গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ২টি ভেরিয়েশন ও ফায়ার সার্ভিসের সদর দপ্তর নির্মাণসহ ৩ ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৫৪১ কোটি ৫৫ লাখ ৪৭ হাজার ৬১৯ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির সভায় প্রস্তাব এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় কমিটির সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং পুলিশ স্টেশন কম্পাউন্ডে ২০তলা ভিত্তিসহ ২০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ (১০০০ বর্গফুট প্রতি তলায় ৮টি ইউনিট) এর পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনক্রমে ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য ৯টি আবাসিক টাওয়ার ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের ডাবলমুরিং পুলিশ স্টেশন এলাকায় ২০তলা ভিত্তিসহ ২০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ (১০০০ বর্গফুট প্রতি তলায় ৮টি ইউনিট) এর পূর্ত কাজ কুশলী নির্মাতা লিমিটেডের সঙ্গে ৭৮ কোটি ৪১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৬৭ টাকায় চুক্তি  হয়। চুক্তি অনুসারে কাজ চলমান অবস্থায় টেন্ডারভভুক্ত বা টেন্ডার বহির্ভূত কিছু আইটেম হ্রাস বা বৃদ্ধি হওয়ায় ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১১ কোটি ৫৮ লাখ ৬৫ হাজার ৯৯৭ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
 
সভায় ঢাকার রাজারবাগ পুলিশ লাইনস্ এলাকায় ২২তলা ভিত্তিসহ ২০ তলা আবাসিক ভবন নির্মাণ (১০০০ বর্গফুট প্রতি তলায় ৮টি ইউনিট) এর পূর্ত কাজের ভেরিয়েশন প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে ক্রয় কমিটি। প্রকল্প বাস্তবায়নে পদ্মা অ্যাসোসিয়েট অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের  সঙ্গে ৮০ কোটি ২৪ লাখ ৪০ হাজার ৮০৩ টাকায় ক্রয়ের চুক্তি হয়। চুক্তি অনুসারে কাজ চলমান অবস্থায় কিছু আইটেম হ্রাস বা বৃদ্ধি হওয়ায় ভেরিয়েশন বাবদ অতিরিক্ত ১১ কোটি ৩৮ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৪ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

সভায় ‘কন্সট্রাকশন অব ১০ স্টোরেড হেডকোয়ার্টার্স বিল্ডিং অব ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স  অ্যাট মিরপুর’ নির্মাণে পূর্ত কাজের ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে কমিটি। ‘নগরাঞ্চলের ভবন সুরক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় প্রকল্পের নির্মাণে পূর্ত কাজ ক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে ২টি দরপত্র জমা পড়ে। ২টি দরপত্রই টেকনিক্যালি রেসপনসিভ বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসি থেকে নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে সুপারিশকৃত রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান টিওএ করপোরেশন,ঢাকা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। এতে ব্যয় হবে ৫১৫ কোটি ৫৮ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৮ টাকা।

এছাড়া, সভায় মালয়েশিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে টিএসপি ও ডিএপি সার চুক্তির মাধ্যমে আমদানির একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

ঢাকা/হাসনাত/ইভা 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ভবন ন র ম ণ য় প রস ত ব প রকল প দরপত র

এছাড়াও পড়ুন:

আতর শেখের দাম ৪৭ হাজার টাকা

ঈদের আগে জমে উঠেছে আতরের বেচাকেনা। বড়-ছোট সবাই চান আতরের সৌরভ মেখে ঈদের নামাজে যেতে। ফলে ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে আতরের চাহিদাও বাড়ছে। তবে আতরের বাড়তি বেচাকেনা শুরু হয়েছে রোজার প্রথম থেকেই।

