ঢাকাসহ সারা দেশে যৌথ অভিযান চালিয়ে গত সাত দিনে (গত ২৭ ফেব্রুয়ারি-৫ মার্চ পর্যন্ত) বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত ৪২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে তৈরি বিভিন্ন ক্যাটাগরির পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, মুঠোফোন ও সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জানমালসহ সার্বিক নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড রোধ ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে দেশব্যাপী নিরপেক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে কাজ করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর ১, ভাষানটেক, ইসিবি চত্বর, কাঁঠালবাগান, হাজারীবাগ এবং টঙ্গী, নরসিংদী, রাজেন্দ্রপুর, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, কিশোরগঞ্জ, রাজশাহী, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেশ কিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করে যৌথ বাহিনী।

যৌথ বাহিনীটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশন, ১০ পদাতিক ডিভিশন, ১১ পদাতিক ডিভিশন, ৬ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড, ৭ স্বতন্ত্র এডিএ ব্রিগেড, ৮৬ স্বতন্ত্র সিগন্যাল ব্রিগেড ও ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের অধীনের ইউনিট এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত।  

আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যৌথ অভিযানে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ডাকাত দলের সদস্য, ছিনতাইকারী, কিশোর গ্যাং সদস্য এবং মাদক ব্যবসায়ীসহ ৪২৭ জন অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া অভিযানে বিভিন্ন স্থানে নকল ভোজ্যতেল ও নকল ফলের জুসের কারখানাসহ বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা সিলগালাসহ দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।    

আটক ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। সাধারণ মানুষকে সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ চোখে পড়লে কাছের সেনা ক্যাম্পে তথ্য দিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: স বতন ত র পদ ত ক

এছাড়াও পড়ুন:

দলীয় শৃঙ্খলারক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না

দলীয় বিভিন্ন কার্যক্রম, রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা করেছেন সিলেট জেলা ও নগর বিএনপির নেতারা। আজ শনিবার দুপুরে নগরীর জিন্দাবাজারে একটি অভিজাত হোটেলের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা জানান, দলীয়শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কেউ যদি বিএনপির নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় কারও ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডকে পুরো দলের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করার অনুরোধ জানান নেতারা। 

বিএনপি নেতারা চা-শ্রমিকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে বলেন, দেশের অন্যতম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত চা শিল্প বর্তমানে চরম সংকটে। চা-শ্রমিকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় মালিকপক্ষ, সরকার ও শ্রমিক সংগঠনকে একযোগে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রমজানে চা-শ্রমিকদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয় বলে তারা জানান।

সভায় আরও জানানো হয়, গত বছর গণআন্দোলনে নিহত ও আহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে সিলেট বিএনপি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নেতারা বলেন, ঈদ উপলক্ষে সিলেট নগর ও জেলার প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় ছিল। এজন্য পুলিশ, র‌্যাব, ট্রাফিক বিভাগ, হাইওয়ে ও রেলওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও একটি নতুন আগামীর স্বপ্নে জনগণের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা তারা সরাসরি উপলব্ধি করতে পেরেছেন।

সভায় বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। 

সভায় বক্তারা বলেন, পবিত্র রমজানে জেলার প্রতিটি উপজেলা-পৌরসভায় ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে এবং মহানগরীর থানার ওয়ার্ড-পাড়াগুলোতে দোয়া ও ইফতার মাহফিল করায় সাধারণ জনগণের সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের যোগাযোগ আরও গভীর হয়েছে। 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক পিপি, শাহজামাল নুরুল হুদা, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি জিয়াউল গনি আরেফিন জিল্লুর, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি নাজিম উদ্দিন লস্কর ও সামিয়া বেগম চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. আশরাফ আলী ও রহিম মল্লিক, মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব, জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হাসান আহমদ পাটোয়ারী রিপন।

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর নেতৃত্বে উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত
  • সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা
  • দলীয় শৃঙ্খলারক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না
  • কর্মস্থলে ফিরছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ 
  • মজুচৌধুরীর হাট লঞ্চঘাটে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের ভিড় 
  • মিয়ানমারে বাংলাদেশি সশস্ত্র বাহিনীর উদ্ধার ও চিকিৎসা কার্যক্রম
  • নোয়াখালীতে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য থামান