নারী উত্ত্যক্তকারীর জামিন: আইন উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি
Published: 6th, March 2025 GMT
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীকে উত্ত্যক্তকারী মোস্তফা আসিফকে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন দেওয়ায় আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের রাজনৈতিক প্রধান মো. আনিছুর রহমান ও সদস্য সচিব হাসান মোহাম্মদ আরিফ।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড.
আরো পড়ুন:
ঢাবির কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের ফল প্রকাশ
ঢাবিতে নির্মাণ হবে নতুন ১০টি আবাসিক হল
শিক্ষার্থীরা আসামি আসিফকে আটক করে প্রক্টর অফিসে সোপর্দ করলে সেখানে তিনি সবার সামনে হেনস্তার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তাকে শাহবাগ থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। কিন্তু আসামি আসিফকে মুক্ত করতে শাহবাগ থানায় একদল উগ্রপন্থী উপস্থিত হয়ে অন্তত ৮ ঘণ্টা অবস্থান করে।
পরবর্তীতে দেখা যায় হেনস্তার শিকার ছাত্রী মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এবং আসামি আসিফ জামিনে মুক্তি পান। তখন তাকে ফুলের মালা পরিয়ে কোরআন হাতে ধরিয়ে উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, যা ঘটেছে তা পূর্ব পরিকল্পিত নাটক ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, পূর্ব পরিকল্পিত নাটকের প্রধান এপিসোড হলো- উগ্রপন্থীদের দাবির মুখে অজামিনযোগ্য মামলায় দ্রুততার সঙ্গে আসামিকে জামিন প্রদান এবং উগ্রপন্থীদের উল্লাস। আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এর দায় কোনভাবেই এড়াতে পারেন না।
এ পরিস্থিতিকে উগ্রপন্থা ছড়িয়ে মুসলমানদের হত্যাযোগ্য করার গভীর নীল নকশার অংশ দাবি করে এর নেপথ্যে আসিফ নজরুলের ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
ঢাকা/সৌরভ/মেহেদী
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর আইন উপদ ষ ট
এছাড়াও পড়ুন:
গবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ, প্রত্যাহার দাবি
সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম মুন্নার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ উঠেছে। এ মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৬ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
জানা গেছে, সাতক্ষীরার শ্যামনগর থানায় আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উস্কানিতে বর্তমান সরকারকে উৎখাত, জনসাধারণের শান্তি বিনষ্ট ও সরকারি সম্পদের ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে গত ১২ মার্চ বিক্ষোভ মিছিল এবং দেশীয় অস্ত্রদ্বারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এতে ৭৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১২৫ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় গত ৫ এপ্রিল নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী মর্মে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পুলিশ প্রহরায় ওইদিনই আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
মুন্নাকে গ্রেপ্তার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করেন মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার দিন ক্যাম্পাসেই ছিলেন মুন্না। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বৃহত্তর খুলনা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে তাকে। অভিযুক্তের ফেসবুকেও ওইদিনের ইফতার সংক্রান্ত একাধিক পোস্ট ও ছবি রয়েছে।
মানববন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সম্মিলিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মূখ্য সংগঠক ও গবি আইন বিভাগের শিক্ষার্থী তাওহীদ আহমদ সালেহীন বলেন, “আন্দোলনের শুরু থেকেই মুন্না আমাদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজের পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। মুন্নার বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত মব সন্ত্রাসীদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ মামলা অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। আগামীতে কারো বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার পূর্বে যেন সঠিক সাক্ষ্য প্রমাণের উপর ভিত্তি করা হয়, সেটা পুলিশকে নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এর পরিমাণ ভয়াবহ হবে।”
আইন বিভাগের প্রভাষক লিমন হোসেন বলেন, “এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার দিন মুন্না ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিল এবং একটি ইফতার ও দোয়া মাহফিলেও অংশ নিয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শতশত শিক্ষার্থী এবং আইন বিভাগের সব শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মুন্নার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ দেশের সব মানুষ যেন ন্যায়বিচার পায় এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয় সেই দাবি জানাই। আইন উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে অনতিবিলম্বে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশে মুন্না যেন দ্রুত শিক্ষা-কার্যক্রমে ফিরতে পারে, সেই দাবি জানাচ্ছি।”
এদিকে সার্বিক বিষয়ে শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হুমায়ুন কবীর মোল্লা বলেন, “ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়- এই মর্মে অভিযুক্তের যদি কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ থাকে, তিনি তাহলে আদালতে প্রমাণ পেশ করুক। আমাদের কাছেও কাগজপত্র দিলে আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
ঢাকা/সানজিদা/মেহেদী