খুলনার কয়রায় হরিণের ৫০ কেজি মাংস উদ্ধার করেছে বন বিভাগের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীরা। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মায়ের খাল এলাকা থেকে এসব মাংস উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বন বিভাগ।
বন বিভাগের কোবাদক ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন জানান, বন বিভাগের নিয়মিত টহলের সময় সুন্দরবনের মায়ের খাল এলাকায় একটি নৌকা দেখতে পাওয়া যায়। নৌকাটি থামাতে বলা হলে নৌকায় থাকা ব্যাক্তিরা খালে ঝাপিয়ে পড়ে সুন্দরবনের গহীনে পালিয়ে যায়। পরে তাদের ফেলে যাওয়া থেকে আনুমানিক ৫০ কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়। চোরা শিকারিদের ধরতে অভিযান চলছে বলেও জানান ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা।
সূত্র অনুযায়ী, গত তিন মাসে এ নিয়ে সুন্দরবন থেকে শিকার করা হরিণের ৩৪৬ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে গত ১৭ মার্চ বন বিভাগ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে হরিণের সাড়ে তিন মণ কেজি মাংস উদ্ধার করা হয়।
সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, আমরা সুন্দরবনে হরিণ শিকারি ও লোকালয়ে হরিণের মাংস ক্রেতাদের তালিকা তৈরি করছি। এদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। তাছাড়া শিকারে জড়িত ব্যক্তিদের তথ্যদাতাকেও পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। হরিণ শিকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
.উৎস: Samakal
এছাড়াও পড়ুন:
সুন্দরবনের গাছে গাছে ফুল, মৌমাছির গুঞ্জন
সুন্দরবনের গাছে গাছে এখন ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে’ অবস্থা। যে গাছে চোখ যায়, সেখানেই ফুটে আছে ফুল। খলিশা, হরকোচা, গরান, কেওড়া থেকে শুরু করে জানা-অজানা বহু গাছে শোভা পাচ্ছে ফুল আর কুঁড়ি।
বুধবার সকালে খুলনার কয়রা উপজেলার শাকবাড়িয়া নদী ধরে সুন্দরবনে ঢুকে দেখা যায়, ফুল ফুটে আছে সারি সারি খলিশা, গরান, পশুরসহ নানা জাতের গাছে। কেওড়াগাছে এসেছে ফুলের কুঁড়ি। ফুল ফোটায় কাঁটাযুক্ত হরকোচাও যেন ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। গাছে গজানো নতুন পাতা ও বাহারি শ্বাসমূলে সুন্দরবনে যেন নতুন প্রাণের স্পন্দন। এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বেড়ে গেছে মৌমাছিদের ওড়াউড়ি। এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ‘গুন গুন’ করে উড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছির দল।
কয়েকজন মৌয়ালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, মৌসুমের শুরুতে সুন্দরবনে খলিশা ফুলের মধু আসে। এর ২০-২৫ দিন পর আসে গরান ফুলের মধু। শেষে আসে কেওড়া ও ছইলা ফুলের মধু। এই তিন প্রজাতির মধুর মধ্যে সবচেয়ে ভালো ও দামি হচ্ছে খলিশার মধু। মৌসুমের প্রথম ফুলের মধু যা দেখতে সাদা, গাঢ় ও অনেক বেশি মিষ্টি। তবে বৃষ্টি না হলে ফুল শুকিয়ে ঝরে যায়, মধু জমে না। এ বছর তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মধু না পাওয়ার শঙ্কা আছে।
এক ফুল থেকে আরেক ফুলে ‘গুন গুন’ করে উড়ে বেড়াচ্ছে মৌমাছির দল