Prothomalo:
2025-03-30@11:06:10 GMT

হাঁটার জুতা কেমন হওয়া উচিত

Published: 27th, March 2025 GMT

নিয়মিত হাঁটতে সঠিক জুতা নির্বাচন করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি হাঁটায় আরাম দেয়, পায়ের ব্যথা কমায় এবং আঘাতজনিত সমস্যা প্রতিরোধ করে। সঠিক ওয়াকিং শ্যু বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যেসব বিষয় বিবেচনা করা উচিত—সঠিক সাইজ: জুতার সাইজ পায়ের আকারের সঙ্গে মানানসই হওয়া উচিত। খুব বেশি টাইট বা বেশি ঢিলেঢালা জুতা পরা উচিত নয়। আঙুলের সামনে কিছুটা জায়গা থাকা উচিত, যাতে হাঁটার সময় চাপ না পড়ে।

জুতার ওজন: হালকা জুতা হাঁটার জন্য বেশি উপযুক্ত। এটি হাঁটার সময় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে না।

সোলের গঠন ও গুণাগুণ

আউটসোল (নিচের অংশ): রাবারের তৈরি জুতা ভালো। এটি ভালো গ্রিপ দেয় এবং পিছলে যাওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। মাটিতে বা রাস্তার সঙ্গে ভালোভাবে খাপ খায় এমন ননস্লিপ ডিজাইন থাকা জরুরি।

মিডসোল (মাঝের অংশ): এটি পায়ে শকের (ধাক্কা বা কম্পন) প্রভাব কমায় এবং আরামদায়ক অনুভূতি দেয়। ইভা (EVA) ফোম বা জেল কুশনপ্রযুক্তি যুক্ত থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার জন্য ভালো।

ইনসোল (ভেতরের অংশ): নরম কুশন থাকা উচিত, যাতে পায়ের তালুতে চাপ কম পড়ে। অর্থোপেডিক ইনসোল থাকলে পায়ের গঠন অনুযায়ী অতিরিক্ত সাপোর্ট দেয়।

অ্যাঙ্কেল ও আর্চ সাপোর্ট: যাঁদের পায়ের তালুর বাঁক বেশি বা কম, তাঁদের জন্য বিশেষ ধরনের আর্চ সাপোর্ট থাকা জরুরি। গোড়ালির জন্য ভালো সাপোর্ট থাকলে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার সময় এটি গোড়ালি ও হাঁটুকে সুরক্ষা দেয়।

শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা: জুতার ওপরের অংশ এমন উপাদানে তৈরি হওয়া উচিত, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে। জালযুক্ত বা ক্যানভাসের তৈরি জুতা ভালো। এটি ঘাম শোষণ করে এবং পা ঠান্ডা ও আরামদায়ক রাখে। সিনথেটিক লেদারও আরামদায়ক হতে পারে।

হিলের উচ্চতা: জুতার হিল খুব বেশি উঁচু বা নিচু হওয়া উচিত নয়। সাধারণত শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ৫ ইঞ্চি হিল থাকা ভালো, যা হাঁটার জন্য আরামদায়ক হয়। সম্পূর্ণ সমান (ফ্ল্যাট) জুতা ব্যবহার না করাই ভালো।

বাঁকানোর সুবিধা: বাঁকানোর সুবিধা থাকলে সহজে পায়ের আঙুল বাঁকানো যায়। একেবারে শক্ত ও অনমনীয় জুতা হাঁটার জন্য উপযুক্ত নয়।

লেইস বা ভেলক্রো (চিপকানো ফিতা): হাঁটার জুতায় সাধারণত লেইস বা ভেলক্রো থাকা ভালো, যাতে এটি ভালোভাবে পায়ে ফিট হয়। সহজে খুলতে বা পরতে ভেলক্রো স্ট্র্যাপ ভালো বিকল্প হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য।

স্থায়িত্ব ও গুণগত মান: দীর্ঘস্থায়ী ও ভালো ব্র্যান্ডের জুতা নির্বাচন করা উচিত, যা সহজে নষ্ট হয় না।

প্রয়োজনে বিশেষ জুতা: প্লান্টার ফ্যাসাইটিস বা হিল স্পার থাকলে আর্চ সাপোর্ট ও হিল কুশনযুক্ত জুতা বেছে নেওয়া উচিত। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য নরম ও সেলাইবিহীন ইনসোল থাকা উচিত, যাতে ঘর্ষণজনিত ক্ষত না হয়। ফ্ল্যাটফুট থাকলে বিশেষ ধরনের আর্চ সাপোর্টযুক্ত জুতা ব্যবহার করা উচিত।

এম ইয়াছিন আলী, ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ ও চেয়ারম্যান, ঢাকা সিটি ফিজিওথেরাপি হাসপাতাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: আর চ স প র ট ট র জন য

এছাড়াও পড়ুন:

চাঁদরাতের আমল ও ঈদের প্রস্তুতি

নতুন চাঁদ রমজানের সিয়াম সাধনার পর ঈদের আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে। ‘হিলাল’ অর্থ নতুন চাঁদ, যা বাংলা উচ্চারণে ‘হেলাল’। যে সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ দেখা যায়, সে রাত হলো চাঁদরাত। প্রতি মাসের চাঁদরাত গুরুত্বপূর্ণ। আরবি চান্দ্রবৎসরের নবম মাস রমজান, দশম মাস শাওয়াল। প্রতি মাসের ২৯ তারিখ নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা সুন্নত এবং সেদিন নতুন চাঁদ দেখা না গেলে ৩০ তারিখও নতুন চাঁদ দেখার চেষ্টা করা সুন্নত। চান্দ্র তারিখের হিসাব রাখা ফরজে কিফায়া।

