ত্রাণবাহী গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছে মিয়ামারের সেনারা। বিষয়টি ভূমিকম্পের পর বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে ত্রাণ সরবরাহকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছে রয়টার্স। 

২০২১ সালে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নির্বাচিত বেসামরিক সরকারের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার পরিচালনা করতে সেনাবাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অর্থনীতি এবং স্বাস্থ্যসেবা সহ মৌলিক পরিষেবাগুলো ভেঙে গেছে।

জান্তার মুখপাত্র জাও মিন তুন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে চীনা রেড ক্রস জানায়নি যে তারা একটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে রয়েছে। স্থানীয় যানবাহনসহ কনভয়টি থামাতে ব্যর্থ হওয়ার পরে একটি নিরাপত্তা দল ফাঁকা গুলি চালায়। 

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিযেছেন, ত্রাণবাহী দল ও সরবরাহ নিরাপদে রয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মিয়ানমারের সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “ত্রাণ তৎপরতার জন্য পরিবহন রুট খোলা ও বাধাহীন রাখা জরুরি।”

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবারের ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৮৮৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ৪ হাজার ৬৩৯ জন আহত হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ জানিয়েছে, সাগাইং অঞ্চলের গ্রামীণ অংশগুলো বেশিরভাগই সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলির নিয়ন্ত্রণে।

গ্রুপটি এক বিবৃতিতে বলেছে, “সরকারি বিধিনিষেধ, স্থানীয় প্রশাসনের জটিল বিন্যাস ও সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণ এবং ক্রমাগত সংঘাতের কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জন্য ত্রাণ পৌঁছানো সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং হবে।”

সাগাইং ভ্রমণকারী একজন ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেছেন, “শহরের সর্বত্র সেনা রয়েছে। তারা নিরাপত্তার জন্য আছে, উদ্ধারের জন্য নয়। তারা প্রতিটি যানবাহন তল্লাশি করে।”

নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জান্তা সরকারকে মানবিক সাহায্যের জন্য অবাধ প্রবেশাধিকার দেওয়ার এবং সাহায্য সংস্থাগুলোকে বাধা প্রদানের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ঢাকা/শাহেদ

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর র জন য সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

নিহত বেড়ে ৩০০৩, ত্রাণ সরবরাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা জান্তার  

মিয়ানমারে ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা তিন হাজার তিন-এ দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩৯ জন আহত এবং ৩৭৩ জন নিখোঁজ হয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের সময় মসজিদে অবস্থানকারী সাত শতাধিক মুসল্লি নিহত হয়েছেন। দুর্যোগে দুর্গম এলাকায় জরুরি ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পে থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে এখন ২২। দেশটিতে শত শত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৭২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। খবর আলজাজিরার। 

শুক্রবার মান্দালয়ের কাছে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটির অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে; লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্তু। ভূমিকম্পবিধ্বস্ত অনেক এলাকায় আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে বলে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো। তারা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে সরকারি সহযোগিতা চাওয়ার পর বুধবার মিয়ানমারের জান্তা ২০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্র পরিচালিত সংবাদমাধ্যম এমআরটিভি। 

ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতায় সহায়তা করতে এ যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে জানিয়ে বিদ্রোহীরা হামলা চালালে পাল্টা ‘যথোপযুক্ত ব্যবস্থা’ নেওয়ারও হুমকি দিয়েছে জান্তা। ভূমিকম্পের পর দেশটিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকরে আন্তর্জাতিক মহলের ব্যাপক চাপ ছিল। মঙ্গলবার বিদ্রোহীদের বড় একটি জোট থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সও এক মাসের একতরফা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছিল। 

এদিকে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার বরাত দিয়ে বলা হয়, দেশটিতে চীনা দূতাবাসের ত্রাণ প্রচেষ্টায় সহায়তা করার জন্য স্থানীয় রেড ক্রসকে ১৫ লাখ ইউয়ান (২,০৬,৬৮৫ ডলার) মূল্যের নগদ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। চীনা রেড ক্রসের একটি ত্রাণবহরে মিয়ানমার জান্তার গুলির ঘটনাও ঘটেছে। বিবিসি বলছে, মঙ্গলবার রাতে ভূমিকম্পকবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে আসা একটি দলের ওপর মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গুলি চালায়। 

মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর দাবি, গুলির ঘটনাটি সতর্কতামূলক ছিল। গাড়িবহরটি এ অঞ্চল দিয়ে যাবে, তা তাদের জানানো হয়নি। বহরটি থামানোর জন্য গুলি চালানো হয়, তবে কেউ আহত হয়নি। 

ভূমিকম্পে ছয়টি অঞ্চলের ২ কোটি ৮০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে খাদ্য, আশ্রয়, পানি, স্যানিটেশন, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও অন্যান্য পরিষেবার জন্য জরুরি তহবিলে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। 

 বুধবারও মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে একটি হোটেলের ধ্বংসাবশেষ থেকে একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। যেসব অঞ্চলে বিদ্রোহীদের সঙ্গে জান্তার লড়াই চলছে, সেসব অঞ্চলে ত্রাণ সহায়তা চ্যালেঞ্জের মুখে। 

রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ভূমিকম্প জান্তাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের জন্য কূটনৈতিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে। ভূমিকম্পের ফলে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা ত্রাণ সহায়তা পাঠানোয় কূটনৈতিক কার্যক্রম ফের শুরু হয়েছে। 

থাই কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মিন অং হ্লাইং কাল শুক্রবার ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে (৩-৪ এপ্রিল) যোগ দেবেন। সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো হলো– বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড। 

ভূমিকম্পের পর জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাইং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে কথা বলেন। এসব দেশ থেকে লাখ লাখ ডলার সহায়তা ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে। শত শত উদ্ধারকর্মী মিয়ানমারে পৌঁছেছেন।     

২০২১ সালের অভ্যুত্থানে সৃষ্ট সংঘাতের ফলে জান্তা সরকার কূটনৈতিকভাবে ক্রমাগত তাদের অবস্থান হারিয়ে ফেলে। যুদ্ধ পরিস্থতি সৃষ্টির ফলে মিন অং হ্লাইংয়ের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়। 
 

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • শরীয়তপুরের এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চাই
  • নিহত বেড়ে ৩০০৩, ত্রাণ সরবরাহে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা জান্তার  
  • আজ যেসব এলাকায় ১২ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে
  • ক্রেতা ৭০ টাকায় লেবু খাবেন না, এর কমে বেচলে বিক্রেতার লাভ হবে না
  • ফিলিস্তিনিরা হামাসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবেন?
  • বিশ্ববাজারে সোনার দামের নতুন রেকর্ড
  • এপ্রিলেও একই থাকছে জ্বালানি তেলের দাম
  • রামুতে গোলাগুলিতে এক ব্যক্তি নিহত, অস্ত্র উদ্ধার
  • জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত