বেনফিকা ১: ০ বার্সেলোনা

বায়ার্ন ৩ : ০ লেভারকুসেন

ফেইনুর্ড ০ : ২ ইন্টার

লা লিগায় দুর্দান্ত ছন্দ নিয়েই বেনফিকার মাঠে খেলতে গিয়েছিল বার্সেলোনা। এই ম্যাচেও নিশ্চিত ফেবারিট ছিল কাতালান ক্লাবটি। কিন্তু ম্যাচের শুরুতে দলের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে চাপে পড়ে যায় বার্সা। কিন্তু সেই চাপও শেষ পর্যন্ত রুখতে পারেনি বার্সাকে।

একজন কম নিয়ে প্রায় ৮০ মিনিট খেলেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বার্সা। বেনফিকার বিপক্ষে বার্সার ১-০ গোলের জয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন রাফিনিয়া। প্রতিপক্ষের মাঠে পাওয়া এই জয়ের পর সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে ঘরের মাঠে খেলতে নামবে বার্সা।

বেনফিকার মাঠে শুরুতেই পিছিয়ে যেতে পারত বার্সা। যদিও সে যাত্রায় কোনোভাবে বেঁচে যায় তারা। গোল না পেলেও বার্সাকে ভালোই চ্যালেঞ্জ দিচ্ছিল পর্তুগিজ ক্লাবটি। তবে ১২ মিনিটে বার্সার নিশ্চিত গোলের সুযোগ ঠেকিয়ে দেন বেনফিকা গোলরক্ষক আনাতোলি তুরবিন। এরপর ফের সুযোগ পেয়েছিল বেনফিকাও। কিন্তু গোল আদায় করতে পারেনি তারাও। ম্যাচের ২২ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় বার্সা।

আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বেনফিকার ভাঞ্জেলিস পাভদিলিসকে বক্সের সামনে ফাউল করে বসেন বার্সা ডিফেন্ডার পাউ কুবারসি। এই ফাউলের কারণে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় কুবারসিকে।

এরপর বার্সার জন্য লড়াইটা হয়ে পড়ে ১০ জন বনাম ১১ জনের।  একজন কম নিয়েও অবশ্য বেনফিকার সঙ্গে লড়াই জমিয়ে রাখে হ্যান্সি ফ্লিকের দল। বেনফিকার চাপ সামলে চেষ্টা করে গোল আদায়ের। যদিও প্রথমার্ধে শেষ পর্যন্ত গোল পায়নি কোনো দলই।

বিরতির পর বেনফিকাই আধিপত্য বিস্তার খেলতে শুরু করে। ৫০ ও ৫৮ মিনিটে সুযোগও পেয়েছিল তারা। কাঙ্ক্ষিত গোলটি পায়নি তারা।  

বেনফিকা না পারলেও ভুল করেনি বার্সা। ৬১ মিনিটে ১০ জনের বার্সাকে এগিয়ে দেন রাফিনিয়া। দারুণ এক মাটি কামড়ানো এক শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ব্রাজিলিয়ান তারকা।

এই গোলের দুই দলই চেষ্টা করেছে গোলের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর গোল পায়নি কোনো দলই। ঘরের মাঠে ১০ জনের বার্সার বিপক্ষে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বেনফিকাকে।

রাতের অন্য ম্যাচে বায়ার লেভারকুসেনের বিপক্ষে অসাধারণ এক জয় পেয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। আলিয়েঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্নের পাওয়া ৩-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেছেন হ্যারি কেইন। অন্য গোলটি জামাল মুসিয়ালার।

রাতের প্রথম ম্যাচে ফেইনুর্ডকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ আটের পথে অনেকটা এগিয়ে গেল ইন্টার মিলান। ইন্টারের হয়ে প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে প্রথম গোলটি করেন মার্কুস থুরাম। আর বিরতির পর ৫০ মিনিটে গোল করে দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। প্রতিক্ষের মাঠে পাওয়া এই জয় ইন্টারের আত্মবিশ্বাস নিশ্চিতভাবে অনেকটা বাড়িয়ে দেবে।

.

উৎস: Prothomalo

কীওয়ার্ড: ইন ট র ১০ জন প রথম

এছাড়াও পড়ুন:

স্বর্ণভর্তি ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত গড়লেন অটোরিকশাচালক

সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ফেলে যাওয়া ব্যাগভর্তি ১৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ১৫ হাজার টাকা যাত্রীকে ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত গড়েছেন বগুড়ার খায়রুল ইসলাম খোকন। গত ২৯ মার্চ নিজের অটোরিকশায় ওই ব্যাগ পান তিনি। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাতে পুলিশের মাধ্যমে প্রকৃত মালিককে স্বর্ণ ও টাকাসহ ব্যাগ ফেরত দেন খায়রুল ইসলাম খোকন।

