Prothomalo:
2025-04-09@22:31:22 GMT

যেদিন আমি মারা যাব

Published: 9th, March 2025 GMT

ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রহ.) অত্যাচারিত হয়ে একবার বলেছিলেন, ‘আমাদের এবং তাদের মধ্যে পার্থক্য প্রকাশ পাবে আমাদের জানাজায়।’ এখানে ‘তারা’ ছিলেন তার অত্যাচারীরা। তারা তার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিল। ইমাম আহমাদ কথাটি বলেছিলেন এই ভেবে যে, অন্ধকার কারাগারেই তার মৃত্যু হবে এবং তারপর সত্য প্রকাশিত হলে বিপুল মানুষ তার জানাজায় আসবে, ফলে অত্যাচারী বিচারক আহমাদ ইবন আবি দুআদও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বাধ্য হবেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছায় ইমাম আহমাদ সেই যাত্রায় টিকে যান এবং অপরাধীর অপবাদ থেকে মুক্ত হন। জনগণের কাছে তিনি পুনরায় ব্যাপক সমাদর লাভ করেন। এবং সত্যি সত্যি তার যখন মৃত্যু হয়, আল্লাহ তাকে এমন সম্মানিত জানাজা দান করেন, যা আরব ইতিহাসের শ্রেষ্ঠতম ও বৃহৎ জানাজা হিসেবে পরিচিত। বিপরীতে, সেই বিচারক আহমাদ ইবন আবি দুআদ এতটা ঘৃণার পাত্র হন যে, তার জানাজায় কেউ আসে নি।

হ্যাঁ, কখনো কখনো সত্যিকারের ধার্মিকদেরও নিঃসঙ্গ মৃত্যু হয় এবং মন্দ লোকেরা পায় রাজকীয় বিদায়। যেমন তৃতীয় খলিফা উসমান ইবন আফফান (রা.

)-এর জানাজা সম্পন্ন করতে হয় রাতের অন্ধকারে গোপনে, যেন উপস্থিত জনসমুদ্র হত্যাকারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে পরিস্থিতি আরও জটিল করে না তোলে। হতে পারে ইমাম আহমাদের বেলায় আল্লাহ চেয়েছেন তাকে বিজয়ী দেখাতে, পৃথিবীতে তাকে অভাবনীয় সম্মান দিতে।

আরও পড়ুনযে কারণে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পড়া হয়০৫ মার্চ ২০২৫

জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি একবার আমাকে বলেছিলেন, ‘তোমার জানাজা সামনে রেখে জীবন গঠন করো এবং সেভাবেই পথ চলার সিদ্ধান্ত নাও।’

যখন জীবনের যেই মুহূর্ত অতিবাহিত করি, মনে রাখতে হবে, শেষ দিনটি কেমন হবে, তা যেন আমাদের ভাবনা থেকে ছুটে না যায়। আমাদের যাবতীয় কাজ, আচরণ, সিদ্ধান্ত একটু একটু করে সেই জানাজার দিকে পরিচালিত করছে-যে জানাজা হবে হয় চিরস্থায়ী মুছিবতের নয় সুখের প্রতীক। মৃত্যু অবধি এক মহা সফরে চলেছি আমরা; যে-জীবন বয়ে যাব, শেষ ক্ষণটির সজ্জা হবে সেভাবেই। তারপর, মৃত্যুর পর অপেক্ষা করছে আরেক জীবন।

অনেক ধর্মপ্রাণ আছেন, মৃত্যুর আগে তার সামাজিক অবদানের কথা লোকজন জানতে পারে না, অনুভবও করতে পারে না যে, তিনি কতটা মহৎ ছিলেন। যেমন, ইমাম জাইনুল আবিদিন আলী ইবনে হোসেইন (রহ.)-এর কথা বলা যায়। তিনি ছিলেন মহানবীর (সা.) নাতি হোসাইন (রা.)-এর ছেলে। তার মৃত্যু হলে দেখা যায় কাঁধে একটা প্রচণ্ড চাপের দাগ। উদ্‌ঘাটিত হয় যে, এটা ব্যাগের চিহ্ন, যা তিনি রাতে অভাবীদের দরজায় রেখে আসতেন। কেউ তার এ-অবদানের কথা জানত না। পরে জানা যায়, মদিনার বহু লোকের জীবিকা নির্বাহ হতো তার দানের অর্থ দিয়ে; যদিও তারা জানত না, সেই দানের উৎস কোথায়।

