ধর্ষণ ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে গবিতে বিক্ষোভ
Published: 6th, March 2025 GMT
দেশজুড়ে চলমান নৈরাজ্য, নারী ও শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন থেকে শুরু হয়ে বাদামতলায় অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। সেখান থেকে মূল ফটক ঘুরে আবার একাডেমিক ভবনের সামনে কর্মসূচি শেষ হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা 'সাঈদ, শাকিল, মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘একটা একটা ধর্ষক ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
আরো পড়ুন:
নোয়াখালীতে স্কুলে যাওয়ার পথে ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ
ধর্ষণচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা, আসামির বাড়ি ভাঙচুর
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাসিম খান বলেন, “বর্তমান আইন ব্যবস্থা আরো কঠোর হওয়া প্রয়োজন। সরকার নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। ধর্ষক, চাঁদাবাজদের দ্রুততম সময়ে বিচার না করলে, আমরা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নামব।
বাংলা বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস রিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দেশে মা-বোন কেউ নিরাপদ নয়। শিশু থেকে বৃদ্ধা পর্যন্ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতির অবসান চাই। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসনের বিচারহীনতা এখনো চলছে। আমরা ২৪-এর পর নিরাপত্তার যে আশা করেছিলাম, তা ভেঙে গেছে। এখনই ধর্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
বিক্ষোভে সংহতি প্রকাশ করে আইন বিভাগের প্রভাষক লিমন হোসাইন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা জুলাই আন্দোলনের সময় ১১ জন নিয়ে মাঠে নেমেছিল, যা পরবর্তীতে গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। আমরা ফ্যাসিস্ট শাসককে বিদায় করতে পেরেছি। এবারও আমরা ধর্ষণ ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সফল হব।”
ঢাকা/সানজিদা/মেহেদী
.উৎস: Risingbd
এছাড়াও পড়ুন:
বাধ্যতামূলক ছুটিতে ইসলামী ব্যাংকের এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের এমডি মুহাম্মদ মুনিরুল মওলাকে অবশেষে তিন মাসের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বহিঃনিরীক্ষকের অডিটে বিভিন্ন অনিয়ম–জালিয়াতিতে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফজলে কবির ও একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংক দখল করে এস আলম গ্রুপ। বিভিন্ন উপায়ে শুধু এই ব্যাংক থেকে তারা ৯১ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার তথ্য উঠে এসেছে ব্যাংকের নিরীক্ষায়। এস আলম ইসলামী ব্যাংক দখলে নেওয়ার পর ব্যাংকটিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠেন মনিরুল মওলা। দ্রুততার সঙ্গে তাকে পদোন্নতি দিয়ে প্রথমে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরে ২০২০ সালের ডিসেম্বরে এমডি নিয়োগ দেওয়া হয়।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ব্যাংকটির পর্ষদের বেশির ভাগ সদস্য ও অধিকাংশ ডিএমডি পলাতক অবস্থায় আত্মগোপনে চলে যান। অদৃশ্য কারণে মনিরুল মওলা বহাল তবিয়তে ছিলেন।
ইসলামী ব্যাংকের একজন পরিচালক সমকালকে জানান, নতুন পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মনিরুল মওলাকে অপসারণের দাবি ছিল। তবে আমরা বহিঃনিরীক্ষকের অডিট রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এখন প্রতিবেদন প্রায় শেষ পর্যায়ে। অডিট রিপোর্টে এস আলম গ্রুপের ঋণ জালিয়াতি এবং নাবিল গ্রুপের ১৩ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকার জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অনিয়মে তার সম্পৃক্ত পাওয়া গেছে। যে কারণে ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে চিঠি দিয়ে তাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইসলামী ব্যাংক এক সময় দেশের সেরা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ছিল। এখন ‘দুর্বল’ হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পেছনে যাদের ভূমিকা রয়েছে তাদের অন্যতম এই মুনিরুল মওলা। তার বাড়ি চট্টগ্রামে হওয়ার সুবাদে ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার চরম অবনতি হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের দূরস্থার আসল চিত্র এতদিন আড়ালে ছিল। সরকার পতনের পর লুকিয়ে রাখা খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসছে। গত জুনের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ চারগুণের বেশি বেড়ে ৩২ হাজার ৮১৭ কোটি টাকায় ঠেকেছে। এক লাখ ৫৫ হাজার ৬৫৯ কোটি টাকা ঋণের যা ২১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রভিশন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। গত জুন পর্যন্ত এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ছিল ৭ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। এস আলম, নাবিলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বেনামি ঋণ খেলাপি করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ পর্যায়ে দাঁড়াবে।