রিয়ালে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যা বললেন ব্রাজিলিয়ান তারকা
Published: 2nd, April 2025 GMT
কোপা দেল রের শ্বাসরুদ্ধকর সেমিফাইনালে রিয়াল সোসিয়েদাদকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুই লেগ মিলিয়ে ৫-৪ গোলের উত্তেজনাপূর্ণ জয়ে শিরোপার আরও কাছাকাছি পৌঁছেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ব্রাজিলিয়ান তরুণ তারকা এনড্রিক, যিনি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ফিরতি লেগে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ম্যাচের ফলাফল ছিল ৪-৪। অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করেন আন্তোনিও রুডিগার। ১১৫ মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডারে দলকে ফাইনালে পৌঁছে দেন তিনি। তবে ম্যাচে অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত ছিল এনড্রিকের গোল। ৩০ মিনিটে দুর্দান্ত এক শটে সমতায় ফেরান এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড। এই গোলেই ২০১৩ সালের পর থেকে টুর্নামেন্টটির এক আসরে পাঁচ গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হলেন এনড্রিক। এটি শেষবার করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ম্যাচ শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখ খুলেছেন এনড্রিক। যেকোনো ধোঁয়াশা দূর করে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদেই থাকতে চান। তিনি বলেন, ‘আমি রিয়াল মাদ্রিদকে ভালোবাসি! এখানে থাকতে ভালো লাগে, এই ক্লাব আমার স্বপ্ন। আমি এখানে শিখতে, উন্নতি করতে এবং সেরা পারফরম্যান্স দিতে এসেছি। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চাই এবং সারাজীবন এখানে থাকতে চাই।’
রিয়ালের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবে খেলার চ্যালেঞ্জের বিষয়েও সচেতন এনড্রিক। দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপ্পে, রদ্রিগো এবং জুড বেলিংহামের মতো তারকারা থাকায় প্রতিযোগিতা বেশ কঠিন হবে বলেই মনে করছেন তিনি।
এনড্রিক বলেন, ‘আমাকে প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এখানে খেলা কঠিন, কারণ বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা এখানে আছে। তবে সুযোগ পেলে গোল করেই নিজের মূল্য প্রমাণ করতে হবে। আজকের ম্যাচে নিজের ষষ্ঠ গোল করতে পেরে এবং দলকে সাহায্য করতে পেরে আমি আনন্দিত।’
এনড্রিক আরও যোগ করেন, ‘ভিনিসিয়ুস, এমবাপ্পে, রদ্রিগো, বেলিংহাম—চারজনই বিশ্বসেরা খেলোয়াড়। আমি তো কিছুই না। আমি এখানে কঠোর পরিশ্রম করতে এসেছি। কে শুরু করবে, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, দল জিতলেই আমি খুশি।’
কোপা দেল রের ফাইনালে উঠায় রিয়াল মাদ্রিদের এখন নজর লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগের লড়াইয়ে। আগামী ৫ এপ্রিল লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির দল। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে প্রতিপক্ষ আর্সেনাল। কঠিন প্রতিযোগিতার মাঝে ফর্ম ধরে রাখতে মরিয়া থাকবে রিয়াল মাদ্রিদ।
.উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: এনড র ক এনড র ক ফ ইন ল
এছাড়াও পড়ুন:
উৎসবেও কেন আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া জরুরি