খায়রুল ইসলাম খোকনের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ি এলাকায়। তিনি বগুড়ার শাহ সুলতান কলেজে ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষে পড়ার পাশাপাশি সিএনজি অটোরিকশা চালান। বাবার মৃত্যুর পর নিজের লেখাপড়ার খরচ চালানো এবং সংসারের হাল ধরতেই তিনিই অটোরিকশা চালান।

গত ২৯ মার্চ পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগরের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. শাহিন ব্যবসার কাজে বগুড়ায় আসেন। তিনি ১৮ ভরি স্বর্ণ কেনেন। সেই স্বর্ণ ও নগদ ১৫ হাজার টাকা একটি কালো ব্যাগে নিয়ে খায়রুলের অটোরিকশায় ওঠেন। ব্যাগটি তিনি অটোরিকশার পেছনে রাখেন। বনানী এলাকায় পৌঁছার পর সেখানে ‘নবীনবরণ’ লেখা একটি বাস দেখে অটোরিকশা থামাতে বলে ভাড়া মিটিয়ে ওই বাসে উঠে পড়েন শাহিন। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে তিনি স্বর্ণভর্তি ব্যাগটি অটোরিকশাতে ফেলে যান। শাজাহানপুর উপজেলার মাঝিরা এলাকায় পৌঁছানোর পর তার মনে হয়, তিনি ভুল করে স্বর্ণ ও টাকাসহ ব্যাগটি সিএনজি অটোরিকশায় ফেলে গেছেন। এরপর তিনি বাস থেকে নেমে পড়েন এবং শাহজাহানপুর ও বগুড়া সদর থানার ওসির শরণাপন্ন হন।

পুলিশের পরামর্শে তিনি শাজাহানপুর থানায় একটি জিডি করেন। পাশাপাশি তিনি কয়েকদিন ধরে সাতমাথায় ওই অটোরিকশাচালককে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু, তার দেখা না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। 

এদিকে, অটোরিকশার চালক খায়রুল ইসলাম খোকন ব্যাগের মালিকের সন্ধান করতে থাকেন। কিন্তু, তাকে কোথাও না পেয়ে তিনি ব্যাগটি নিয়ে নিজ বাড়ি শাজাহানপুর উপজেলার বেতগাড়ি হাজীপাড়ায় যান এবং তার মাকে বিষয়টি জানান। মা তাকে ব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে বলেন। মায়ের কথামতো ব্যাগটি ফিরিয়ে দিতে আরো চেষ্টা করতে থাকেন খায়রুল। একপর্যায়ে ব্যাগের মালিককে না পেয়ে পরিচিত ট্রাফিক সার্জেন্ট আলমগীরের মাধ্যমে সদর থানার ওসি এস এম মইনুদ্দিনের কাছে যান এবং ব্যাগটি থানায় জমা দেন। এরপর পুলিশ জিডির সূত্র ধরে ব্যাগের প্রকৃত মালিক জুয়েলারি ব্যবসায়ী মো. শাহিনকে গতকাল ৪ মার্চ রাত ১১টার দিকে থানায় ডেকে স্বর্ণ ও টাকাসহ ব্যাগ বুঝিয়ে দেন। এ সময় ওই ব্যবসায়ী অটোরিকশাচালক খায়রুলকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চান। কিন্তু, তিনি টাকা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন।

ব্যাগ ফিরে পেয়ে শাহিন বলেন, খায়রুলের সততা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ওর মতো মানুষ থাকলে সমাজে কোনো ভয় নেই।

খায়রুল ইসলাম খোকন বলেন, ব্যাগে থাকা সোনা ও টাকা মালিককে ফিরিয়ে দিতে পেরে দায়মুক্ত হয়েছি। সারা জীবন সৎ থাকতে হবে। সৎ থাকলে পরকালে ভালো হবে। 

সদর থানার (ওসি) এস এম মইনুদ্দিন বলেন, খায়রুলের মতো শিক্ষার্থীরা সমাজের জন্য আশার আলো। সে শুধু সৎ নয়, দায়িত্বশীল ও মানবিক।

ঢাকা/এনাম/রফিক

সম্পর্কিত নিবন্ধ

  • এনরিকে ও ক্যাম্পোসের পিএসজির চারে চার
  • একই রশিতে ঝুলছিল মা ও ছেলের লাশ
  • সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন তামিম
  • ২৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খাইরুল
  • সুপার লিগের টিকিট পাওয়ার লড়াই
  • বোলার বল ছুড়তেই স্টেডিয়াম অন্ধকার, এরপর যা হল
  • জয়পুরহাটে বাজারের ৭ নৈশপ্রহরীকে বেঁধে ‘ডাকাতি’, মাল নিয়ে ট্রাকে করে পলায়ন
  • সাভারে দিনের বেলায় যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে ছিনতাই
  • স্বর্ণভর্তি ব্যাগ ফেরত দিয়ে সততার দৃষ্টান্ত গড়লেন অটোরিকশাচালক
  • গানে গানে পল্লি বাউল জবানের প্রশ্ন, ‘তাঁর খবর কে রাখে’