স্বাধীনতা পুরস্কার পাচ্ছেন পপসম্রাট আজম খান
Published: 6th, March 2025 GMT
জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য চলতি বছর আট বিশিষ্টজনকে স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে সরকার। এ তালিকায় রয়েছেন ‘পপসম্রাট’ আজম খান। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
বাংলা পপ গান গেয়ে এ দেশের সাধারণ মানুষের মন জয় করেন আজম খান। শুধু তাই নয়, এ ঘরানার গান গেয়ে ‘পপ সম্রাট’ উপাধি লাভ করেন। সবাই তাকে গুরু বলেও সম্বোধন করতেন। আজম খান ১৯৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
আজম খান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। আজম খান ক্লাস নাইনে পড়াকালীন অনুধাবন করতে পেরেছিলেন পাকিস্তানি শাসকরা বিভিন্নভাবে দেশের মানুষকে অনেক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে। এমন অনুভব শক্তি আজম খানকে বিপ্লবী চিন্তার মানুষে পরিণত করে। সেই সময় তিনি জানতে পারেন ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠীর কথা। গণসংগীতের চর্চা করতেন এই শিল্পীগোষ্ঠীর সদস্যরা। বন্ধুদের সঙ্গে এই শিল্পীগোষ্ঠী সংগীত পরিবেশন করতে থাকেন আজম খান।
আরো পড়ুন:
ইসলামি রীতিতে দাফন চান কবীর সুমন
‘শয়তানের খপ্পর থেকে পাসপোর্ট উদ্ধার হয়েছে’
ধীরে ধীরে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার পর এই শিল্পীগোষ্ঠী ঢাকার বাইরে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গাওয়া শুরু করেন। তাদের সাধারণ মানুষের জীবনের অভাব ও বঞ্চনার কথা তুলে ধরা হতো গানে গানে। প্রতিবাদী গান গাওয়ার জন্য পুলিশের লাঠির বাড়িও খেয়েছেন আজম খান। গণ–আন্দোলনের সময়গুলোতেও গান করে গেছেন বরেণ্য এই শিল্পী।
আজম খানের গাওয়া অনেক জনপ্রিয় গান এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘এত সুন্দর দুনিয়ায়’, ‘অভিমানী’, ‘অনামিকা’, ‘পাপড়ি’, ‘আলাল ও দুলাল’, ‘আসি আসি বলে তুমি আর এলে না’, ‘আমি যারে চাইরে’, ‘রেললাইনের ওই বস্তিতে’, ‘হাইকোর্টের মাজারে’, ‘জ্বালা জ্বালা’, ‘ও চাঁদ সুন্দর’, ‘বাধা দিয়ো না’, ‘ও রে সালেকা ও রে মালেকা’ ও ‘জীবনে কিছু পাব না রে’।
২০১১ সালের ৫ জুন অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে অনন্তের পথে পাড়ি জমান পপ সম্রাট।
স্বাধীনতা পুরস্কার দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকার ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এ পুরস্কার দিয়ে প্রদান করে আসছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে প্রতি বছর বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে এই পদক প্রদান করা হয়। পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫ লাখ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণের পদক, পদকের একটি রেপ্লিকা ও একটি সম্মাননাপত্র প্রদান হয়।
ঢাকা/রাহাত/শান্ত
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর এই শ ল প আজম খ ন র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
থানায় ঢুকে গালিগালাজ, ২ যুবদল নেতা বহিষ্কার
মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে থানায় মদ্যপ অবস্থায় প্রবেশ করে পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করা এবং গ্রেপ্তার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা যুবদলের দুই নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রবিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
আরো পড়ুন: মদ্যপ অবস্থায় থানায় ঢুকে গালিগালাজ, যুবদলের ২ নেতা গ্রেপ্তার
আরো পড়ুন:
নজরুল ইসলাম খান
টাকার লোভে আ.লীগকে ফিরিয়ে আনতে চাইছে কিছু রাজনৈতিক দল
ভারতে মুসলিম ওয়াকফ বিল ২০২৫ পুনঃবিবেচনার দাবি বিএনপির
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রেক্ষিতে সিঙ্গাইর পৌর যুবদলের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম ওরফে জীবন (৪৫) এবং পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য শফিকুল ইসলামকে (২৬) প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি, দলীয় সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল শনিবার (৫ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে বহিষ্কৃত দুই যুবদল নেতা মদ্যপ অবস্থায় সিঙ্গাইর থানায় গিয়ে পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। এ সময় তারা গ্রেপ্তার এজাহারভুক্ত এক আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ওই দুই নেতাকে আটক করে। মামলা দায়েরের পর আজ রবিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
সিঙ্গাইর থানার ওসি জে ও এম তৌফিক আজম বলেন, “মদ্যপ অবস্থায় দুই ব্যক্তি থানায় আসেন। এরপর তারা এজাহারভুক্ত গ্রেপ্তার এক আসামিকে ছাড়তে বলেন। পুলিশ সদস্যদের গালিগালাজ করেন তারা। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার রাতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং পুলিশের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। রবিবার দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়।”
ঢাকা/চন্দন/মাসুদ