষয়টি গত কিছু মাস ধরেই আলোচনায় আছে। মার্চে এমন ২৬টি সাম্প্রদায়িক অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। এর মধ্যে অর্ধেক ঘটনাতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে অপতথ্য প্রচারের প্রমাণ পেয়েছে ফ্যাক্ট চেকের অনুসন্ধান দল।

রিউমার স্ক্যানারের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মার্চে অন্তর্বর্তী সরকারকে জড়িয়ে ১৫টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে। ভুল তথ্যগুলোর ধরণ বুঝতে এগুলোকে রিউমার স্ক্যানার দুটি ভাগে ভাগ করেছে৷ সরকারের পক্ষে যায় এমন ভুল তথ্যের প্রচারকে ইতিবাচক এবং বিপক্ষে যায় এমন অপতথ্যের প্রচারকে নেতিবাচক হিসেবে ধরে নিয়ে রিউমার স্ক্যানার দেখেছে, এসব অপতথ্যের সবগুলোই সরকারের বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ রেখেছে।

মার্চে ২২টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে। এর মধ্যে মাত্র ৭৭ শতাংশ ক্ষেত্রেই এসব অপতথ্য তার বিপক্ষে যাওয়ার সুযোগ রেখেছে বলে অনুসন্ধান দল জানিয়েছে।

সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জড়িয়ে দুটি, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জড়িয়ে একটি, ড. আসিফ নজরুলকে জড়িয়ে চারটি, ড. সালেহউদ্দিন আহমেদকে জড়িয়ে দুটি, মো. তৌহিদ হোসেনকে জড়িয়ে একটি এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে জড়িয়ে একটি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার।

ফ্যাক্ট চেক টিম জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জড়িয়ে গত মাসে দুটি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। এই দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জড়িয়ে গত মাসে চারটি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। দলটির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে জড়িয়ে ছয়টি, সারজিস আলমকে জড়িয়ে তিনটি, তাসনিম জারাকে জড়িয়ে চারটি, হুমায়রা নুরকে জড়িয়ে একটি, আব্দুল হান্নান মাসউদকে জড়িয়ে একটি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার।

ভুল তথ্যের রোষানল থেকে রক্ষা পায়নি রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোও। মার্চে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জড়িয়ে সাতটিসহ এই বাহিনীকে জড়িয়ে ২৩টি ভুল তথ্য প্রচার শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। বাংলাদেশ পুলিশের বিষয়ে ছড়ানো তিনটি, র‌্যাব ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে জড়িয়ে একটি করে ভুয়া তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার।

রিউমার স্ক্যানার ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান টিম জানায়, কোটা আন্দোলন থেকে সরকার পতনের সময়টায় সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠন ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ফেব্রুয়ারিতে তিনটি অপতথ্যের শিকার হয়েছে। এই সময়ে সংগঠনটির মুখপাত্র উমামা ফাতেমাকে জড়িয়ে একটি অপতথ্য প্রচার শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার।

ভুল তথ্যগুলো বিশ্লেষণ করে রিউমার স্ক্যানার দেখেছে, বিভিন্ন অঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্চে ১৭টি মৃত্যুর গুজব প্রচার করা হয়। মার্চে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্ট শনাক্ত হয়েছে নয়টি। একই সময়ে ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা হয় পাঁচটি।

রিউমার স্ক্যানার গত মাসে ধর্ষণবিষয়ক অন্তত ২৭টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে একক ঘটনা হিসেবে মাগুরায় আট বছরের এক শিশুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আটটি ভুয়া তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। রমজান এবং ঈদ পালনকে ঘিরে ২২টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। গণমাধ্যমের নাম, লোগো, শিরোনাম এবং নকল ও ভুয়া ফটোকার্ড ব্যবহার করে ৩৮টি ঘটনায় দেশি ও বিদেশি ৩৯টি সংবাদমাধ্যমকে জড়িয়ে ৪৫টি ভুল তথ্য প্রচার শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানারের ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান দল।

ঢাকা/হাসান/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • মার্চে ইন্টারনেটে ২৯৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার