ভিড় এড়াতে ঈদযাত্রায় অনেকের পছন্দ আকাশপথ। সময় বাঁচাতে অনেকেই তাই যাতায়াত করেন উড়োজাহাজে। তবে অন্যান্য সময়ে যেমন-তেমন, ঈদ এলে স্বল্পমূল্যে টিকিট যেন সোনার হরিণ হয়ে যায়। যেমন, ঢাকা–সৈয়দপুর আকাশ রুটে বিমান ভাড়া হচ্ছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে সেই টিকিট এখন দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি করছে বিভিন্ন এয়ারলাইন্স। 
 
শুক্রবার সরেজমিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল ঘুরে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এসব তথ্য। 

ঢাকা থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ ৮টি রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে সরকারি বিমান সংস্থার পাশাপাশি ৩টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স। রুটগুলো হচ্ছে, ঢাকা–সৈয়দপুর, যশোর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, সিলেট, রাজশাহী ও বরিশাল। 

ঈদ উপলক্ষে আকাশ পথে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন কিছু যাত্রীরা জানান, সড়ক পথে যানজটসহ নানা ভোগান্তি নিত্যদিনের চিত্র। ঈদে এর মাত্রা আরও বেশি থাকে। তাই ঈদ উপলক্ষে খরচ একটু বেশি হলেও আকাশ পথেই শান্তি। এতে করে নিরাপদে স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় বলেও জানান তারা। 

সূত্র জানায়, দিনেদিনে আকাশপথের চাহিদা বাড়ছে যাত্রীদের মাঝে। ঈদকে কেন্দ্র করে এই চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়। সাধারণত ঈদে সড়কপথে ভোগান্তির শেষ থাকে না। তাই অনেকেই ভোগান্তি এড়াতে আকাশপথকে বেছে নিচ্ছেন। এয়ারলাইন্সগুলো চাহিদার কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত ফ্লাইট যুক্ত করছে বিমানসহ বেসরকারি ২–১টি এয়ারলাইন্স।
 
এয়ারলাইন্সগুলোর তথ্যমতে, ঈদকে কেন্দ্র করে সৈয়দপুর, যশোর এবং ঈদের পরে কক্সবাজার রুটে টিকিটের চাহিদা বেশি। ইতোমধ্যে এসব রুটের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে ঈদযাত্রায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ায় কিছু কিছু রুটে অন্যান্য দিনের চেয়ে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এয়ারলাইন্সের টিকিট।
 
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও ভ্যাট-ট্যাক্স বৃদ্ধির কারণে বিমানের টিকিটের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির ফলে অনেকেই আকাশপথের পরিবর্তে সড়ক ও রেলপথ বেছে নিচ্ছেন। যমুনা রেলসেতু ও পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় বরিশালসহ কয়েকটি রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমেছে। এসব কারণেই অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রীসংখ্যা কিছুটা কমেছে। বাড়তি চাহিদা সামাল দিতে ঈদের লম্বা ছুটিকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ রুটে ১৩টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। 

বিমানের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা বোসরা ইসলাম সমকালকে জানান, ২৫ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা-রাজশাহী, ঢাকা-সৈয়দপুর এবং ঢাকা-বরিশাল রুটে এসব ফ্লাইট পরিচালিত হবে। যাত্রীদের চাহিদার ভিত্তিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৩টি বিশেষ ফ্লাইট চালু করেছে। 

বেসরকারি এয়ার অ্যাস্ট্রার জনসংযোগ শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ঈদ উপলক্ষে সৈয়দপুর ও কক্সবাজার রুটে যুক্ত হয়েছে অতিরিক্ত ফ্লাইট। 

বেসরকারি নভোএয়ারের এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের চাহিদা বাড়লেও অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করছে না তারা।
   
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো.

