জাপোরিঝঝিয়ার পারমাণবিক কেন্দ্র রুশ স্থাপনা। তাই এর নিয়ন্ত্রণ ইউক্রেন বা অন্য কোনো দেশের কাছে দেওয়া অসম্ভব। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই পারমাণবিক কেন্দ্রটি যৌথভাবে পরিচালনার বিষয়টিও প্রত্যাখ্যান করা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, যৌথভাবে পরিচালনায় পারমাণবিক কেন্দ্রের যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া জাপোরিঝঝিয়া এখন আংশিকভাবে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে অভিযান শুরুর পর যে চারটি অঞ্চলে রুশ সেনারা নিয়ন্ত্রণে নেয় তার মধ্যে জাপোরিঝঝিয়া একটি। অভিযান শুরুর সাত মাস পরে এসব অঞ্চলে গণভোট আয়োজন করে রাশিয়া। পরে সেগুলোকে ইউক্রেন থেকে বিচ্ছিন্ন করে রুশ ভূখণ্ডের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি তুলে ধরেছে।

পশ্চিমা দেশগুলো অবশ্য এই গণভোটকে ভুয়া বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, জাপোরিঝঝিয়া কেন্দ্রটি ফেরত দেওয়া অনেক দিন ধরেই আর বাস্তবসম্মত নয়। বিশেষ করে ইউক্রেনের কাছে স্থানান্তর বা অন্য কোনো দেশের হাতে তুলে দেওয়া অসম্ভব।

আক্রমণের শুরুতেই রুশ বাহিনী কেন্দ্রটি দখল করে নেয়। ছয়টি চুল্লিসহ ইউরোপের বৃহত্তম পারমাণবিক এ বিদ্যুৎকেন্দ্রে এর পর থেকে নিয়মিতভাবে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে।

বর্তমানে এই কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক কর্মসূচি পর্যবেক্ষক সংস্থা ইউক্রেনের অন্য পারমাণবিক কেন্দ্রের সঙ্গে এটিরও নজরদারি করে থাকে।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এ কেন্দ্রটিকে তাদের এখতিয়ারে ফিরিয়ে আনার দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া জাপোরিঝঝিয়াকে রুশ ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্তিকে অবৈধ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি মাসে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনালাপের সময় ইউক্রেনের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার প্রস্তাব দেন।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ইউক্রেনের জনগণের। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে এসব কেন্দ্রে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন।

হামলা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেশটির তিনটি পৃথক এলাকায় বেসামরিক জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাচেষ্টায় ইউক্রেনকে দায়ী করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, এ ধরনের হামলা বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ৩০ দিনের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ক্রিমিয়ায় গ্যাস সংরক্ষণাগারে হামলার চেষ্টা করে ইউক্রেন। এ ছাড়া কুরস্ক ও ব্রাইনস্ক এলাকায়ও হামলা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ক্রেমলিন জানায়, রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয়ই তেল শোধনাগার, তেল ও গ্যাস পাইপলাইন এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে ৩০ দিনের জন্য হামলা বন্ধে রাজি হয়েছে।

ইউক্রেনের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করে বলা হয়, তারা মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাশিয়ায় ১১৭টি ড্রোনের সাহায্যে হামলা চালায়। এর মধ্যে ৫৬টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মাইকোলাইভ বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এ বন্দর দিয়ে কৃষ্ণসাগরে যুক্ত হয় ইউক্রেন।

গত মঙ্গলবার সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন ও রাশিয়া কৃষ্ণসাগরে নৌপথ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। সমঝোতা অনুযায়ী, এই নৌপথে পাল্টাপাল্টি হামলা চালানো হবে না। তবে কবে নাগাদ এ চুক্তি কার্যকর হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জার্মানির আহ্বান

জার্মানির পক্ষ থেকে গতকাল রাশিয়াকে শর্ত ছাড়াই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। মস্কো দাবি করেছে, কৃষ্ণসাগরে হামলা বন্ধ করার চুক্তির বিষয়টি তাদের ওপর পশ্চিমাদের দেওয়া কিছু বিধি–নিষেধ তুলে নেওয়ার পরেই কার্যকর হতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক বলেছেন, ‘শর্ত ছাড়াই রাশিয়াকে সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ইউক র ন র প য় ইউক র ন

এছাড়াও পড়ুন:

