খান ব্রাদার্সের কারসাজি: এবাদুলের ৩ সহযোগীর বিও হিসাব স্থগিত
Published: 27th, March 2025 GMT
পুঁজিবাজারে বিবিধ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে তিন ব্যাক্তির বিও হিসাব স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া বিষয়টি অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
অভিযুক্তরা হলেন- মো. আজাদ হোসেন পাটোওয়ারি, নাসির উদ্দিন আকন্দ ও মো.
তারা সবাই খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজিতে জড়িত বিকন ফার্মারসিউটিক্যালস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ এবাদুল করিমের সহযোগী।
গত মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বিএসইসির ৯৪৯তম কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সাংবাদিক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিশন সভায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার লেনদেনে কারসাজি সন্দেহে মো. আজাদ হোসেন পাটোওয়ারি, নাসির উদ্দিন আকন্দ ও মো.আখতার হোসেনের বিও হিসাবে ডেবিট ট্রানজেকশন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। এছাড়া, সভায় বিষয়টি অধিকতর তদন্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
এদিকে, সম্প্রতি খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে ৮ ব্যক্তি ও ৩ প্রতিষ্ঠানকে মোট ৮৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বিএসইসি। এ কারসাজিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বিকন ফার্মার এমডি মোহাম্মদ এবাদুল করিম। এ কারসাজিতেও আজাদ হোসেন পাটোওয়ারি, নাসির উদ্দিন আকন্দ ও মো.আখতার হোসেন ছিলেন।
২০২৩ সালের ৫ মার্চ থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত এবং একই বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোহাম্মদ এবাদুল করিমসহ তার সহযোগীরা খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্টিজের শেয়ারের দাম যোগসাজস করে বাড়ায়। বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত সাপেক্ষে কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনে বিএসইসি।
কোম্পানিটির শেয়ার কারসাজিতে সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেন- এবাদুল করিমের দুই সন্তান, তার তিন প্রতিষ্ঠান এবং চার বিনিয়োগকারী। একে অপরের সঙ্গে যোগসাজস করে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়িয়ে কোটি কোটি টাকার মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছেন।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ থেকে ১২ নভেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ ইন্ডাস্টিজের শেয়ারের দাম কারসাজি করে বাড়ানোর দায়ে সাত ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ এবাদুল করিমকে ৭ লাখ টাকা, তার মেয়ে রিসানা করিমকে ৮ লাখ টাকা, তার প্রতিষ্ঠান বিকন ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে ৬ লাখ টাকা, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড ইমপ্লোয়িজ সিপিএফকে ৭ লাখ টাকা, বিকন মেডিকেয়ারকে ৭ লাখ টাকা, ব্যক্তি বিনিয়োগকারী মো. সোহেল আলমকে ৬ লাখ টাকা, আক্তার হোসেনকে ১ লাখ টাকা, মো. মিজানুর রহমানকে ৫ লাখ টাকা, মো. নাসির উদ্দিন আকন্দকে ১ লাখ টাকা এবং আজাদ হোসেন পাটোয়ারীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সে হিসাবে আলোচ্য সময়ে শেয়ার কারসাজির জন্য মোট ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, ৫ মার্চ ২০২৩ থেকে ১৩ জুলাই ২০২৩ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কারসাজি করে বাড়ানোর দায়ে তিন ব্যক্তি ও তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদ এবাদুল করিমকে ৬ লাখ টাকা, তার মেয়ে রিসানা করিমকে ৬ লাখ টাকা, তার ছেলে উলফাত করিমকে ৬ লাখ টাকা, তার প্রতিষ্ঠান বিকন ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডকে ৬ লাখ টাকা, বিকন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড ইমপ্লোয়িজ সিপিএফকে ৬ লাখ টাকা এবং বিকন মেডিকেয়ারকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেহিসেবে আলোচ্য সময়ে শেয়ার কারসাজির জন্য মোট ৩৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
গত ২৫ মার্চ খান ব্রাদার্সের শেয়ার সর্বশেষ ১৫৯.৩০ টাকা দরে লেনদেন হয়। এদিন কোম্পানি ৭৫৫ বারে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৮৭৭টি শেয়ার লেনদেন করে। গত এক বছরে কোম্পানিটির শেয়ার সর্বনিম্ন ৭৬.১০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০৮.৩০ টাকা দরে লেনদেন হয়। বর্তমানে কোম্পানিটির মোট শেয়ার রয়েছে ৯ কোটি ৮০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৭৭টি। কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯৮ কোটি ৮ লাখ টাকা।
ঢাকা/এনটি/ইভা
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আজ দ হ স ন প ট শ য় র ক রস জ র ক রস জ র ক রস জ ত ব এসইস ল নদ ন সহয গ
এছাড়াও পড়ুন:
চরমোনাই পীরের ভাই ফয়জুলকে বিজয়ী চেয়ে মামলা
বরিশাল সিটি করপোরেশনে ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনী ফল বাতিল চেয়ে মামলা করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। মেয়র পদে তাকে বিজয়ী ঘোষণার আবেদন জানিয়ে বৃহস্পতিবার বরিশাল নির্বাচনী ট্রাইবুনালে মামলাটি করেন তিনি।
ফয়জুল ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্বিতা করে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিলেন। জয়ী হয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল খায়ের আবদুল্লাহ। মামলায় খায়ের আবদুল্লাহ ছাড়াও অপর ৫ জন মেয়র প্রার্থীকে বিবাদী করা হয়েছে।
ফয়জুলের আইনজীবী শেখ নাছের এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ট্রাইবুনালের বিচারক হাসিবুল হাসান মামলা গ্রহণ করে আদেশের জন্য রেখেছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এনে নির্বচনের দিন কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন খায়ের আবদুল্লাহ। বেলা ১টার দিকে ২২নং ওয়ার্ডের সাবেরা খাতুন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের প্রতিবাদ করলে ফয়জুল করীম আওয়ামী লীগ কর্মীদের হামলার শিকার হন। বেলা ৩টায় জাগুয়া কলেজ কেন্দ্রে তার এজেন্টদের বের করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। মামলায় দাবি করেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি জয়ী হতেন।
২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী খায়ের আবদুল্লাহ ৮৭ হাজার ৮০৮ ভোট এবং চরমোনাই পীরের ভাই হাত পাখার প্রার্থী ফয়জুল করীম পেয়েছিলেন ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট।