বড় বাজেটের সিনেমা, তারকাদের ঝলমলে উপস্থিতি, ক্যামেরার ঝলকানি—এ সবই পর্দায় দর্শক দেখেন। কিন্তু এর পেছনে থাকে একগাদা গল্প, হাসির মুহূর্ত, দুঃখ, ক্লান্তি আর কখনও কখনও ছোটখাটো দুর্ঘটনা। সিনেমার শুটিং মানেই একটা আলাদা দুনিয়া, যেখানে বাস্তবের সঙ্গে পর্দার জীবনের প্রতিনিয়ত লড়াই চলে। দুই নির্মাতার শুটিংয়ের অন্দরের গল্প লিখেছেন মীর সামী
অমিতাভ রেজা
সিনেমা বানানোটা কখনোই শুধু ক্যামেরা অন করে শট নেওয়া নয়, একটি স্বপ্নের মতো, যেটি ধীরে ধীরে বাস্তব হয়। ‘আয়নাবাজি’ আমার কাছে শুধুই একটি সিনেমা নয়, এটি একটি সময়, একটি অনুভূতি, একটি শহরের গল্প, যেখানে ভালো-মন্দ, সত্য-মিথ্যা একে অপরের আয়নায় প্রতিফলিত হয়। আমি সবসময় চেয়েছি এমন একটি সিনেমা বানাতে, যেটি আমাদের শহরকে অন্যভাবে দেখাবে। ঢাকা শহর, তার রহস্য, তার মানুষ– এসব মিলিয়েই ‘আয়নাবাজি’। সিনেমার মূল চরিত্র আয়না– যে একজন মাস্টারমাইন্ড অভিনেতা, কিন্তু তার মঞ্চ সিনেমার পর্দায় নয়, বরং বাস্তব জীবন! এই চরিত্রটা যখন গুছিয়ে উঠল, তখনই মনে হলো, এবার কাজটি শুরু করা দরকার। আমাদের সিনেমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ঢাকার আসল রূপ ধরা। আমি চাইনি কৃত্রিম সেট বানিয়ে শুটিং করি, বরং চাইছিলাম সত্যিকারের ঢাকা শহরটি ক্যামেরায় তুলে আনতে। আমরা পুরান ঢাকার অলিগলি ঘুরতে শুরু করলাম। একেকটা জায়গায় ঢুকলেই মনে হতো, ‘এটিই হতে পারে আয়নার দুনিয়া!’ পুরান ঢাকার সরু গলি, শত বছরের পুরোনো বাড়ি, রাস্তার পাশে চায়ের দোকান–এ সবকিছু মিলে আয়নার গল্পের বাস্তবতা তৈরি হলো।
আমার মনে আছে, ‘আয়নাবাজি’র শুটিংয়ের সময় একটি দৃশ্য ছিল যেখানে চঞ্চল (চঞ্চল চৌধুরী) ধীর পায়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে আসবে, খুবই স্টাইলিশ শট। সব রেডি। আমি বললাম, ‘অ্যাকশন!’
চঞ্চল হাঁটতে শুরু করল। ঠিক তখনই, পাশের রাস্তায় একটা ভ্যানওয়ালা জোরে চেঁচিয়ে উঠল, ‘এই যে আপনেরা শুটিং করতাছেন, এইডা নাটক না সিনেমা?’
ক্যামেরার ফ্রেমে চঞ্চল, সঙ্গে ভ্যানওয়ালার মাথা!
আমি চিৎকার দিয়ে বললাম, ‘কাট! ভাই, একটু চুপ করবেন?’
ভদ্রলোক একদম অবাক হয়ে বললেন, ‘আরে ভাই, আমি তো মাইক্রোফোন পাই নাই, কেমনে চুপ করমু?’
আমরা সবাই হেসে উঠলাম। শুটিং বন্ধ রেখে তাঁকে বুঝিয়ে বিদায় দিলাম।
যাই হোক। সিনেমার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো রিটেক।
একটি দৃশ্য পারফেক্ট করতে কতবার যে রিটেক দিতে হয়, তার হিসাব নেই।
একবার একটি সংলাপ ছিল, যেখানে চঞ্চলকে বলতে হবে— ‘মানুষ আয়না দেখে নিজেকে চেনে, কিন্তু আমি?’
ডেলিভারি একটুর জন্য পারফেক্ট হচ্ছিল না। চারবার শট নিলাম। পাঁচবার নিলাম। দশবার নিলাম।
অবশেষে চঞ্চল বলল, ‘দেখেন, আমি আয়নায় তাকিয়ে আগে নিজেকে চিনে নিই, তারপর সংলাপ বলি!’
শুটিং সেটে হাসির রোল উঠল।
‘অ্যাকশন সিন’ বিপদের আরেক নাম
একটা দৃশ্যের কথা ভুলতেই পারি না। সিনেমার ক্লাইম্যাক্স শুট করছি। চঞ্চলকে ছাদ থেকে নিচে নামতে হবে। সব ঠিকঠাক, ক্যামেরা রেডি, স্টান্ট টিম প্রস্তুত।
‘অ্যাকশন!’
