বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে পল কনেট ও এলেন কনেট দম্পতির অসাধারণ অবদানের গল্প নিয়ে তিন দিনব্যাপী এক প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে।

আজ বুধবার রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকায় ভারপ্রাপ্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান। প্রদর্শনীর যৌথ আয়োজক মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও গুলশান সোসাইটি।

জেমস গোল্ডম্যান বলেন, পল কনেট ও এলেন কনেটের যে গল্প, সেটা সত্যিই প্রেরণামূলক। এখানে আসার আগপর্যন্ত তাঁদের গল্প তিনি জানতেন না। এই গল্প দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক বন্ধনেরই প্রতিফলন।

১৯৭১ সালের মার্চে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়, তখন নবদম্পতি পল ও এলেন কনেট ইউরোপে হানিমুন শেষ না করেই যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ফেরেন। তাঁরা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিয়ে বৈশ্বিক জনমত গঠন, তহবিল সংগ্রহ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ট্রাফালগার স্কয়ারে হাজারো মানুষের সমাবেশ করেন।

এই দম্পতিসহ অন্য সংগঠকেরা মিলে ‘অ্যাকশন ফর বাংলাদেশ’ নামের একটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ওষুধপত্রসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে তাঁরা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এসব ঘটনার স্থিরচিত্রসহ মুক্তিযুদ্ধে এই দুজনের অজানা সব গল্পের সম্ভার থাকছে এ প্রদর্শনীতে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত প্রদর্শনী চলবে।

.

উৎস: Prothomalo

এছাড়াও পড়ুন:

ইমোতে প্রেম: চট্টগ্রামে তরুণী খুন, প্রেমিক গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া এক সন্তানের জননী টুম্পা আক্তারের সাথে ইমো অ্যাপে প্রেম গড়ে ওঠে চট্টগ্রামে বসবাসকারী বেকার ইব্রাহিম হাওলাদারের। এই প্রেমের সূত্র ধরেই ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে চট্টগ্রামে চলে যান টুম্পা। বিয়ে না করে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে থাকেন নগরীর বন্দর থানার কলসিদীঘি এলাকায়। 

তবে সুখের হয়নি সে জীবন। অন্য পুরুষের সাথে টুম্পার সম্পর্ক থাকতে পারে। সবসময় এমন সন্দেহ করতেন ইব্রাহিম। সেই সন্দেহ থেকেই একদিন টুম্পার গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে ইব্রাহিম। 

সম্পুর্ণ ক্লু লেস এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে ঘাতক ইব্রাহীমকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশ। 

শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে নগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন উপ-কমিশনার (ডিবি-পশ্চিম) মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান।

মাহবুব আলম খান জানান, গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় বন্দর থানার ওয়াসিম চৌধুরী পাড়া পেলাগাজীর বাড়ি আলী সওদাগরের বিল্ডিংয়ের নিচ তলার একটি বাসা থেকে এক অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপরই ঘটনার ছায়াতদন্ত শুরু করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। বাড়ির মালিকের কাছে ভাড়াটিয়ার তথ্য না থাকায় তাৎক্ষণিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পরে একই এলাকার একটি দোকানের ক্যাশমেমো থেকে পাওয়া নম্বর ধরেই এগোয় তদন্ত। এরপরই শনাক্ত হয় ইব্রাহিম; যিনি চট্টগ্রাম থেকে বাগেরহাট যাচ্ছিলেন।

পুলিশ জানায়, ইব্রাহিমকে রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজ এলাকায় বাসের ভেতর থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। তারপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদে উদঘাটিত হয় খুনের রহস্য।

পুলিশ জানায়, ইমোতে প্রেমে সম্পর্কের সূত্র ধরে টুম্পা ও ইব্রাহীম বিয়ে ছাড়াই স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করছিলেন। ভিকটিম টুম্পা আক্তার একজন গার্মেন্টসকর্মী। তার পরিচয় মূলত ইব্রাহিমকে গ্রেপ্তারের পরই জানতে পারি। তারা বন্দর এলাকার ওই বাসায় লিভ টুগেদার করত। কাগজে-কলমে তাদের বিয়ে হয়নি। দুজন ব্যক্তিকে স্বাক্ষী রেখে তাদের মুখে মুখে বিয়ে হয়।
টুম্পা আক্তার যখন কর্মস্থলে যেতেন ইব্রাহিম মোবাইল নিয়ে যেতে দিতেন না। মোবাইল বাসায় রেখে যেতেন। বাসায় রাখার পর অনেকসময় তার ফোনে পুরুষ কণ্ঠে কল আসত। ইব্রাহিমের সন্দেহ হয় তার কথিত স্ত্রীর আরও কয়েকজনের সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে। এই সন্দেহের জেরে তাদের মধ্যে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। 

ঘটনার দিন এই বিষয় নিয়েই তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। এক পর্যায়ে ইব্রাহিমের মাথার কাছে একটি শেলফে থাকা রশি দিয়ে টুম্পার গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ওই সময় টুম্পার বাচ্চাটি পাশের রুমে ঘুমাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর বাচ্চাটি ঘুম থেকে উঠলে তাকে একজন মহিলার কাছে দিয়ে ইব্রাহিম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

এ হতাকাণ্ডের ঘটনায় বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

ঢাকা/রেজাউল/এস

সম্পর্কিত নিবন্ধ