ঈদের ছুটিতে খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়
Published: 1st, April 2025 GMT
ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীদের ভিড় জমেছে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলোতে। ঈদের দিন সোমবার বিকেল থেকে আসা শুরু করেন পর্যটকরা। কেননা এবারের ঈদে সরকারি লম্বা ছুটিতে তারা ভ্রমণের জন্য পর্যাপ্ত সময় পেয়েছেন দর্শনার্থীরা। তবে আগামীর দিনগুলাতে পর্যটকদের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।
আজ মঙ্গলবার ঈদের দ্বিতীয় দিন সকাল থেকে খাগড়াছড়ির আলুটিলা, রহস্যময় গুহা ও জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্কসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। জেলার অনেকগুলো পর্যটনকেন্দ্র থাকলেও সবকিছু ছাপিয়ে পর্যটকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে বদলে যাওয়া আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্র। এর বাইরেও জেলা পরিষদ হর্টিকালচার পার্ক, ঝুঁলন্ত ব্রিজ, নয়নাভিরাম লেক পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে। এছাড়াও মায়াবিনী লেক, হাতির মাথা পাহাড়, দেবতা পুকুর, তদু ছড়া ঝর্ণা, পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্র ও পানছড়ির অরণ্য কুঠিরেও দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা জেসমিন আক্তার ও মা.
খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কের ব্যবসায়ী টিটু চাকমা জানান, দীর্ঘ এক মাস পর্যটক না আসায় অলস সময় পাড় করেছেন তারা। তবে ঈদের দিন থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করায় তাদের ব্যস্ততা বেড়েছে, বেড়েছে বেচাবিক্রি। তবে যতদিন দর্শানার্থীদের সংখ্যা বাড়বে ততদিন বেচাবিক্রি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন তারা।
খাগড়াছড়ি হর্টিকালচার পার্কের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, ঈদের দিন পার্কে প্রায় দুই হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। মনের আনন্দে তারা পুরো পার্ক ঘুরে দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে দর্শানার্থীদের আগমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রের কাকানাথ ত্রিপুরা। তিনি জানান, ঈদের দিন আলুটিলা পর্যটন কেন্দ্রে প্রায় আড়াই হাজার পর্যটক এসেছে।
খাগড়াছড়ি ট্যুরিস্ট পুলিশের দায়িত্বরত কর্মকর্তা নিশাত রায় জানান, দর্শানার্থীদের নিরাপত্তায় সর্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন টুরিস্ট পুলিশের সদস্যা। দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে খাগড়াছড়ির পর্যটন স্পটগুলো ঘুরে দেখতে পারেন; সে বিষয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।
উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
ঈদের ছুটিতে পর্যটকে মুখর রাঙামাটি
ঈদের ছুটি চলছে। রাঙামাটির বিনোদনকেন্দ্রগুলো এখন দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ঈদের দিন থেকেই আসছেন হাজারো পর্যটক। বুধবার (২ এপ্রিল) রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক ও আরণ্যকে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা গেছে। নিরাপত্তা নিয়েও সন্তুষ্ট পর্যটকরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতুতে পর্যটকদের উপস্থিতি বাড়ছে। ঝুলন্ত সেতুর পাটাতনে হাঁটা-চলার পাশাপাশি অনেকেই কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার করছেন।
পর্যটকরা দলে দলে ভ্রমণ করছেন ঝুলন্ত সেতুতে। কেউ আসছেন পরিবার নিয়ে, কেউ প্রেমিক-প্রেমিকাকে আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন এখানে। শুধু ঝুলন্ত সেতুতেই তাদের ভ্রমণ সীমাবদ্ধ নয়। নৌঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার করছেন পর্যটকরা। হ্রদ-পাহাড়ের সৌন্দর্য যান্ত্রিক জীবনের একঘেয়েমি দূর করছে।
পলওয়েল পার্কসহ অন্য পর্যটন স্পটগুলোতেও পর্যটকদের বিপুল উপস্থিতি রয়েছে। শিশুরা টয় ট্রেন ও দোলনাতে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছে। পলওয়েল পার্কের মিনি ঝুলন্ত সেতুতে হেঁটে বেড়াচ্ছেন কেউ কেউ। হ্রদের শান্ত জল ও সবুজ প্রকৃতি দেখে বিমোহিত পর্যটকরা।
খুলনা থেকে রাঙামাটিতে ঘুরতে আসা রাসেল আহমেদ বলেন, ঈদের ছুটি কাজে লাগাতে বন্ধুরা মিলে রাঙামাটি ঘুরতে আসলাম। চমৎকার জায়গা। শান্ত প্রকৃতি। হ্রদের পানিও শান্ত ও স্বচ্ছ। এমন সৌন্দর্য বাংলাদেশের মধ্যে লুকিয়ে আছে, সেটা নিজের চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না।
হাটহাজারি থেকে আসা পর্যটক দম্পতি বলেন, আমরা গতকাল পরিবার নিয়ে এসেছি। ইতোমধ্যে আরণ্যক ও পলওয়েল পার্ক ঘুরেছি। এবার কাপ্তাই হ্রদে এসেছি। হ্রদের সৌন্দর্য আমাদের সত্যিই বিমোহিত করেছে।
নৌযান ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পর্যটকরা রাঙামাটি আসতে শুরু করেছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিনই রাঙামাটিতে প্রচুর পর্যটক হবে বলে আমরা আশা রাখছি।
রাঙামাটি শহরের অধিকাংশ হোটেল-মোটেলে বুকিং বেড়েছে। হোটেল হিল পার্কের স্বত্বাধিকারী স্বপন শীল বলেছেন, ঈদের ছুটিতে বেশ পর্যটক হবে, সেটি আমরা আগেই ধারণা করেছিলাম। ঈদের আগে আমাদের প্রায় ৭০ শতাংশ রুম বুকিং হয়েছিল। আগামী কয়েকদিনও ভালো পর্যটক হবে।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, ঈদের পরদিন থেকে রাঙামাটিতে পর্যটকরা আসছেন। আমাদের যে টার্গেট ছিল ঈদকে ঘিরে, আশা করছি, সেটা পূরণ হবে। বর্তমানে আমাদের হোটেল-মোটেলগুলোতে ৬০ শতাংশ বুকিং রয়েছে। আাগামী ৩ তারিখ থেকে শতভাগ বুকিং রয়েছে। আশা করছি, এই মৌসুমে আমাদের বেশ ভালো ব্যবসা হবে।
ঢাকা/রফিক