চঞ্চল ঝাঁপ দিল।
কিন্তু ভুলটা হলো অন্য জায়গায়– নিচে সেফটি ম্যাট ঠিকমতো রাখা হয়নি!
আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি, চঞ্চল হাসছে, বলছে, ‘ভাই, আমি বেঁচে আছি, কিন্তু একটু ব্যথা পেয়েছি!’
এই জন্যই আমি বলি, সিনেমা বানানো মানেই শুধু গল্প বলা নয়, বরং একটা যুদ্ধে নামা।
‘শেষ দিন, শেষ হাসি’ সিনেমার শুটিংয়ের শেষ দিনটা সবসময় অদ্ভুত এক অনুভূতি দেয়। সবাই ক্লান্ত, কিন্তু বিদায়ের মন খারাপও থাকে। সেদিন সেটে সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে, লাইট প্যাকিং হচ্ছে, ক্যামেরা খুলে নেওয়া হচ্ছে। চঞ্চল, নাবিলা, পার্থদা সবাই বসে আছেন, ক্লান্ত কিন্তু খুশি।
আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে দেখছিলাম।
একজন এসে বলল, ‘ভাই, আরেকটি টেক নেবেন?’
আমি একটু হেসে বললাম, ‘না, এবার আসল সিনেমার জন্য অপেক্ষা করা যাক!’
সিনেমা বানানো অনেক কষ্টের, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পর্দায় যখন সেটি দেখা যায়, তখন মনে হয়—এই যুদ্ধটা জেতাই ছিল আসল আনন্দ!
মেজবাউর রহমান সুমন
আমি জানতাম, ‘হাওয়া’ সহজ কোনো ছবি হবে না। সমুদ্রের গল্প মানেই অনিশ্চয়তা, আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই তো সবচেয়ে সুন্দর গল্পগুলো লুকিয়ে থাকে। প্রথম থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, বাস্তবের কাছাকাছি যেতে হলে আমাদের সত্যিকার অর্থেই সমুদ্রে নামতে হবে। কিন্তু গভীর সমুদ্রে শুটিং করা যে এতটা কঠিন হবে, সেটি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল একদল স্বপ্নবাজ মানুষকে নিয়ে। চঞ্চল ভাই, নাসির ভাই, রাজ, আর পুরো টিমকে নিয়ে আমরা গভীর সমুদ্রে রওনা দিলাম একটি ফিশিং ট্রলারে। ধীরে ধীরে মোবাইল নেটওয়ার্ক মিলিয়ে গেল, তীরে ফেলে আসা শহরের আলোও দূরে হারিয়ে গেল। আমাদের সামনে শুধু জলরাশি, মাথার ওপর বিশাল আকাশ। শুটিং শুরুর আগেই মনে হলো, আমরা একটি নতুন পৃথিবীতে এসে পড়েছি। প্রথম কয়েক ঘণ্টা সবার মধ্যে রোমাঞ্চ ছিল। তারপরই শুরু হলো আসল চ্যালেঞ্জ। ঢেউয়ের ধাক্কায় শরীরের ভারসাম্য ঠিক রাখা যাচ্ছিল না, শুটিং তো দূরের কথা, সোজা হয়ে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে পড়ল। ট্রলারের একটানা দুলুনি, খাবারের সীমাবদ্ধতা, মোবাইল নেটওয়ার্কের অনুপস্থিতি– সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে এক অদ্ভুত মানসিক পরীক্ষার মধ্যে পড়লাম আমরা। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সি-সিকনেস। একেকজন খাবার খেয়েই বমি করে দিচ্ছিল।
সাগরে শুটিং মানে প্রতিদিন একরকম নতুন যুদ্ধ। কখনও ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই, কখনও সূর্যের প্রচণ্ড তাপ, কখনও আবার হঠাৎ ঝড়। এর মধ্যেও কিছু ঘটনা আছে, যা কখনও ভুলব না।
প্রথম দিন: সমুদ্রের আসল রূপ
আমরা তখন গভীর সমুদ্রে শুটিং করছি। ছোট্ট একটি ট্রলারে পুরো ইউনিট, ক্যামেরা সেট, লাইট, সবকিছু। প্রথম দিনেই আমি বুঝলাম, এখানে কোনো কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই।
‘অ্যাকশন!’ বলার সঙ্গে সঙ্গে ঢেউ এলো। পুরো ট্রলার দুলে উঠল। ক্যামেরা প্রায় পড়ে যাচ্ছিল, টেকনিশিয়ানরা ঝাঁপিয়ে গিয়ে ক্যামেরা সামলালো।
আমি তখনই বুঝলাম, এই সিনেমাটি আমাদের নয়, এটি সমুদ্রের, ওর মর্জির ওপরই সব নির্ভর করছে!