আঁশসমৃদ্ধ খাবারের সবচেয়ে বড় উপকারিতা হলো, এসব খাবার খেলে রক্তের খারাপ চর্বির মাত্রা কমে যায়। উৎসবের সময় এক দিকে থাকে ভারী খাবারদাবারের আয়োজন, আবার অনেকেই এ সময় শরীরচর্চা করেন না। লম্বা ছুটিতে এমন জীবনধারা বেছে নিলে কিন্তু রক্তে খারাপ চর্বির মাত্রা বাড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। তাই এ সময় আঁশসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা দারুণ অভ্যাস। সঙ্গে একআধটু শরীরচর্চা করতে পারলে তো খুবই ভালো হয়। তিনবেলা খাওয়ার পর ১০ মিনিট করেই নাহয় হাঁটুন। সুস্থ থাকবেন।
এ সময় আঁশের আরও উপকারিতা
আঁশসমৃদ্ধ খাবার পেটের জন্য ভালো। উৎসব-আয়োজনে জম্পেশ খাওয়াদাওয়ার পর পেটের পীড়ায় ভোগেন অনেকেই। এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে আঁশসমৃদ্ধ খাবার। আমাদের অন্ত্রে স্বাভাবিকভাবেই যেসব উপকারী জীবাণু থাকে, সেসবের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে খাবারের আঁশ। ফলে বাড়ে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা। তাতে পেটের পীড়ার ঝুঁকি কমে যায়। পর্যাপ্ত আঁশ গ্রহণ করলে কোষ্টকাঠিন্য এড়ানো সহজ হয়। আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে বেশ লম্বা সময় ক্ষুধাও লাগে না। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে আঁশসমৃদ্ধ খাবার।
আরও পড়ুনআপনিও কি খাওয়ার পরে গ্যাসের ওষুধ খান? ১৫ আগস্ট ২০২৪কী খাবেন, কী এড়িয়ে চলবেন
নানান রকম ফলমূল এবং সবজি খাবেন। ফলের রসের চেয়ে গোটা বা টুকরা করা ফল ভালো। যেসব খোসা সমেত খেতে পারবেন, সেসবের খোসা ফেলবেন না। অন্তত একবেলা শাক খাওয়া ভালো। নানান ধরনের ডাল, বীজ, বাদাম প্রভৃতি খেতে পারেন। রিফাইনড বা পরিশোধিত শস্যের চেয়ে গোটা শস্যে বেশি আঁশ থাকে। লাল চাল বা লাল আটা বেছে নিতে পারেন। একবেলা হয়তো ওটস দিয়ে মজার কিছু তৈরি করে খেলেন। ইনস্ট্যান্ট নুডলস-জাতীয় প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া উচিত। আঁশ যেমন খাবেন, পর্যাপ্ত পানিও খাবেন রোজ।
কতটা খাবেন আঁশ
রোজ একজনের গড়ে ২৮-৩৪ গ্রাম আঁশ প্রয়োজন। এতটা আঁশ কিন্তু রোজকার জীবনে অনেকেই গ্রহণ করেন না। তাই আঁশের মাত্রা বেশি হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আদতে খুবই কম। ধরুন, আপনি ১০০ গ্রাম সবজি বা ফল খেলেন। এর ১০০ গ্রামই তো আর আঁশ নয়। সবজি বা ফলভেদে প্রতি ১০০ গ্রামের জন্য কিছু পরিমাণ আঁশ পাবেন আপনি। একেবারে গুগল থেকে আঁশের মাত্রা খুঁজে বের করে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে খেতে হবে, তা কিন্তু নয়। খানিকটা কমবেশি হলে কোনো ক্ষতি নেই। চেষ্টা করুন আঁশ একটু বেশিই গ্রহণ করতে। তবে কেউ যদি একেবারে অতিরিক্ত আঁশ গ্রহণ করে ফেলেন, তাহলে অবশ্য তাঁর অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানার মতো কিছু সমস্যা হতে পারে।
আরও পড়ুনঅতিরিক্ত খেয়ে পেট ফাঁপলে উপায় কী?১৭ জুন ২০২৪উৎসবের পরও
উৎসবের পরও আঁশ খাওয়ার অভ্যাস বজায় রাখুন। উপকার মিলবে। রক্তের খারাপ চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোকের ঝুঁকি কমবে। তাই আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাবেন রোজ। তাতে প্রদাহের ঝুঁকিও কিন্তু কমে। ডায়াবেটিস এবং ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে। গবেষণা এমনটাও জানাচ্ছে, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খেলে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি কমে।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল
আরও পড়ুনকী খেলে আঁশ পাবেন২০ জানুয়ারি ২০১৭