বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বেচে দিলেন শাহরুখের স্ত্রী
Published: 2nd, April 2025 GMT
বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বিক্রি করে দিলেন শাহরুখ খানের স্ত্রী গৌরি খান। আড়াই বছরের ব্যবধানে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ লাভ করেছেন এই ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। ইন্ডিয়া টিভি এ খবর প্রকাশ করেছে।
এ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মুম্বাইয়ের পশ্চিম দাদরে অবস্থিত কোহিনূর আলটিসিমো ভবনে ছিল গৌরি খানের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটটি। কিছুদিন আগে শাহরুখ খান তার পরিবার নিয়ে ‘মান্নাত’ ছেড়ে অন্য একটি ফ্ল্যাটে উঠেছেন। ‘মান্নাত’ সংস্কারের জন্য অন্যত্র বসবাস করছেন তারা। ‘মান্নাত’ ছাড়ার পরই ফ্ল্যাটটি বিক্রি করেন গৌরি। গত মার্চ মাসে রেজিস্ট্রি করে দেন গৌরি।
১৯৮৫ স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাটের কার্পেট এরিয়া ১৮০৩ স্কয়ার ফুট। ফ্ল্যাটটির দুটো পার্কিং স্পেস সুবিধাও রয়েছে। ২০২২ সালের আগস্ট ৮ কোটি ৫০ লাখ রুপিতে কিনেছিলেন গৌরি। আড়াই বছর পর ১১ কোটি ৬১ লাখ রুপিতে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করলেন তিনি। তবে কী কারণে ফ্ল্যাট বেচে দিলেন তা জানা যায়নি।
আরো পড়ুন:
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঁদের হাট বসল ইডেনে
শাহরুখ-সালমানের আয়ু নিয়ে জ্যোতিষীর বিস্ফোরক মন্তব্য
প্রাসাদোপম ‘মান্নাত’ ছেড়ে শাহরুখ খান বান্দ্রার পালি হিলের অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে পরিবার নিয়ে উঠেছেন। ডুপ্লেক্স এই অভিজাত অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করছেন— শাহরুখ খান, স্ত্রী গৌরী খান, মেয়ে সুহানা আর দুই ছেলে আরিয়ান- আব্রাম।
অ্যাপার্টমেন্ট দুটো তিন বছরের জন্য ভগনানি পরিবারের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন শাহরুখ। ভাড়া বাবদ তাকে গুনতে হবে ৯ কোটি রুপি। চলতি বছরের শেষের দিকে ‘মান্নাত’-এর সংস্কারকাজ শুরু হবে। দুই বছর ধরে চলবে সংস্কারকাজ।
ঢাকা/শান্ত
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
দুর্নীতির অভিযোগের জবাব দিতে আমার আইনজীবীরা প্রস্তুত: টিউলিপ সিদ্দিক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগনি ও লন্ডনের একটি আসনের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে আনা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রশ্নের উত্তর দিতে তাঁর ‘আইনজীবীরা প্রস্তুত’।
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম স্কাই নিউজকে তিনি এ কথা জানান।
বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপাতত সম্পর্কের বিষয়ে কোনো অনুশোচনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, ‘আপনারা আমার আইনি চিঠিটি দেখুন এবং দেখুন আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আছে কি না... (বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ) একবারের জন্যও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি কিন্তু তাদের কাছ থেকে শোনার অপেক্ষায় রয়েছি।’
এমপি টিউলিপ সিদ্দিক গত জানুয়ারিতে ট্রেজারি মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। কারণ, বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি তদন্তে তার নাম উঠে আসে। পরে বিরোধীদের ব্যাপক চাপের মুখে তিনি পদত্যাগ করেন।
তিনি বলেন, ‘মাসখানেক হয়ে গেল অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু (বাংলাদেশের) কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।’
টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবীরা বেশ কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি লিখে বলেছিলেন যে, অভিযোগগুলো ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’।
চিঠিতে বলা হয়, দুদককে ‘২০২৫ সালের ২৫ মার্চের মধ্যে অথবা তার আগে’ টিউলিপ সিদ্দিককে প্রশ্ন করতে হবে, অন্যথায় ‘আমরা ধরে নেব যে, উত্তর দেওয়ার মতো কোনো বৈধ প্রশ্ন নেই।’
গতকাল বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা এক পোস্টে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে এবং বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ কোনো জবাব দেয়নি। স্কাই নিউজ মন্তব্যের জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জবাব পায়নি।
টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো মূলত তার খালা শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্কের ওপর কেন্দ্র করে তৈরি। শেখ হাসিনা প্রায় ২০ বছর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। গত আগস্টে সারা দেশে তার বিরুদ্ধে রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন।
হাসিনার বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার শাসনামলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গ্রেপ্তার, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ক্ষমতার অন্যান্য অপব্যবহার নিয়মিত ঘটেছে। তবে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, পুরোটাই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।
এদিকে, টিউলিপ সিদ্দিক লন্ডনের যে কয়টি বাড়িতে বসবাস করতেন, সেগুলোর সঙ্গে তার খালার দল আওয়ামী লীগের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। অবশ্য অভিযোগ ওঠার পর তিনি নিজেকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মান নিয়ন্ত্রক উপদেষ্টা স্যার লরি ম্যাগনাসের জিম্মায় তুলে দেন, অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য।
স্যার লরি ম্যাগনাস সে সময় বলেছিলেন, তিনি ‘কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাননি’ তবে যোগ করেন, তার খালার সঙ্গে সম্পর্কের ‘সম্ভাব্য সুনামগত ঝুঁকি’ সম্পর্কে টিউলিপ সিদ্দিকের আরও সতর্ক না হওয়া ‘দুঃখজনক’। টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, তার পদে থাকা সরকারের জন্য ‘বিচ্যুতি’ তৈরি করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তিনি কোনো ভুল করেননি।