রমজান মাসের শেষে পয়লা শাওয়াল ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ। শাওয়াল মাসের চাঁদরাত হলো ঈদের রাত। ঈদের রাত ইবাদতের ফজিলতপূর্ণ রাতগুলোর অন্যতম। চাঁদরাতের প্রথম সুন্নত ও ফরজে কিফায়া আমল হলো সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গে চাঁদ দেখা। চাঁদ দেখলে বা চাঁদ দেখার সংবাদ পেলে বিশেষ দোয়া পড়া সুন্নত। (মুসনাদে আহমাদ: ১৪০০, রিয়াদুস সালেহিন: ১২৩৬)

হজরত তালহা ইবনে ওবায়দুল্লাহ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন নতুন চাঁদ দেখতেন তখন বলতেন, ‘আল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা আহিল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ইমানি ওয়াসসালামাতি ওয়াল ইসলামি ওয়াত্তাওফিকি লিমা তুহিব্বু ওয়া তারদা রাব্বুনা ওয়া রাব্বুকাল্লাহ।’

রমজান মাসের শেষে পয়লা শাওয়াল ঈদুল ফিতর বা রমজানের ঈদ। শাওয়াল মাসের চাঁদরাত হলো ঈদের রাত। ঈদের রাত ইবাদতের ফজিলতপূর্ণ রাতগুলোর অন্যতম

‘আল্লাহ মহান, হে আল্লাহ! এ নতুন চাঁদকে আমাদের নিরাপত্তা, ইমান, শান্তি ও ইসলামের সঙ্গে উদয় করো। আর তুমি যা ভালোবাসো এবং যাতে তুমি সন্তুষ্ট হও, সেটাই আমাদের তৌফিক দাও। আল্লাহ তোমাদের এবং আমাদের প্রতিপালক।’ (তিরমিজি, মিশকাত)

 রমজানের শেষে পয়লা শাওয়াল চাঁদরাত তথা ঈদের রাতের আমল হলো মাগরিব, এশা ও ফজরের নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা; রাতের ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে পবিত্রতা অর্জন করা; সম্ভব হলে গোসল করা; ইবাদতের উপযোগী ভালো পোশাক পরা; সুগন্ধি ব্যবহার করা; মাগরিবের পর আওয়াবিন নামাজ পড়া এবং শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া; রাত জেগে নফল ইবাদত করা; নফল নামাজ পড়া (তাহিয়্যাতুল ওজু, দুখুলুল মসজিদ, তওবার নামাজ, সালাতুল হাজত, সালাতুত তাসবিহ, সালাতুশ শোকর ইত্যাদি); কোরআন তিলাওয়াত করা, দরুদ শরিফ পাঠ করা, ইস্তিগফার করা, তাসবিহ-তাহলিল, জিকির-আজকার ইত্যাদিতে মশগুল থাকা।

প্রিয় নবীজি (সা.) বলেন, ‘যখন ঈদের দিন তথা ঈদুল ফিতরের দিন আসে, তখন আল্লাহ বান্দাদের বিষয়ে ফেরেশতাদের সঙ্গে গর্ব করে বলেন, ‘হে আমার ফেরেশতারা! যে শ্রমিক তার কাজ পূর্ণ করেছে, তার বিনিময় কী?’ তারা বলবে, ‘তাদের বিনিময় হলো তাদের পারিশ্রমিক পরিপূর্ণভাবে প্রদান করা।’ আল্লাহ বলবেন, ‘হে আমার ফেরেশতারা! আমার বান্দা-বান্দিরা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করেছে, তারপর সালাত ও দোয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়েছে। আমার সম্মান, মহত্ত্ব, করুণা, মাহাত্ম্য ও উচ্চ মর্যাদার শপথ! আমি তাদের প্রার্থনা কবুল করব।’ এরপর আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘তোমরা ফিরে যাও, আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম এবং তোমাদের মন্দ আমলগুলো নেকিতে পরিবর্তন করে দিলাম।’ নবীজি (সা.) বলেন, তারা ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে যাবে।’ (খুতবাতুল আহকাম, পৃষ্ঠা ১৬২-১৬৬) 

ঈদের প্রস্তুতি ও ঈদের দিনের আমল হলো, নামাজের আগে শারীরিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা; হাত-পায়ের নখ কাটা, ক্ষৌরকর্ম করা, ঈদের রাতে ঘুমানোর আগে চোখে সুরমা ব্যবহার করা, ঈদের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা, ফজরের নামাজ পুরুষেরা মসজিদে জামাতে আদায় করা এবং নারীরা নিজ গৃহে নিভৃতে আওয়াল ওয়াক্তে পড়া, ভোরে মিসওয়াক করা ও গোসল করা, সকালে খেজুর বা মিষ্টান্ন দ্বারা প্রাতরাশ গ্রহণ করা, সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর ও উত্তম ইসলামি সুন্নতি পোশাক, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জামাকাপড় পরিধান করা, টুপি ও পাগড়ি পরিধান করা, আতর বা সুগন্ধি ব্যবহার করা, সদকাতুল ফিতর আদায় করা, ঈদের মাঠে যাওয়া-আসার পথে নিম্নস্বরে তাকবির বলা।

সম্ভব হলে ঈদগাহে বা খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করা। সুযোগ থাকলে স্থানীয় কবর ও আত্মীয়স্বজনের কবর জিয়ারত করা। আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে যাওয়া, দেখা-সাক্ষাৎ করা ও খোঁজখবর নেওয়া এবং একে অপরকে আদর-আপ্যায়ন করা। আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জন যাঁরা দূরে অবস্থান করছেন, তাঁদের সঙ্গে ফোনে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]

সম্পর্কিত নিবন্ধ