কামরুল ইসলাম সমকালকে জানান, নিয়মিত ফ্লাইট সংখ্যা বেশি থাকায় এবার ঈদে নতুন করে কোনো ফ্লাইট বাড়ানো হয়নি। ঢাকা-বরিশাল ছাড়া সব রুটে চলছে ইউএস বাংলার ফ্লাইট। 

তিনি বলেন, রমজানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটি ছিল। এ ছাড়া ঈদেও এবার লম্বা ছুটি। যমুনা রেলসেতু ও সড়ক যোগাযোগ উন্নতির কারণে অনেক যাত্রী সড়কপথ বেছে নিচ্ছেন। 

এ বিষয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের ক্ষেত্রে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল থেকে দেশের বিভিন্ন রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল করছে। 

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ঈদ উপলক ষ কর মকর ত ব যবস থ ব সরক র বর শ ল

এছাড়াও পড়ুন:

এক টাকায় ১৮ পণ্যের ঈদ উপহার 

গাইবান্ধায় ভিন্নধর্মী আয়োজন ‘এক টাকার বাজার’ নিয়ে অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন ‌‘আমাদের গাইবান্ধা’। শনিবার (২৯ মার্চ) শহরের ডিবি রোডের স্বাধীনতা রজতজয়ন্তী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

এই বাজার থেকে জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকার নিম্নবিত্ত ও সুবিধাবঞ্চিত ২৫০ জন ক্রেতা মাত্র ১ টাকায় একটি কুপন দিয়ে ১৮ ধরনের পণ্য কিনেছেন।

এক টাকার বাজার কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক চৌধুরী মোয়াজ্জম আহম্মদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার নিশাত অ্যাঞ্জেলা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আমাদের গাইবান্ধা সংগঠনের সভাপতি সায়েম রহমানসহ উপদেষ্টা এবং সদস্যরা।

আরো পড়ুন:

১০ টাকার ঈদবাজারে ৪০০ পরিবারের মুখে হাসি

খোলা ট্রাক-পিকআপে ছুটছে ঘরমুখো মানুষ

এক টাকার প্রতীকী মূল্যে এ সব পণ্যের মধ্যে ছিল সোনালী মুরগি, আলু, বাঁধাকপি, বেগুন, চাল, সয়াবিন তেল, ডাল, সুজি, চিনি, নুডলস, সেমাই, গুড়া দুধ, লবণ, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, লেবুসহ কয়েক পদের সবজি।

সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ এক টাকার টোকেন নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ আবার টোকেন দিয়ে বাজার করছেন। সবার চোখে মুখে আনন্দের ছাপ। ঈদ উপলক্ষে এক টাকায় প্রয়োজনীয় সবকিছু পেয়ে ভীষণ খুশি তারা।

এক টাকার বাজার করতে শহরের খানকা শরীফ এলাকা থেকে এসেছিলেন জহুরা বেগম ও আলেয়া বেগম। তারা জানান, প্রতিবছর এক টাকার বাজারের আয়োজন করা হয়। তিনি বলেন, ‘‘এক টাকাত  এতগুলা বাজার পায়া (পেয়ে) হামার খুব ভালো লাগতিছে।’’

এ বিষয়ে আয়োজক সদস্যরা জানান, প্রয়োজন অনুসারে বাছাই করে সেসব পণ্য দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ‌‘আমাদের গাইবান্ধা’ সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুসাভির রহমান রিদিম জানান, তাদের সংগঠনের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। ঈদ উপলক্ষে তাদের এই বিশেষ আয়োজন। এর আগের কয়েকটি ঈদেও তারা এমন আয়োজন করেন। বাজার বসার আগে যারা সুবিধাবঞ্চিত তাদের খুঁজে এই টোকেন দেওয়া হয়।

আমাদের গাইবান্ধার সভাপতি সায়হাম রহমান বলেন, ভবিষ্যতেও এমন প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

ঢাকা/মাসুম/বকুল

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • কলকাতায় ঈদের নামাজের আগে স্বাধীন ফিলিস্তিনির দাবিতে মিছিল
  • ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের জামাতে মুসল্লিদের ঢল
  • ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত, মুসল্লিদের ঢল
  • ঈদ উপলক্ষে রাজধানীতে আলোকসজ্জা
  • সোনারগাঁয়ে সমাজসেবক কামালের ঈদ সামগ্রী বিতরণ 
  • ঈদে চাঁদপুর কারাগারে বন্দিদের জন্য থাকবে যেসব খাবার
  • বাউফলের পাঁচটি এটিএম বুথের একটিতেও টাকা নেই, ঈদের আগে বিপাকে গ্রাহকেরা
  • ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে র‌্যাবের কঠোর নিরাপত্তা কার্যক্রম
  • চাঁদের অপেক্ষায় ঈদ
  • এক টাকায় ১৮ পণ্যের ঈদ উপহার