স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের প্রয়োজন হলে তখন সবাই এক হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। 

বুধবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

তবে নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দেওয়া সময়ের উপর ভরসা রাখতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। আমরা সেখানেই বিশ্বাস রাখতে চাই। আর নির্বাচন হবে না এমনটা বিশ্বাস আমরা করি না।”

কোনো অনৈক্য রয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “অনৈক্য কিছু নাই। স্বার্থের সংঘাত আছে, প্রত্যেকটা দলের নিজস্ব আদর্শিক জায়গা আছে, একটা মতাদর্শ আছে। যার যার মতাদর্শ থেকে কথা বলে। এটা আমি অনৈক্য বলব না। যদি কেউ অনৈক্য বলে, এটাকে আমি এমন করে বলবো, এমন সময় যদি কখনও আসে জাতীয় বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজন পড়বে, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ঐক্যের প্রয়োজন পড়বে, তখন কিন্তু আমরা সবাই এক হয়ে যাব। এখানে কোনো ভুল নাই। এখন দলীয় আদর্শিক স্বার্থে হয়তো আলাদা কথা বলছি, হতে পারে। কিন্তু যখন প্রয়োজন হবে, তখন বাংলাদেশের জনগণ এক হয়ে যাবে।”

মির্জা আব্বাস বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও আমরা প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ মাঝে আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম। ৫ তারিখের পরে আবার নতুন করে পেয়েছি। ৭১ এর বীর শহীদ যাদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা পেয়েছি তাদের স্মরণ করছি। তাদের পরিবারের যারা এখনও বেঁচে আছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আজকের এ দিনে দেশবাসীকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আমাদের নেতা তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।”

তিনি বলেন, “আমরা এই মাত্র কিছু দিন আগে জুলাই আগস্টে ছাত্রজনতার আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন করে স্বৈরাচারকে তাড়িয়ে একটা নতুন স্বাদ পেয়েছি। অনেকে বলে দ্বিতীয় স্বাধীনতা। আসলে আজকে স্বাধীনতা দিবস প্রমাণ করে, দ্বিতীয় স্বাধীনতা বলে বাংলাদেশে কিছু নাই। যারা বলে তারা আজকের স্বাধীনতা দিবসে খাটো করতে চায়, ৭১ এর স্বাধীনতায় তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। সুতরাং এই দিনটাকে তারা খাটো করতে চায়।”

তিনি আরো বলেন, “স্বাধীনতাকে যেন ধরে রাখতে পারি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে এই স্বাধীনতাকে ধরে রাখতে পারে এজন্য আল্লাহর কাছে দোয়া কামনা করবো।”

এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভি, বিএনপি নেতা আমানুল্লাহ আমানসহ দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা/সাব্বির/ইভা 

.

উৎস: Risingbd

কীওয়ার্ড: চ কর চ কর স ব ধ নত অন ক য ব এনপ

এছাড়াও পড়ুন:

বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে একসঙ্গে তিন ভাইয়ের মৃত্যু 

বরগুনার পাথরঘাটায় বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতরা আপন তিন ভাই। শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাথরঘাটার রায়হানপুর ইউনিয়নের সোনার বাংলা স্কুলের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন, মঠবাড়িয়া উপজেলার বাইশকুড়া ইউনিয়নের টিকিকাটা গ্রামের নাসির খানের ছেলে নাঈমুজ্জামান শুভ (২২), মো. শান্ত (১৪) ও মো. নাদিম (৮)। এ ঘটনায় বাসের ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ। পাথরঘাটা থানার ওসি মেহেদী হাসান এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী হাবিবুর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাথরঘাটা থেকে রাজিব পরিবহন নামে একটি খালি বাস বেপরোয়া গতিতে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। অপরদিকে মঠবাড়িয়া থেকে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন তিন ভাই। মুখামুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়রা ড্রাইভার ও হেলপাকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানা হেফাজতে নেয়।

নিহতদের বাবা নাসির খান জানান, তার বড় ছেলে নাঈমুজ্জামান শুভ শুক্রবার ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসেন। শুভর মামাত ভাই তার বাড়ির জন্য কিছু কেনাকাটা করে তার কাছে দেয়। সেগুলো পৌঁছে দিতে তাঁর তিন ছেলে মঠবাড়িয়া থেকে পাথরঘাটায় যাচ্ছিলেন। পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. মেহেদী হাসান জানান, এ ব্যাপারে আইনী প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