সন্দ্বীপ থেকে সীতাকুণ্ডে থিতু হয়েছি প্রায় দুই যুগ। তা হলে কী হবে, আত্মীয়-পাড়াপ্রতিবেশী সবাই তো গ্রামেই আছেন। তাই মাসে কয়েকবার নানা কারণে সন্দ্বীপে যেতে হয়। কিছুদিন আগেও জোয়ার-ভাটার হিসাব কষে স্পিডবোটে উঠতে গিয়েও কাদা মাড়ানোর কষ্ট থেকে নিস্তার পাইনি। আসলে এটাই এই দ্বীপবাসীর নিয়তি। এই নৌপথে কত মৃত্যুর ঘটনাই না ঘটেছে। ২০১৭ সালের সন্দ্বীপ ট্র্যাজেডির কথা আজও ভুলিনি। তখন সি-ট্রাক চলত। এই জলযান পাড়ে ভিড়তে পারত না। সীতাকুণ্ড থেকে যাত্রী নিয়ে সন্দ্বীপ উপকূলে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের পাড়ে যেতে হতো লাল বোটে (উপকূলে যাত্রী নামানোর ছোট নৌকা) করে। সেবার এই বোটে উঠে যাওয়ার সময়ই ডুবে মারা যান ১৮ জন। এরপর সি-ট্রাকের পরিবর্তে যাত্রীবাহী জাহাজ দিলেও এখনো উপকূলে যাত্রী ওঠানামা লাল বোটেই হচ্ছে। বন্ধ হয়নি অনিরাপদ স্পিডবোট ও কাঠের ট্রলারে যাত্রী পারাপার। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

এই পটভূমিকায় ২৪ মার্চ ফেরি সার্ভিস শুরু হচ্ছে, জানার পর সন্দ্বীপের মানুষ হিসেবে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলাম।

উদ্বোধনী ফেরিতে লেখক.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

মিয়ানমারে নিহত বেড়ে ২০৫৬, এক সপ্তাহের শোক ঘোষণা

মিয়ানমারে মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৫৬ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৯০০। এখনো নিখোঁজ ২৭০ জন। এমন অবস্থায় দেশটিতে এক সপ্তাহের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার দেশটির জান্তা সরকারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় শোকের অংশ হিসেবে দেশটিতে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে।

গত শুক্রবার মিয়ানমারে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ওই কম্পন থাইল্যান্ডসহ প্রতিবেশী আরও সাতটি দেশে অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে থাইল্যান্ডেও বহুতল ভবন ধসে পড়াসহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ভূমিকম্পে মিয়ানমারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয় রয়েছে। শহরটিকে ১৭ লাখ লোকের বসবাস। ভূমিকম্পে সেখানে এমন বিপর্যয় নেমে এসেছে যে সেখানে উদ্ধার তৎপরতা ও জরুরি সহায়তার কার্যক্রম থুবড়ে পড়েছে। মূলত সেখানকার এমন পরিস্থিতি সামনে আসার পর সরকারের পক্ষ থেকে এ শোকের ঘোষণা এল। মান্দালয়ের বাসিন্দারা শুক্রবার থেকে টানা দিনরাত সড়কে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘের আবেদন

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, সাহায্যকারী সংস্থাগুলো বলছে, গৃহযুদ্ধে নাকাল মিয়ানমারের অবস্থা ভূমিকম্পের ঘটনায় আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সেখানে রাস্তাঘাটে লাশের দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, হাসপাতালগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মিয়ানমারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে ৮০ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ।

৬০ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার ৪

মিয়ানমারে ভূমিকম্পের প্রায় ৬০ ঘণ্টার পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার সাগাইং অঞ্চলে ধসে পড়া একটি স্কুল ভবন থেকে তাঁদের উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে দেশটির ফায়ার সার্ভিস।

সম্পর্কিত নিবন্ধ