মুশফিকের থেকে তামিমের চাওয়া ‘অন্তত ১০০ টেস্ট’
Published: 5th, March 2025 GMT
‘ক্রিকেটের মক্কা’ খ্যাত লর্ডসে সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়েছিল মুশফিকুর রহিমের। বয়স ছিল কেবল ১৭ বছর। সাদা পোশাকের ক্রিকেটের যেই রেলগাড়িতে মুশফিকুর চড়েছিলেন, ধীরগতির সেই বাহন এখন তাকে নিয়ে গেছে নব্বই পেরিয়ে।
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটের হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে নব্বইয়ের ঘর ছুঁয়েছিলেন মুশফিকুরের। তার টেস্ট ম্যাচ সংখ্যা এখন ৯৪। ইনজুরিতে না পড়লে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে আরো দুইটি টেস্ট ম্যাচ যোগ হতো। তার সামনে একশ টেস্ট খেলার হাতছানি। পারবেন কী মুশফিক? সেটাই এখন বিরাট প্রশ্নের।
সেই প্রশ্নটা আরো একবার উঠল তার ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণার দিনে। ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ছাড়েন মুশফিকুর। গতকাল রাতে ফেসবুকে এক পোস্ট দিয়ে ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১০০ টেস্ট খেলার অনন্য মাইলফলকের সামনে মুশফিকুর। বন্ধু তামিম ইকবালের একমাত্র চাওয়া, মুশফিক যেন অন্তত ১০০ টেস্ট খেলতে পারে।
আরো পড়ুন:
বিষন্ন মুশফিকুরের ওয়ানডে ছাড়ার ঘোষণা
এভাবেও ম্যাচ হারা যায়?
এক ভিডিও বার্তায় তামিম বলেছেন, ‘‘তুই একটা ফরম্যাট খেলবি, টেস্ট ফরম্যাট। আমি প্রত্যাশা ও প্রার্থনা করি তুই যেন ভালো করিস এবং অন্তত যেন ১০০ টেস্ট ম্যাচ খেলতে পারিস। যেটা বাংলাদেশের এখন পর্যন্ত কোনো ক্রিকেটার খেলেনি। আমি আশা করবো ১০০ টেস্ট অবশ্যই খেলবি। এটাই।’’
১০০ টেস্ট খেলতে হলে মুশফিককে এ বছর পুরোটা সময় ফিট থাকতে হবে, পারফর্ম করতে হবে। এপ্রিলে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল বাংলাদেশে আসছে। আইসিসির ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম অনুযায়ী জুন-জুলাইয়ে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা সফর করবে। সেখানে ২ টেস্ট খেলবে। এরপর বছরের শেষ দিকে আয়ারল্যান্ড সফরে রয়েছে আরো ২ টেস্ট। এই ৬ টেস্ট খেলতে পারলে মুশফিকের নাম ইতিহাসের অক্ষয় কালিতে লিখা থাকবে নিশ্চিতভাবেই।
মুশফিকুরের ওয়ানডে অবসরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তামিম। তার কথা বলতে গিয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন, ‘‘এমন একজন ব্যক্তি আজ (গতকাল) অবসরে গেলেন, যার সঙ্গে আমার অলমোস্ট ২০-২৫ বছরের সফর। একটা স্ট্যাটাস দিয়ে আসলে মানুষকে বুঝাতে পারতাম না আমার অনুভূতিটা তার প্রতি কী বা আমার কেমন মনে হচ্ছে।’’