বাজারে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের আতর রয়েছে। বিক্রেতারা জানান, অধিকাংশ দেশি আতরই সাধারণ মানের হয়। দামেও সস্তা। আর বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আতরের সৌরভ বা ফ্রেগনেন্স বেশি ও দীর্ঘ সময় থাকে। এ ধরনের আতরের দামও বেশি। এ প্রতিবেদক বিভিন্ন বাজার ঘুরে যেসব আতরের সন্ধান পেয়েছেন, এর মধ্যে সবচেয়ে দামি আতর হলো আল হারামাইন আতর শেখ। এর ৬০ মিলির বোতলের দাম ৪৭ হাজার টাকা।

বাজারে আল হারমাইন, কস্তুরি, মুস্তাহ আল তাহারা, আল আরাবিয়া, গুপি, সুলতান, কিং হোয়াইট, জান্নাতুল নাঈম, আল-ফারেজ ও হাজরে আসওয়াদের মতো বিভিন্ন দামি আতর রয়েছে। আবার আলিফ, আল ফারহান, আল ইসরাত, আল রিসাব, জান্নাতুল ফেরদাউস, রজনীগন্ধা, বকুল, সুরভি ও বেলি ফুলের মতো কম দামের আতরও পাওয়া যায়।

বাংলাদেশে আতর বিক্রির বড় কেন্দ্র রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদ মার্কেট। এ ছাড়া রাজধানীর কাঁটাবন, মিরপুর, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে মসজিদ-মাদ্রাসাকেন্দ্রিক দোকানে আতর বিক্রি হয়। এসব দোকানের বেশির ভাগই সাধারণ মানের আতর বিক্রি করে থাকে। তবে দামি আতর কিনতে হলে যেতে হবে আতরের ব্র্যান্ডের নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্রে।

দেশে দামি আতরের জন্য বিখ্যাত হচ্ছে আল হারামাইন ব্র্যান্ড। বর্তমানে আল হারামাইনের আতরের দাম সর্বনিম্ন ২ হাজার ৪০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ হাজার টাকা পর্যন্ত রয়েছে। তবে অর্ডার করলে এর চেয়েও দামি আতর বিদেশ থেকে এনে দেওয়া হয়। সাধারণত ১২ মিলিলিটারের শিশি বা ছোট বোতলে আতর বিক্রি করা হয়। তবে ১৮ মিলি, ২৫ মিলি ও ৬০ মিলির শিশিও রয়েছে। এ ছাড়া খোলা আতরও বিক্রি করা হয়।

যত দামি আতর

বাংলাদেশের বাজারে নানা সৌরভের বাহারি আতর পাওয়া যায়। দাম যত বেশি, তত বেশি অভিজাত সৌরভের আতর মেলে।

আতরের জন্য আল হারামাইন ব্র্যান্ড বেশ জনপ্রিয়। আল হারামাইনের জনপ্রিয় আতর সিরিজের মধ্যে রয়েছে মাস্ক, অ্যাম্বার ও উদ প্রভৃতি। এর মধ্যে অ্যাম্বারের রয়েছে কোমল সৌরভ (সুইট ফ্রেগনেন্স), উদের রয়েছে কড়া সৌরভ (ডিপ ফ্রেগনেন্স) এবং মাস্ক সিরিজের আতরের রয়েছে হালকা ও কোমল সৌরভ। মাস্ক সিরিজের আতর সব বয়সীরা পছন্দ করেন। বাংলাদেশে অ্যাম্বারের চাহিদাও বেশ রয়েছে। আর উদের আতর বেশি ব্যবহার করেন আরবের অধিবাসীরা। তবে বাংলাদেশেও ৩০ বছরের বেশি বয়সীদের মাঝে এ আতরের জনপ্রিয়তা রয়েছে।

এর বাইরে উদ, অ্যাম্বার, মাস্ক, জাফরান প্রভৃতি সৌরভের সংমিশ্রণে একধরনের আতর তৈরি হয়। বিশেষ সৌরভের এই আতরকে বলা হয় মোকাল্লাদ। বিক্রেতারা জানান, একাধিক সুবিধার কারণে মোকাল্লাদ আতরের জনপ্রিয়তা রয়েছে। যেমন সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া রাফিয়া গোল্ডের দাম ৪ হাজার ২০০ টাকা। আবার এপিক ফ্রেগনেন্সের মোকাল্লাদ আতরের দাম ৩০ হাজার টাকা।

