দুই দশক পর বিটিভি প্রাঙ্গণে দেখা মিলল নন্দিত কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীনের। ঈদের একক সংগীতানুষ্ঠানের জন্য শুক্রবার রাষ্ট্রীয় এই টিভি চ্যানেলে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এদিন সন্ধ্যা থেকে শনিবার ভোর ৪টা পর্যন্ত রেকর্ড করা হয় ‘প্রিয়তম একটু শোনো’ শিরোনামে একক সংগীতানুষ্ঠানের আটটি গান। 

সে তালিকায় রয়েছে দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা গান ‘দু চোখে ঘুম আসে না’, ‘কাল সারারাত’, ‘মধুচন্দ্রিমা এই রাতে’, ‘সারা বাংলায় খুঁজি তোমারে’, ‘দারুণও বরষায় নদী’, ‘প্রিয়তম একটু শোনো’ ও ‘বন্ধু তুমি কই’। এর পাশাপাশি রেকর্ড করা হয় ‘খোলা হাটের বালুচরে’ শিরোনামে একটি আঞ্চলিক বিয়ের গান।

অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্য আনতে কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় তিনটি গানে আলাদাভাবে কোরিওগ্রাফি করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটির নির্বাহী প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন আফরোজা সুলতানা।

এ আয়োজন নিয়ে বেবী নাজনীন বলেন, ‘ঈদ উৎসব আনন্দময় করে তুলতেই দর্শক-শ্রোতার প্রিয় কিছু গান দিয়ে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে। নির্মাণেও আছে নান্দনিকতার ছাপ। সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি অনেকের ভালো লাগবে বলেই আশা করছি।’

দুই দশক পর বিটিভিতে ফেরা নিয়ে এই শিল্পী আরও বলেন, ‘বিটিভি শুধু রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলই নয়, সেই সঙ্গে বহু শিল্পী ও তারকার আঁতুরঘর। দশকের পর দশক পেরিয়ে গেছে, তারপরও যেখানে গান গাওয়া যেভাবে বঞ্চিত করা হয়েছে, তার ইতি টানা প্রয়োজন মনে করেননি কেউ। রাজনৈতিক কারণে শিল্পীদের অদৃশ্য এক কালো তালিকা তৈরি করে সেখানে একরকম প্রবেশ নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। একজন শিল্পী হিসেবে জাতীয় গণমাধ্যমে গাইতে না পারা কষ্ট কেমন, তা দুই দশক ধরে উপলব্ধি করেছি। অবশেষে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিটিভিতে ফিরে আসা। এই ফেরা অন্যরকম এক ভালো লাগার। এখন আমার একটাই চওয়া, অতীতের ঘটনাগুলোর যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। প্রত্যেক শিল্পী যেন স্বাধীনভাবে প্রচার মাধ্যমগুলোয় নিজস্ব সৃষ্টি ও প্রতিভা তুলে ধরার যেন সুযোগ পান।’

এদিকে বিটিভির পাশাপাশি বিভিন্ন চ্যানেলের আরও কয়েকটি ঈদ অনুষ্ঠানে দেখা মিলবে বেবী নাজনীনের। এরই মধ্যে জিটিভির ‘টাইমলাইন বাংলাদেশ’ এবং একাত্তর টিভিতে জীবনীভিত্তিক একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন তিনি। শিগগিরই অংশ নেবেন যমুনা টিভির ‘যমুনার নিমন্ত্রণে’ অনুষ্ঠানে।

প্রসঙ্গত, ‘ব্ল্যাক ডায়মন্ড’ ও ‘উত্তরবঙ্গের দোয়েল’খ্যাত শিল্পী বেবী নাজনীনের সংগীত ক্যারিয়ার চার দশকের বেশি সময়ের। দীর্ঘ এই সংগীত সফরে তিনি টিভি, চলচ্চিত্র, বেতারসহ দেশ-বিদেশের মঞ্চে গান করে কুড়িয়েছেন অগণিত শ্রোতার ভালোবাসা।

তাঁর গাওয়া ‘এলোমেলো বাতাসে উড়িয়েছি শাড়ির আঁচল’, ‘কাল সারা রাত ছিল স্বপনেরও রাত’, ‘দু চোখে ঘুম আসে না’, ‘মানুষ নিষ্পাপ পৃথিবীতে আসে’, ‘ওই রংধনু থেকে’, ‘পত্রমিতা’, ‘মরার কোকিলে’, ‘আর কতদিন’, ‘লোকে বলে আমার ঘরে নাকি চাঁদ উঠেছে’, ‘প্রিয়তমা’সহ আরও অসংখ্য গান আজও শ্রোতাদের মনে অনুরণন তুলে যাচ্ছে।

অনিন্দ্য কণ্ঠ আর অনবদ্য গায়কীর জন্য ভূষিত হয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অগণিত পুরস্কার ও সম্মাননায়। সংগীত সাধনার পাশাপাশি রাজনৈতিক কমকাণ্ড নিয়েও এখন ব্যস্ত সময় কাটছে এ শিল্পীর। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন।

.

উৎস: Samakal

কীওয়ার্ড: ব ব ন জন ন অন ষ ঠ ন ন জন ন

এছাড়াও পড়ুন:

সংস্কার বাস্তবায়িত হলে জাতির মৌলিক রূপান্তর ঘটবে: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সংস্কার বাস্তবায়িত হলে জাতির মৌলিক রূপান্তর ঘটবে।

আজ বৃহস্পতিবার চীনের হাইনানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার (বিএফএ) বার্ষিক সম্মেলন ২০২৫-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে তাঁর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার শুরু করেছে। নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সংস্কারের জন্য স্বাধীন কমিশন করা হয়েছে। এসব সংস্কার বাস্তবায়িত হলে জাতির মৌলিক রূপান্তর ঘটবে।

মুহাম্মদ ইউনূস গতকাল বুধবার চার দিনের সরকারি সফরে চীনে পৌঁছান। আগামীকাল শুক্রবার বেইজিংয়ে মুহাম্মদ ইউনূস ও চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

চীন সফরে বিশ্বখ্যাত ও চীনের বড় বড় কোম্পানির প্রধান নির্বাহীদের (সিইও) সঙ্গে বৈঠক করবেন মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার ২৯ মার্চ দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সম্পর্কিত নিবন্ধ