নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় শিরিন গার্ডেন নামে একটি বিনোদনকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য সুন্দলপুর গ্রামে বিনোদনকেন্দ্রটির অবস্থান। মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকালের দিকে সেখানে হামলা হয়। বর্তমানে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে কেন্দ্রটি ও সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

কবিরহাট থানার ওসি মো.

শাহীন মিয়া হামলার বিষয়টি অবহিত।

আরো পড়ুন:

রাঙ্গুনিয়ায় আহত আ.লীগ নেতার মৃত্যু

হান্নান মাসউদের ওপর হামলা, রাত সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এনসিপির বিক্ষোভ

বিনোদনকেন্দ্রটির স্বত্বাধিকারীর দাবি, হামলার সময় কাউন্টার থেকে নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

শিরিন গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী সিদ্দিকী নাছির উদ্দিন বলেছেন, “আমার মালিকানাধীন বিনোদনকেন্দ্রে প্রতি বছরের মতো এবারও দর্শনার্থীদের ঢল নামে। তবে প্রতি বছরই ঈদের সময় স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাং গ্রুপ বিনোদনকেন্দ্রে এসে দর্শনার্থীদের ইভটিজিং, মুঠোফোন ও টাকা ছিনতাই করে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্য পৃথক পৃথকভাবে বিনোদনকেন্দ্রে প্রবেশ করে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ শুরু করে। একপর্যায়ে বিনোদনকেন্দ্রের কর্মচারী ও পুলিশ তাদের বের করে দেয়। কিছুক্ষণ পরে তারা ২০ থেকে ৩০ জন দলবদ্ধ হয়ে আবার বিনোদনকেন্দ্রে এসে হামলা-ভাঙচুর শুরু করে। তারা কাউন্টারের ক্যাশ থেকে নগদ টাকা লুট করে নিয়ে নিয়ে যায়।”

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের সুন্দলপুর গ্রামে শিরিন গার্ডেনে মঙ্গলবার বিকালে হামলা হয়। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে পড়েনে দর্শনার্থীরা। 

নাছির উদ্দিন বলেন, “পুলিশ প্রতিহত করতে এলে তাদের হামলায় পুলিশের এক সদস্য আহত হন। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করেছি। আমি অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি।”

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা হলে তারা কেউ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, হামলাকারীরা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামরুল হুদা চৌধুরী লিটন বলেন, “হামলার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এর বেশি কিছু আমার জানা নেই।”  

ওসি শাহীন মিয়া বলেছেন, “মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।”

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর স ঘর ষ আহত ব ন দনক ন দ র উপজ ল

এছাড়াও পড়ুন:

বিদেশের সঙ্গে লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতি

বিদেশের সঙ্গে লেনদেন ভারসাম্যে উন্নতির ধারা অব্যাহত আছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানির উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত বজায় রয়েছে। কমেছে সার্বিক লেনদেনে ঘাটতি। অবশ্য ডলার বাজার পরিস্থিতির উন্নতির কারণে আমদানি বাড়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয় এসেছে ৩ হাজার ৪ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৯ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেশি। আমদানিতে খরচ হয়েছে চার হাজার ৩৭৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৭০ কোটি ডলার। আগের বছরের একই সময়ে বাণিজ্য ঘাটতি ছিল এক হাজার ৪৩৩ কোটি ডলার। মূলত ডলার পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতি হওয়ায় আমদানিতে আগের মতো আর কড়াকড়ি নেই। আবার রমজানকে কেন্দ্র করে গত ফেব্রুয়ারিতে আমদানি বেড়েছে। এতে জানুয়ারির তুলনায় বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। গত জানুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্য ঘাটতি ছিল এক হাজার ১৭৫ কোটি ডলার।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা ২২ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। সব মিলিয়ে চলতি হিসাবে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১২৭ কোটি ডলার। গত জানুয়ারি পর্যন্ত ঘাটতি ছিল ১১৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ৪০৭ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত ২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত জানুয়ারি পর্যন্ত উদ্বৃত্ত ছিল ২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। আগের বছরের একই সময়ে উদ্বৃত্ত ছিল ১৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

সম্পর্কিত নিবন্ধ