ভারতের লক্ষ্য পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ: জয়শঙ্কর
Published: 6th, March 2025 GMT
পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলেই সব সমস্যা মিটে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বুধবার (৫ মার্চ) যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক থিংকট্যাংক সংস্থা চ্যাথাম হাউসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এনডিটিভি।
জয়শঙ্কর বলেছেন, ভারত সরকার এখন পাকিস্তানের চুরি করা অংশটুকু ফেরত আনার অপেক্ষায় রয়েছে।
আরো পড়ুন:
আমি ১৮টি ট্যাবলেট খেয়েছিলাম: সংগীতশিল্পী কল্পনা
ভুয়া আধার কার্ড তৈরির অভিযোগে বাংলাদেশিসহ গ্রেপ্তার ৩
কাশ্মির ইস্যু সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে জয়শঙ্কর বলেন, “এ ইস্যুতে আমরা ধাপে ধাপে এগোচ্ছি এবং আমি মনে করি, ইতিমধ্যে অনেকাংশে আমরা এটিকে গুছিয়ে এনেছি। প্রথম ধাপে আমরা (সংবিধানের) ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিল করেছি, দ্বিতীয় ধাপে জম্মু-কাশ্মিরের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে গতিশীল করা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে মনোযোগ দিয়েছি, তৃতীয় ধাপে আমরা সেখানে বিধানসভা নির্বাচন দিয়েছি এবং সেই নির্বাচনে প্রচুর ভোটার ভোট দিয়েছেন।”
তিনি বলেন, “এখন আমাদের সামনে আছে চতুর্থ ধাপ। এই ধাপে আমাদের লক্ষ্য হলো জম্মু-কাশ্মিরের চুরি যাওয়া অংশ উদ্ধার করা। আরো স্পষ্টভাবে বললে, জম্মু-কাশ্মিরের যে অংশটি পাকিস্তান অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে, সেটিকে ভারতের মানচিত্রভুক্ত করা।”
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্র বলেন, “আমি আপনাকে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, যদি এই লক্ষ্য আমরা সফলভাবে অর্জন করতে পারি, সে ক্ষেত্রে কাশ্মির ইস্যু নামে আর কোনো সংকট থাকবে না। এটিই এ সংকটের চূড়ান্ত সমাধান।”
এনডিটিভির প্রতিবেদন বলছে, এর আগেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জোর দিয়ে বলেছিলেন, পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির ভারতের একটি অংশ। ভারতের প্রতিটি রাজনৈতিক দল এটি ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত বছরের ৯ মে নয়াদিল্লির দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্গী কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলেছিলেন, “পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মির সম্পর্কে আমি কেবল এটুকুই বলতে পারি যে, সংসদে একটি প্রস্তাব রয়েছে.
তিনি দাবি করেন, “২০১৯ সালের আগস্টে ৩৭০ ধারা বাতিলের ফলে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের বিষয়টি নিয়েও মানুষের ভাবনার পথ তৈরি হয়েছে।”
জয়শঙ্কর বলেন, “যেহেতু আমরা অবশেষে ৩৭০ ধারার সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাই পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের বিষয়টি জনগণের চিন্তাভাবনার সামনে এসেছে। কিছু ঘটার জন্য প্রথম পূর্বশর্ত হলো এটি আপনার চিন্তাভাবনার মধ্যে থাকা উচিত।”
ঢাকা/ফিরোজ
উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর পরর ষ ট রমন ত র
এছাড়াও পড়ুন:
দেশে ব্যবসার অনুমোদন পেল স্টারলিংক
বাংলাদেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট–সেবা চালুর জন্য স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংককে অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)।
রবিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ এ তথ্য দেন।
তিনি বলেন, “আমরা তাদের ৯০ দিনের মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তার পরিপ্রেক্ষিতেই ২৯ মার্চ স্টারলিংককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”
আরো পড়ুন:
গাজায় নির্যাতিতদের পক্ষে নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
নোবিপ্রবি উপাচার্যের নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা
বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলনের ভেন্যু রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আগামী ৯ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংকের ইন্টারনেট–সেবা ব্যবহার করা হবে। সেখানে উপস্থিত সব অংশগ্রহণকারী সেটি ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া স্টারলিংকের ইন্টারনেট ব্যবহার করে সম্মেলনের সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ও স্পেসএক্সের সিইও ইলন মাস্কের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। সেখানে বাংলাদেশের জন্য স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট–সেবা চালুর সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রযুক্তি খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, স্টারলিংক বাংলাদেশে এলে দুর্গম এলাকায় খুব সহজে উচ্চগতির ইন্টারনেট-সেবা পাওয়া যাবে। ফলে ইন্টারনেট-সেবার ক্ষেত্রে গ্রাম ও শহরের পার্থক্য ঘুচে যাবে। গ্রামে বসেই উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সিংসহ ইন্টারনেটভিত্তিক কাজ করতে পারবেন তরুণেরা। দুর্যোগের পর দ্রুত যোগাযোগ প্রতিস্থাপনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে স্টারলিংক।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনার জন্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিডা থেকে নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই নিবন্ধনও স্টারলিংককে দেওয়া হয়েছে।
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরো জানান, পরিচালনার জন্য যে নন–জিওস্টেশনারি অরবিট (এনজিএসও) লাইসেন্সের প্রয়োজন, স্টারলিংকের আজ (রবিবার) আবেদন করার কথা রয়েছে। নিয়ম মেনে আবেদন করলে অনুমোদন দেওয়া হবে। এতে বাংলাদেশে তাদের ব্যবসা করার জন্য কোনো বাধা থাকবে না।
ঢাকা/হাসান/সাইফ