আরও পড়ুনমহানবী (সা.) এবং এক ইহুদি ছেলের গল্প০৫ মার্চ ২০২৫

ভাবুন তো, আপনার মৃত্যুর পর কতজন আপনাকে মিস করবে, কতজনের জীবন আপনি আনন্দে ভরিয়ে দিয়েছিলেন? সেই মানুষ কতজন, যারা পরিত্যক্ত অবস্থায় আপনার বরাভয় পেয়েছিল? কতজন বঞ্চিত আপনার সাহায্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল? কতজন অত্যাচরিতের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন আপনি? পরিবারের সদস্যরা কি আপনার না-থাকা টের পাবে শুধু খালি বিছানা দেখে, নাকি তাদের হৃদয়ে গভীর শূন্যতাও অনুভব করবে তারা? তারা কি শুধু আপনার খরচের অভাব অনুভব করবে, নাকি আপনার হাসিও মিস করবে? তারা আপনার সেবা ও ত্যাগের অভাব বোধ করবে?

ইমাম জাইনুল আবিদিন (র.) চাইতেন না যে, প্রাপকেরা তার কথা জানুক। কারণ তিনি জানতেন, দানের প্রকৃত উৎস আল্লাহ। তিনি পার্থিব কৃতজ্ঞতা চাননি, চেয়েছেন শুধু পরকালে। তিনি এ-জগতের ক্ষণকালীন প্রশংসা নয়, পর জগতের চিরন্তন পুরস্কার চেয়েছিলেন। বুঝতে পেরেছিলেন, যদি পৃথিবীর মোহে বিভ্রান্ত হন, তাহলে অস্থায়ী পৃথিবীর একটি অংশ হবেন মাত্র। তার চেয়ে চিরায়ত ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেওয়া ভালো। অস্থায়ী পৃথিবীর একটি অংশ হবেন মাত্র। তার চেয়ে চিরায়ত ভবিষ্যতের দিকে মনোযোগ দেওয়া ভালো। দোয়া করুন, ‘আল্লাহ, আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময় যেন শেষ সময় হয়, আমার সবচেয়ে ভালো কাজ যেন শেষ জীবনের কাজ, এবং সেরা দিন যেন হয় তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের দিন (আল্লাহুম্মাজ‘আল খইরা যামানি আখিরহু, ওয়া খইরা আমালি খওয়াতিমাহু, ওয়া খাইরা আইয়্যামি ইয়াওমা আলক-কা)।

আরও পড়ুনমহানবী (সা.)-কে ভালোবাসার ৭টি নিদর্শন০৬ মার্চ ২০২৫

অনেক মানুষের মৃত্যুর পরে আমরা অযথা প্রশংসাবাক্যও শুনতে পাই। তিরমিজির এক বর্ণনায় নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘কেউ মারা গেলে যদি লোকজন তার সম্পর্কে প্রশংসার বৃষ্টি ঝরায় এবং বলে, ‘কী মহান ব্যক্তি ছিল, কী সম্মানিত ছিলেন তিনি’ তাহলে তার জন্য দুজন ফেরেশতা নিয়োজিত হন, যারা তাকে তীব্র আঘাত করতে করতে বলেন, এটা কি সত্যিই তুমি?’

মানুষের প্রশংসার অপেক্ষা করবেন না। বরং যদি আপনি জীবনভর আল্লাহর প্রশংসা খোঁজেন, তাহলে প্রতিশ্রুত আমলগুলো কবরে আকাশের জ্বলজ্বলে তারার মতো আপনার অপেক্ষা করবে। হতে পারে সেই আমলগুলোর কথা কেউ জানে না, অথবা কয়েক জন মাত্র জানে, শুধু আল্লাহ আর আপনিই জানেন সবটা।

আল্লাহ আমাদের সকলের জীবনের সুন্দর সমাপ্তি এবং সর্বোত্তম পরিণতি দান করুন।

সূত্র: মুসলিম ম্যাটার্স

অনুবাদ: মনযূরুল হক

আরও পড়ুনযেভাবে ইস্তিগফার করা যায়০৬ মার্চ ২০২৫

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: আল ল হ জ বন র আম দ র আপন র

এছাড়াও পড়ুন:

