আবরারের বিলবোর্ডে তাকিয়ে মা বললেন, ‘মনে হচ্ছে আমাকে ডাকছে বাবু’
Published: 6th, March 2025 GMT
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টা। স্টেডিয়াম উদ্বোধনের অতিথিসহ অন্যরা মাঠে ঢুকে মূল মঞ্চের দিকে যান। প্রায় শেষের দিকে ধীরে ধীরে হেঁটে মাঠে প্রবেশ করেন রোকেয়া খাতুন। একটু যেতেই ডান পাশে রাখা একটা বিলবোর্ডের দিকে তাকিয়ে দেখছিলেন। মুখ থেকে আবেগাপ্লুতভাবে বলে উঠলেন, ‘আবরার আমার দিকে তাকিয়ে আছে। মনে হচ্ছে আমাকে ডাকছে বাবু।’
রোকেয়া খাতুন বুয়েটে ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদের মা। আজ বৃহস্পতিবার কুষ্টিয়ায় ছেলের নামে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামের উদ্বোধন করা হয়েছে। আবরারের বাবা মো.
রোকেয়া খাতুন যখন মঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন, তখন কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী তাঁর সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন। এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, কতজন আসামি পলাতক? জবাবে রোকেয়া খাতুন জানান, তিনজন আসামি আগে থেকেই পলাতক। নতুন করে এক আসামি জেল থেকে পালিয়েছে বলে জানতে পেরেছেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা আছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামিদের রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
ছেলের নামে স্টেডিয়ামের নামকরণের ব্যাপারে জানতে চাইলে রোকেয়া খাতুন বলেন, ‘যখন আবরারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তখন আইন, প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশের সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক, প্রত্যেক পেশাজীবী যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞ। সে কারণে আজকে আবরারকে স্মরণে রাখার জন্য এটা হয়েছে। সবার প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। তিনি তাঁর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘আবরারকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অপবাদ দিয়ে থাকে। সেটা যেন আর কেউ না করে।’ রোকেয়া খাতুন মূল মঞ্চে বসলেও বক্তব্য দেননি।
আবরার ফাহাদ বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ।
মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর রায় দেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য বিচারিক আদালতের রায়সহ নথিপত্র ২০২২ সালের ৬ জানুয়ারি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়, যেটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভুক্ত হয়।
মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর গত ২৪ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়। মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন হাইকোর্ট। এখন যেকোনো দিন রায় ঘোষণা হতে পারে।
গত সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে জানান, আবরার ফাহাদ এবার মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন।
উৎস: Prothomalo
কীওয়ার্ড: আবর র ফ হ দ
এছাড়াও পড়ুন:
টিউশনি করা উপদেষ্টারা আজ ৬ কোটি টাকার গাড়িতে চড়েন: বুলু
অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টাকে ইঙ্গিত করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী বরকত উল্লাহ বুলু বলেছেন, যারা কিছু দিন আগেও টিউশনি করে নিজেদের পড়াশোনা ও হাত খরচ চালাতেন; আজ তারা ৬ কোটি টাকার গাড়ি ব্যবহার করেন। ৩০ হাজার টাকা দামের পাঞ্জাবি পরেন। কেউ আবার শত শত গাড়ির বহর নিয়ে এলাকায় গণসংযোগ করেন। আবার কেউ কেউ কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ইফতারপার্টি করেন। কোনো কোনো উপদেষ্টা বিভিন্ন দপ্তরে গিয়ে আমলাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে বড় বড় কাজ ভাগিয়ে নিচ্ছেন। আবার কেউ বিভিন্ন দপ্তরে অযোগ্য লোকদের পদায়ন করেন। এসব অপকর্ম থেকে জাতি মুক্তি চায়। এ জন্যই নির্বাচন দরকার।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে বেগমগঞ্জ উপজেলার শহীদদের পরিবারের মাঝে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহারসামগ্রী বিতরণের সময় তিনি এসব কথা বলেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চৌমুহনী ব্যাংক রোডে হ্যাং আউট চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
গণভোট সর্ম্পকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, যারা অনির্বাচিত সরকারের চিন্তা-ভাবনা করেন; তারাই গণভোট বা হ্যাঁ-না ভোটের পক্ষে কথা বলেন। জাতিকে রক্ষা করতে হলে নির্বাচনের বিকল্প নেই।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, যারা সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে চায়, তারা স্বাধীনতার শত্রু। ৫ আগস্ট সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান যদি হেলিকাপ্টারযোগে ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধান শেখ হাসিনাকে ভারতে না পাঠাতেন; তাহলে দেশে আরেকটি ঘটনা ঘটতো। এটা জাতির জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াত। সেনাবাহিনী যুগযুগ ধরে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা দেশের সূর্যসন্তান।
বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের শহীদরা বাংলার চেতনার বাতিঘর, তাদের জীবন দিয়ে এদেশ ফ্যাসিস্টমুক্ত করে আমাদেরকে ঋণী করেছেন।
বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক রুস্তম আলীর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য শামীম বরকত লাকী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক আবেদ, চৌমুহনী পৌর বিএনপির সভাপতি জহির উদ্দিন হারুন, সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলমসহ আরও অনেকে।