নাটোরে বৈষম্যবিরোধীদের নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে একাংশের মহাসড়কে অবস্থান
Published: 6th, March 2025 GMT
নাটোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে নাটোর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে পদবঞ্চিত ছাত্রদের একটি অংশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের বড়হরিশপুর বাইপাস চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি থেকে দাবি আদায়ের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। অন্যথায় তাঁরা রেলপথ অবরোধ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।
পদবঞ্চিত ছাত্রদের একটি অংশ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বড়হরিশপুরে নাটোর-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নেয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে তাঁদের অবস্থানের মধ্যে সড়কের দুটি লেন উন্মুক্ত থাকায় যান চলাচল অব্যাহত ছিল।
কর্মসূচি থেকে নেতারা বলেন, নতুন কমিটিতে আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত না থাকা ব্যক্তিদের পদ দেওয়া হয়েছে এবং পরিবারতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে রাখার পাশাপাশি ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্তদেরও গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের আদর্শের পরিপন্থী।
কর্মসূচিতে আগের কমিটির সদস্যসচিব মশিউর রহমান বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন সংগঠনের জন্য কাজ করে এলেও কোনো নোটিশ না দিয়ে হঠাৎ পুরোনো কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি করা হয়েছে। যেখানে ত্যাগীদের অবজ্ঞা করা হয়েছে। যাঁরা এক দফার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিল, সেসব কর্মীদের বাদ দিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।’
মশিউর রহমান আরও বলেন, কমিটির বিষয়ে তাঁরা বারবার কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তাঁরা কোনো কর্ণপাত করছেন না। এর আগে ৩ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে সড়ক অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু রমজান মাস হওয়ায় তাঁরা কর্মসূচি কিছুটা শিথিল করেছেন। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্র কমিটি পরিবর্তন না করলে তাঁরা রেলপথ অবরোধ করতে বাধ্য হবেন।
কর্মসূচিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল নোমান পিয়াস, সুব্রত দেব, মেহেদী হাসান, তামিম হাসানসহ পদবঞ্চিতরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ৫ জানুয়ারি ২৯৫ সদস্যবিশিষ্ট নাটোর জেলা কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটিতে বিলুপ্ত বা স্থগিতাদেশ না দিয়েই ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে নতুন করে দুই শতাধিক সদস্যের একটি কমিটি ছয় মাসের জন্য ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় কমিটি।
.উৎস: Prothomalo
এছাড়াও পড়ুন:
মার্চে দেশে এসেছে ৩২৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স
দেশে মার্চ মাসে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ৩২৯ কোটি মার্কিন ডলার। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ ৪০ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসেবে)।
রবিবার (৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, মার্চে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে তা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৯৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত ফেব্রুয়ারিতে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ ডলার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত দেশে রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ১৭৭ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার। যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। আগের অর্থবছরে একই সময় রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ৭০৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার।
উল্লেখ্য ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জুলাইয়ে ১৯১ কোটি ৩৭ লাখ ৭০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, আগস্টে এসেছে ২২২ কোটি ৪১ লাখ মার্কিন ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৪০ কোটি ৪৭ লাখ মার্কিন ডলার, অক্টোবরে ২৩৯ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার, নভেম্বর মাসে ২১৯ কোটি ৯৯ লাখ মার্কিন ডলার, ডিসেম্বর মাসে ২৬৩ কোটি ৮৭ লাখ মার্কিন ডলার, জানুয়ারি মাসে ২১৮ কোটি ৫২ লাখ মার্কিন ডলার এবং ফেব্রুয়ারিতে এসেছে ২৫২ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।
এনএফ//