মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সদর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে সংবর্ধনা দিয়েছেন জেলা প্রশাসন নারায়ণগঞ্জ।

‎‎বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে কুরআন তেলোয়াতের মাধ্যমে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপরে শহীদের স্বরণে দাড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

‎‎স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ড.

মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, আমরা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছি, যারা এক নদী রক্ত, লক্ষ প্রাণের বিনিময় ও তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের দিয়েছে লাল সবুজের একটি স্বাধীন বাংলাদেশ।

যে দেশ না হলে আজকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সংবর্ধনা দেওয়ার সৌভাগ্য আমাদের হতো না, এজন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

‎‎তিনি আরও বলেন, আপনারা ১৯৭১ সালে দেশ প্রেমের জন্য জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে যে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন, আমরা চাই আগামী প্রজন্ম যেন সেই দেশ প্রেম ধারণ করতে পারে।

আমরা বিশ্বাস করি এইদেশ আপনাদের দেওয়া উপহার, আমরা সেই উপহারকে কাঁধে নিয়ে এইদেশকে উন্নত করার চেষ্টা করছি।

‎‎সিনিয়র সহকারি কমিশনার জেলার ফারা ফাতেহা তাকমিলার সঞ্চলনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার, সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর এডভোকেট নুরুল হুদা, সদর উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ নুর হোসেন মোল্লা, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরউদ্দিন আহমেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জামায়াতে ইসলামী মহানগরী সাবেক আমির মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন মহানগর সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ প্রমুখ।
 

উৎস: Narayanganj Times

কীওয়ার্ড: ন র য়ণগঞ জ ন র য়ণগঞ জ

এছাড়াও পড়ুন:

পোশাকশ্রমিকদের ঈদভাবনা: নেওয়ার চেয়ে পরিবারকে দিতে পারাই বেশি আনন্দের

বাবা অর্থনৈতিকভাবে খুব সচ্ছল ছিলেন না। তবু ঈদ এলে নতুন জামা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কোনো কোনো সময় তা-ও পারতেন না। এ জন্য মন খারাপ হতো। এখন বুঝতে পারেন, যতটা না তাঁদের মন খারাপ হতো, সন্তানদের নতুন জামা দিতে না পারায় মা–বাবার বেশি খারাপ লাগত। আসলে নেওয়ার চেয়ে পরিবারকে দিতে পারার মধ্যেই বেশি আনন্দ। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারাটাই বেশি আনন্দের।

কথাগুলো বলছিলেন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার একটি ডাইং কারখানায় সহকারী সুপারভাইজার মো. জুয়েল (৩০)। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ডে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। নোয়াখালীর চর আলেকজান্ডারে পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

ঈদযাত্রার অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জুয়েল ফিরে যান শৈশবে। তিনি জানান, শৈশব-কৈশোর পেরিয়ে যখন উপার্জন করতে শুরু করেছেন, তখনই তাঁর ঈদের উপলব্ধি বদলে গেছে। শৈশবে ঈদের উপহার না পেলে যতটা যন্ত্রণা হতো, বড় হওয়ার পর পরিবারকে পছন্দমতো দিতে না পারলে তার চেয়ে বেশি মন খারাপ হয়।

জুয়েলের ঈদভাবনার কথা শোনার সময় পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর সহকর্মী মো. রাহীম। জুয়েলের আলাপে মাথা নাড়িয়ে সায় দিচ্ছিলেন তিনি। মা–বাবা, চাচা-ভাতিজার জন্য ঈদের উপহার নিয়ে তিনি নরসিংদীতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় উচ্চমাধ্যমিক শেষ করতে না পারা রাহীম জুয়েলের সঙ্গে ফতুল্লার মেট্রো নিটিং অ্যান্ড ডাইং কারখানায় অপারেটর সহকারীর কাজ করেন।

রাহীম বলেন, তাঁর কাছে এখনো ঈদ মানে হাতে মেহেদি দেওয়া। মা–বাবাকে সালাম করে তাঁদের কাছ থেকে সালামি নেওয়া। তাই প্রতিবারই কষ্ট করে হলেও গ্রামে ঈদ করতে যান।

তৈরি পোশাক কারখানার এই দুই শ্রমিক জানান, মার্চ মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস পরিশোধের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের কারখানা ছুটি হয়েছে। সব মিলিয়ে আট দিনের ছুটি পেয়েছেন। সময়মতো বেতন, বোনাস ও লম্বা ছুটি এবার তাঁদের ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছে।

তবে নিজেরা বেতন-বোনাস পেলেও অনেক শ্রমিক বেতন না পাওয়ায় তাঁদের এখনো আন্দোলন করতে হচ্ছে বলে জানান। জুয়েল বলেন, ‘সারা বছর আমরা নানাভাবে কষ্ট করে দিন কাটাই। আশা থাকে ঈদ-পার্বণে পরিবার নিয়ে আনন্দ-উৎসব কাটানোর। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু যখন বেতন–বোনাস হয় না, তখন শ্রমিকদের আর ঈদ বলতে কিছু থাকে না।’

জুয়েল ও রাহীম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে গাড়ির টিকিট পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে নরসিংদীর টিকিটের জন্য ১০ টাকা ও নোয়াখালীর জন্য প্রতিটি টিকিটে ৫০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে তাঁদের।

বৃহস্পতিবার বিকেলের পর সাইনবোর্ড ও শিমরাইল মোড়ে আসা অধিকাংশ শ্রমিকই জুয়েল, রাহীমের মতো নারায়ণগঞ্জের তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। ঈদের লম্বা ছুটি পেয়ে তাঁরা প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়িতে ফিরছেন। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোটাই তাঁদের ঈদের আনন্দ।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • সাংবাদিক রবিনের ঈদ শুভেচ্ছা
  • ফতুল্লায় শ্রমজীবী মানুষের মাঝে বাসদের ঈদ সামগ্রী বিতরণ
  • মাসদাইরে আনোয়ার প্রধানের উদ্যোগে ঈদ সামগ্রী বিতরণ
  • মাসদাইরে মহানগর বিএনপির ঈদ সামগ্রী বিতরণ
  • বন্দরে তারেক রহমানের ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ
  • নারায়ণগঞ্জে ফুটপাতে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা, ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়
  • শহীদ সুমাইয়ার পরিবারকে তারেক রহমানের ঈদ উপহার দিলো মামুন মাহমুদ
  • নাসিক ১ নং ওয়ার্ড জিয়া সৈনিক দলের কমিটি ঘোষণা
  • রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দে সম্মানে গণ অধিকার পরিষদের ইফতার 
  • পোশাকশ্রমিকদের ঈদভাবনা: নেওয়ার চেয়ে পরিবারকে দিতে পারাই বেশি আনন্দের