এখন পর্যন্ত বাজারে আল হারামাইনের সবচেয়ে দামি আতর পাওয়া গেছে। আল হারামাইনের প্রিমিয়াম উদ জাতীয় সৌরভের আতর শেখের ৬০ মিলির বোতলের দাম ৪৭ হাজার টাকা। আবার ওয়ার্ড তাইফি নামের বিশেষ ফ্রেগনেন্সের আতরের দাম ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে নেই। অর্ডার করলে এনে দেওয়া হয়।

রাজধানীর গুলশান সেন্টার পয়েন্টে অবস্থিত আল হারামাইনের শোরুম ইনচার্জ নাদিম আহমেদ জানান, চলতি বছর রমজান উপলক্ষে ‘রমজান স্পেশাল আতর’ নামে নতুন আতর এনেছে আল হারামাইন। ১২ মিলিলিটারের এ আতরের মূল্য ২ হাজার ৭৩০ টাকা। এ ছাড়া লুজ আতরও বিক্রি করে কোম্পানিটি। এ ধরনের আতরের সর্বনিম্ন বিক্রির পরিমাণ ৬ মিলিলিটার। দাম সর্বনিম্ন ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬০০ টাকা। রয়েছে মাস্ক, অ্যাম্বার ও উদ প্রভৃতি ফ্রেগনেন্সের আতরই লুজ বা খোলা আকারে বিক্রি করা হয়। তবে কিছু আউটলেটে এর চেয়ে কম দামে পাওয়া যায়। যেমন ১৫ মিলিলিটারের আল হারমাইন আতরের দাম মাত্র ৯০০ টাকা।

সস্তায় আতরও মেলে

বায়তুল মোকাররম আতরের জন্য বিখ্যাত। এই বাজারের কয়েকজন দোকানির কাছ থেকে জানা গেছে, ভালো মানের আতর ৩ এমএল ২০০-৫০০ টাকা; ৬ এমএল ৫০০-১০০০ টাকা এবং ১২ এমএল ১০০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হয়। মধ্যম মানেরটা বিক্রি হয় ৩ এমএল ১০০-২০০ টাকা, ৬ এমএল ৩০০-৬০০ টাকা এবং ১২ এমএল ৫০০-১২০০ টাকা। সাধারণ মানের বেলায় ৩ এমএল ৫০-২০০ টাকা, ৬ এমএল ২০০-৫০০ টাকা এবং ১২ এমএল ৪০০-৮০০ টাকা।

রাজধানীর কাঁটাবন এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে আতর বিক্রি হয়। সেখানে মূলত খোলা আতর (বড় বোতল থেকে ছোট শিশিতে ঢেলে দেওয়া হয়) বিক্রি করা হয়। এখানে ৩ মিলিলিটার আকারের শিশিতে ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দামের আতর বিক্রি হয়। এর মধ্যে কিছু আতর ভারত ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা।

বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে আতর বিক্রির চাহিদা বেড়েছে। রাজধানীর কাঁটাবনে ফাতেমা হিজাব অ্যান্ড ফ্যাশন নামের দোকানে অন্যান্য পণ্যের সঙ্গে আতরও বিক্রি হয়। এই দোকানের স্বত্বাধিকারী মশিউর রহমান জানান, প্রতিবছরই দুই ঈদের সময় আতরের বেচাকেনা বেড়ে যায়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি।

মশিউর রহমান বলেন, সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার আতর বিক্রি করতে পারি। তবে ঈদের মৌসুমে এখন দিনে পাঁচ-সাত হাজার টাকার আতর বিক্রি হচ্ছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • আতর শেখের দাম ৪৭ হাজার টাকা