মুনাফার লোভে টাকা দিয়ে মূলধন নিয়ে টানাটানি

রোকেয়া বেগম প্রতি লাখে মাসে ২ হাজার টাকা মুনাফার খবর শুনে তেলিয়াপাড়া নিশান পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটিতে ১০  লাখ টাকা জমা করেছিলেন। টাকা জমা রাখার প্রমাণ হিসেবে এনজিওটি তাঁকে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে দলিল সম্পাদন করে দেয়। চুক্তিনামা অনুযায়ী মাসে মাসে মুনাফা পেতেন রোকেয়া।

ভালো মুনাফার খবর শুনে রোকেয়ার মতো ছোট-বড় তিন হাজার বিভিন্ন পেশার মানুষ ওই এনজিওতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকার আমানত রাখেন। গত কয়েক মাস ধরে এনজিওটি আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে টালবাহানা করছে। এর মধ্যে কয়েকজন পরিচালক পালিয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। 

কয়েকজন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এনজিওটির সব কার্যক্রম ঠিকমতোই চলছিল। গত ডিসেম্বর মাস থেকে হঠাৎ বিপত্তি দেখা দেয়। হঠাৎ করে এনজিওটিতে অর্থ সংকট দেখা দেয়। খবর চাউর হলে হাজারো গ্রাহক টাকা ফেরত পেতে নিশান পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির প্রধান কার্যালয়ে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। তখন উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে বৈঠকে ওই এনজিওর পরিচালকরা আমানতকারীদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, এপ্রিল মাস থেকে লভ্যাংশ ও জুলাই মাস থেকে গ্রাহকের আমানতের টাকা ফেরত দেবেন। কিন্তু এর মধ্যে ওই এনজিওর তিনজন পরিচালক এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন। বর্তমানে এনজিওটির চেয়ারম্যান বেলাল মিয়া অফিসে আছেন। তিনি মানসিকভাবে অসুস্থ। তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না। এতে  টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়ে ভরসা পাচ্ছেন না আমানতকারীরা। 

নিশান পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক জালাল উদ্দিন বলেন, সারাদেশে তাদের ২৮ শাখা ছিল। প্রায় দেড় লাখ সদস্য ছিলেন। কয়েক কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাস থেকে গোলযোগের কারণে সবগুলো শাখা সমিতি বন্ধ হয়ে গেছে। সমিতির সদস্যরা কয়েক কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছেন না। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় নিশানের বাগান, জমি, বহুতলবিশিষ্ট ভবনসহ অনেক সম্পদ রয়েছে। ইচ্ছে ছিল সম্পদ বিক্রি করে ধীরে ধীরে মানুষের টাকা ফেরত দেব। কিন্তু আমানতকারীদের বিশৃঙ্খলার কারণে এখন সহায়-সম্পদ বিক্রি করা যাচ্ছে না। তবু আমরা চেষ্টা করছি সাধারণ মানুষের টাকা ফেরত দেওয়ার। টাকার পরিবর্তে নিশানের সম্পদ কেউ কেউ নিজেদের দখলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক ভুক্তভোগী জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এনজিওটি মানুষের কাছ থেকে টাকা জমা নিয়েছে। বিনিময়ে প্রতি মাসে মুনাফা দিয়ে আসছে। এই প্রলোভনে পড়ে ধনী-গরিব সবাই সেখানে টাকা বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু বেশি মুনাফার লোভে সেখানে টাকা জমা রেখে তারা নিজেদের বিপদ ডেকে এনেছেন। 

নুরুল ইসলাম নামে এক আমানতকারী জানান, জমি বিক্রি করে মুনাফার আশায় নিশান এনজিওতে তিনি টাকা জমা করেছিলেন। এখন তাঁর মতো শত শত লোক নিজেদের অর্থ ফিরে পেতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। যতই দিন যাচ্ছে গ্রাহকরা টাকা জমা করে হতাশায় ভুগছেন। অনেক গরিব মানুষ জমি ও সহায়-সম্পদ বিক্রি টাকা জমা করেছিলেন। সবাই এখন দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন। 

এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ বিন কাশেম বলেন, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে নিশান পরিবেশ উন্নয়ন সোসাইটিকে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এর পরও তারা টাকা ফেরত না দিলে আমানতকারীরা ওই এনজিওর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