সিনেমার সবচেয়ে কঠিন দৃশ্যগুলোর মধ্যে একটি ছিল– চঞ্চল চৌধুরী [চান মাঝি] আর অন্য শিল্পীদের ট্রলারের গায়ে দাঁড়িয়ে থাকা। সাগরের মধ্যে ট্রলার এমনভাবে দুলছিল যে মনে হচ্ছিল, যেকোনো সময় কেউ পড়ে যাবে।
চঞ্চল ভাইকে বললাম, ‘ভাই সাবধানে, আপনার ভারসাম্য রাখতে পারবেন তো?’
তিনি মুচকি হেসে বললেন, ‘আমি তো মাঝি, পানির ছেলে, আমার ভয় কী?’
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: অ য কশন আম দ র প রথম বলল ম সবচ য়
এছাড়াও পড়ুন:
তিস্তায় চীনকে আমন্ত্রণ
তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) অংশ নিতে চীনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। বেইজিং সফরে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ আমন্ত্রণ জানান।
চার দিনের সরকারি সফরে চীনে অবস্থান করছেন ড. ইউনূস। গতকাল শুক্রবার বেইজিংয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পানি প্রবাহের পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ হ্রাস, নদী খনন, পানি ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষ সহযোগিতা জোরদার করতে সম্মত হয়েছে। ইয়ারলুং সাংপো (ব্রহ্মপুত্র) ও যমুনা নদীর পানি প্রবাহ-সংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে সমঝোতা স্মারক সইয়ের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সমন্বিত প্রচেষ্টায় একমত। সামুদ্রিক বিষয়ে সহযোগিতা জোরদার করতে এবং উপযুক্ত সময়ে এ বিষয়ে সংলাপ করতে চায় উভয় দেশ।
৫০ বছরের মহাপরিকল্পনার আহ্বান
চলমান চীন সফরে কয়েকশ নদী ও পানি ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য চীনের কাছ থেকে ৫০ বছরের মহাপরিকল্পনা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী লি গোইয়িংয়ের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এ আহ্বান জানান।
ড. ইউনূস চীনের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করে বলেন, চীন পানি সমস্যার সমাধানে বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে। মন্ত্রীকে তিনি বলেন, ‘আপনাদের যে সমস্যা রয়েছে, আমাদেরও একই সমস্যা। তাই, যদি আপনাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করেন, তাহলে আমরা খুশি হবো।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি বদ্বীপ অঞ্চল। আমাদের দেশ কয়েকশ নদী দিয়ে ঘেরা। পানি আমাদের জীবন দেয়, তবে কখনও কখনও শত্রুতে পরিণত হয়। জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, নদী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেন পরিবেশের ক্ষতি না হয়।’
প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও উন্নয়নের চাহিদার ফলে নদীতীরের জমি দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, একই অবস্থা ভারতের উজান অঞ্চলে বেড়েছে। এ ছাড়া পলি জমে নদীর মাঝে চর জাগছে। এটা কখনও কখনও প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে এবং নদীর মৃত্যু ঘটায়।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রী স্বীকার করেন, চীন ও বাংলাদেশ পানি ব্যবস্থাপনায় একই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। তিনি বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
যে কারণে এ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশ-ভারত অভিন্ন নদী তিস্তা। বাংলাদেশ অংশে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত একটি প্রকল্প নিয়ে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলছিল। একসময় এর পানি বণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন ছিল। পরে এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পানির ন্যায্য হিস্যা না পেয়ে বিগত আওয়ামী লীগ সরকার নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে চীনের সহযোগিতা চায়। এতে আপত্তি তোলে ভারত। তারা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখায়। প্রকল্পটিতে শুধু পানি ভাগাভাগি বা ব্যবস্থাপনা নয়, এর সঙ্গে নিরাপত্তা ইস্যু বড় করে দেখছে।
দিল্লি থেকে সমাধান না পেয়ে যতটুকু পানি পাওয়া যাচ্ছে, তার সর্বোচ্চ ব্যবহার ও সংরক্ষণে মনোযোগ দেয় ঢাকা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরে দুই দেশের নদী ব্যবস্থাপনা সহযোগিতার বিষয়ে একমত হয় উভয় দেশ।
এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের মে মাসে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনাবিষয়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব (পিডিপিপি) প্রস্তুত করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এর আনুষ্ঠানিক শিরোনাম টিআরসিএমআরপি। ২০১৯ সালের ৩ জুন পাউবো মহাপরিচালকের সই করা প্রস্তাবটি ২০২০ সালের ২৩ জুলাই পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, পাওয়ার চায়না প্রস্তাবিত টিআরসিএমআরপি বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে যাওয়ার পর থেকে মূলত ভারতের দিক থেকে আপত্তি ওঠে।
নাম না প্রকাশের শর্তে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন নিয়ে ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি কয়েক দশক ধরে চলছে। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে এগোচ্ছিল। তখন তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি খসড়া প্রস্তুত করা হয়। তবে চুক্তি সইয়ে ব্যর্থ হয় ভারত। এর পর এক দশক পানি নিয়ে দুই দেশের যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক করতে দেয়নি ভারত।