যেভাবে ঈদ উৎসব উদ্‌যাপন শুরু হয়েছিল

দুনিয়া জুড়ে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদ। এর একটি ঈদুল ফিতর, আর অন্যটি ঈদুল আজহা, যাকে কোরবানির ঈদও বলা হয়। বাংলাদেশের মুসলমানরা সবচেয়ে বড় উৎসব হিসেবে বিবেচনা করেন ঈদুল ফিতরকে এবং এক কথায় সবার কাছে পরিচিত ঈদ হিসেবে।

ঈদ ইসলামের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হলেও ইসলাম ধর্মের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু ঈদের প্রচলন শুরু হয়নি। মহানবী (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করার পর ঈদের প্রবর্তন হয়। তিনি মদিনায় পৌঁছে দেখতে পান যে ইহুদিরা নওরোজ উৎসব ও মেহেরজান উৎসব উদ্‌যাপন করছে। মদিনার জনসাধারণও তাদের সঙ্গে উৎসবে যোগদান করছে। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এ দুটি কিসের দিন? তারা বলল, আমরা জাহেলি যুগে এ দুই দিন খেলাধুলা ইত্যাদি উৎসব পালন করতাম। এ নিয়মই চলে আসছে।

আরও পড়ুনঈদ যেভাবে এল১১ এপ্রিল ২০২৪

মহানবী (সা.) মুসলমানদের এ দুটি উৎসব পালন করতে নিষেধ করেন এবং বলেন, মহান আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দুটির পরিবর্তে এর চেয়ে উত্তম দুটি দিন দান করেছেন। তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। (নাসায়ি, হাদিস: ১,৫৫৬, আবু দাউদ, হাদিস: ১,১৩৪)

মদিনায় প্রথম ঈদ

ঈদের নামাজ প্রবর্তিত হওয়ার সময় সম্পর্কে দুটি অভিমত পাওয়া যায়-প্রথমত, আদ-দুররুল মুখতার গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে প্রথম হিজরিতে ঈদের নামাজের বিধান প্রবর্তিত হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, বেশির ভাগ আলেমের মতে, দ্বিতীয় হিজরিতে তার বিধান প্রবর্তিত হয়। কেননা, দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে রোজা ফরজ হয়। মুসলমানরা মদিনায় প্রথম ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়ে দ্বিতীয় হিজরি মোতাবেক ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ বা ৩১ মার্চ। (আনওয়ারুল মিশকাত: ৩/৬০৫; আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৫/৫৪)

ঈদ উদ্‌যাপন মদিনায় শুরু হলেও পরবর্তীতে পুরো দুনিয়ায় মুসলমানদের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রচলিত হয়ে যায় ঈদ পালন। কালক্রমে অঞ্চল ভেদে এই উৎসবে ভিন্ন ভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা যুক্ত হয়।

আরও পড়ুনঈদুল ফিতর নামাজের নিয়ম১০ এপ্রিল ২০২৪

প্রথম যুগের ঈদ

তখনকার ঈদে বর্তমান ঈদের মতো নতুন জামাকাপড়, কেনাকাটার ধুমধাম ছিল না। তবে আনন্দ-খুশি কম ছিল না। মহানবী (সা.) ঈদের দিন ছোট-বড় সবার আনন্দের প্রতি খেয়াল করতেন। মদিনার ছোট ছোট শিশু-কিশোরের সঙ্গে বিশ্বনবী (সা.) আনন্দ করতেন। শরিয়তের অন্তর্ভুক্ত সব আনন্দ করার অনুমতি দিতেন।

মুসলমানদের জন্য ঈদ পালন ওয়াজিব অর্থাৎ অবশ্য পালনীয়। ঈদের দিন সকালে দুই রাকাত নামাজ আদায় করা, যা সব মুসলমানের জন্য অবশ্য পালনীয়। এ ছাড়া ঈদুল ফিতরে ফিতরা প্রদান করাও একটি অবশ্য পালনীয় রীতি। ফিতরা ঈদের নামাজের আগে অসহায় গরিব-দুঃখীদের দিতে হয়।

যখন প্রথম ঈদের প্রচলন চালু হয়, তখন ঈদের নামাজের পর মিষ্টি দ্রব্য খাওয়া এবং আত্মীয় পরিজন, প্রতিবেশী বন্ধুদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের রেওয়াজ ছিল।

আরও পড়ুনমক্কার পর পবিত্রতম শহর মদিনা২৯ জানুয়ারি ২০২৩

সম্পর্কিত নিবন্ধ