Prothomalo:
2025-03-27@04:13:26 GMT

জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখুন

Published: 25th, March 2025 GMT

গুজব সংক্রমণ ব্যাধির মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই গুজবের ভিত্তি যদি রাজনীতি হয়, তাহলে তো কথাই নেই। মুহূর্তে জন থেকে জনে, এক এলাকা থেকে আরেক এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশের ভেতরে ও বাইরে একটি মহল গুজব ছড়িয়ে আসছে। যাদের উদ্দেশ্য যেকোনো মূল্যে দেশের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করা।

সাম্প্রতিক কালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় নাগরিক পার্টির একজন নেতার বার্তাকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। পক্ষে–বিপক্ষে নানা রকম প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এমনকি এই প্রচারণা থেকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীও রেহাই পায়নি। রাজনৈতিক দলের নেতা বা সরকারের কোনো পদাধিকারীর আগের কোনো বক্তব্যকে এখনকার বক্তব্য বলে চালানো হচ্ছে। কেউ কেউ গুজবের আগুনে বেগুনপোড়া দিয়ে আত্মসুখও অনুভব করছেন।

গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকার বিদায় নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। স্বাভাবিকভাবে সবাই আশা করেছিলেন, দেশে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা চলছিল তার অবসান হবে, অর্থনীতি ও জনজীবনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা সেটা বলছে না।

আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করলাম, যতই দিন যাচ্ছে, আন্দোলনকারী দল ও পক্ষগুলোর মধ্যে অনৈক্য–বিভেদ বাড়ছে। এই সুযোগে দেশের ভেতরে ও বাইরে একটি চক্র অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছ। আরেকটি চক্র বিদেশে বসে যাকেই অপছন্দ হচ্ছে, তাকে হুমকি দিচ্ছে, বাড়িঘর ও অফিস হামলা চালানোর জন্য উসকানি দিচ্ছে। অতীতে তাদের উসকানির কারণে কিছু স্থানে অঘটন ঘটলেও এখন আর জনগণ তাদের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না। 

৫ আগস্টের আগের অরাজক অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে যখন অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে, তখন কোনো ঘটনা, বিবৃতি কিংবা গুজবকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা কারোরই কাম্য নয়। অর্থনৈতিক উন্নতি ও সহিষ্ণু রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরির জন্য দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। বিশেষ করে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী কোনো পক্ষের এমন কিছু করা বা বলা উচিত হবে না, যাতে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। সে রকম কিছু হলে সুযোগসন্ধানীরা ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ পাবে, যা কখনোই করতে দেওয়া সমীচীন হবে না। সংশ্লিষ্ট সবাইকে মনে রাখতে হবে, গণ–অভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণের জন্য জাতীয় ঐক্য আরও মজবুত করতে হবে।

ডিসেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা সামনে রেখে সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে সংবাদমাধ্যমে জানা যাচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের কারও এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে নির্বাচনপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। বহুদলীয় গণতন্ত্রে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন যেকোনো দল করতে পারে। অতীত অপরাধের বিচারও দাবি করতে পারে। কিন্তু ‘আমরা দমন করব’, ‘প্রতিহত করব’—এ ধরনের স্লোগান স্বৈরাচারী আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়।

গুজব তারাই সৃষ্টি করে, যাদের ভালো কিছু করার সামর্থ্য নেই। সমাজের প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিককে চলমান সংকট সম্পর্কে সজাগ থাকতে হবে। আন্দোলনকারী সব পক্ষের প্রতি আহ্বান থাকবে, এসব উসকানি ও গুজবে কান দেবেন না।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: র জন ত ক সরক র

এছাড়াও পড়ুন:

বিচ হ্যাচারির শেয়ারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, তদন্তের নির্দেশ

পুঁজিবাজারে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিক হারে বাড়ার পেছনে কোনো কারসাজি রয়েছে কি-না তা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এ তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করেছে বিএসইসি।

বিএসইসির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, সম্প্রতি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ও লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক। এ পরিস্থিতিতে ডিএসইকে কোম্পানিটির লেনদেন সম্পর্কে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হলো। সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদর ও লেনদেনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণগুলো (বাজারের কারসাজি, ইনসাইডার ট্রেডিং ও অন্যান্য বাজারের অপব্যবহারসহ) চিহ্নিত করে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলো।

তথ্য মতে, ডিএসইতে গত ৩ মাসে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম প্রায় ৩৪ টাকা বা সোয়া ৩৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে গত ১ মাসেই বেড়েছে ১২ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনের দিক থেকেও শীর্ষ ২০ কোম্পানির তালিকায় ছিল এটি। সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছাড়া কোম্পানিটির এই মূল্যবৃদ্ধিকে অস্বাভাবিক মনে করছে বিএসইসি। এ কারণে মূল্যবৃদ্ধির কারণ অনুসন্ধানে ডিএসইকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা/এনটি/ইভা 

সম্পর্কিত নিবন্ধ