‘‘মুশফিককে আমি এতোটুকুই বলতে চাই, দোস্ত তোর সাথে আমার খেলা শুরু অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় থেকে এবং আমি তোকে প্রতিটি স্তরে উন্নতি করতে দেখেছি। আমি দেখেছি, তুই একটা নরম্যাল ব্যাটসম্যান থেকে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছিস। অনেক মানুষের, আপনাদের হয়তো ওর কঠোর পরিশ্রমটা দেখার সুযোগ হয়নি। কিন্তু আমরা যেহেতু একসঙ্গে খেলি আমি দেখেছি যে, একটা ছেলে কতটা কষ্ট করতে পারে। একটা মানুষের পক্ষে যতটা কষ্ট করা সম্ভব আমার কাছে মনে হয় সে সবই করেছে এবং এখনও করে যায়। আমরা এটা নিয়ে অনেক সময় হাসাহাসিও করি যে, একটা মানুষ এতো কষ্ট করে কেন? কিন্তু তার নিবেদন, তার খেলার প্রতি ভালোবাসা এটা কল্পনার বাইরে। আমি কথা বলে কোনোদিন কাউকে বোঝাতে পারব না।’’
মুশফিকুরের অবদান বাংলাদেশ ক্রিকেট মনে রাখবে বলে বিশ্বাস তামিমের, ‘‘আমি যেহেতু ওর খুব কাছের একজন, বন্ধু আমি, এটা অনুভব করতে পারছি এটা ওর জন্য প্রচন্ড কষ্টদায়ক। বন্ধু তুই যা অর্জন করতে পেরেছিস, যে-টুকুই তুই করেছিস তা অসাধারণ ছিল। অধিনায়ক হিসেবে, খেলোয়াড় হিসেবে বাংলাদেশের জন্য…বাংলাদেশের প্রত্যেকে বছরের পর বছর তা মনে রাখবে।’’
‘‘আমি সত্যি বলতে, এখন বেশ আবেগতাড়িত। আমি অনুভব করতে পারছি তোর এখন কেমন লাগছে।বাংলাদেশ তোকে নিশ্চিতভাবেই মিস করবে। বাংলাদেশের জন্য তুই যা করেছি তা অনেক বছর মনে রাখবে। আমি ভাগ্যবান যে ডিপিএল তোর সঙ্গে খেলতে পারছি। আরো কিছু সময় কাটাতে পারব। অনেক ধন্যবাদ মুশফিক, সব কিছুর জন্য।’’
ঢাকা/ইয়াসিন
.উৎস: Risingbd
কীওয়ার্ড: চ কর চ কর ত ম ম ইকব ল ট স ট চ য ম প য়নশ প ১০০ ট স ট র জন য
এছাড়াও পড়ুন:
ওয়ার্কচার্জের ২৪ কর্মীর চাকরি স্থায়ী হয়নি ২৭ বছরেও
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের বিভিন্ন সময়ে ওয়ার্কচার্জ কর্মকর্তা-কর্মচারী হিসেবে ৩৯৬ জনকে নিয়োগ দিয়েছিল। তাদের নিয়োগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল ১০ বছর চাকরি করার পর পর্যায়ক্রমে তাদের স্থায়ী করা হবে। এর মধ্যে ৭৫ শতাংশ জনবল স্থায়ী হবে সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে আর ওয়ার্কচার্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্য থেকে স্থায়ী হবেন ২৫ শতাংশ। এরপর নানা সময় ওয়ার্কচার্জ কর্মীদের মধ্যে ৩৭২ জনের চাকরি স্থায়ী হলেও বঞ্চিত রয়ে গেছেন ২৪ জন। তাদের মধ্যে তিনজন করোনা মহামারি সময়ে মারা গেছেন। বাকি ২১ জনের হয়েছে অবসরে যাওয়ার সময়।
ওয়ার্কচার্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মূলত তাদের কাজ অনুযায়ী নির্দিষ্ট হারে বেতন-ভাতা পান। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো অন্যান্য সুবিধা পান না। জানা গেছে, ইতোমধ্যে ওয়ার্কচার্জের ২১ কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজউক চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সদস্যের (প্রশাসন) সঙ্গে দেখা করে চাকরি স্থায়ীকরণের আবেদন জানিয়েছেন। তবু তাদের স্থায়ী করার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অথচ তাদের স্থায়ী করার জন্য বিপরীতে প্রায় অর্ধশত পদ শূন্য রয়েছে। এসব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী না করে বরং বিভিন্ন প্রকল্প থেকে কর্মীদের চাকরি স্থায়ী করার অভিযোগ উঠেছে।
রাজউক সূত্র জানায়, নিয়োগ পাওয়া ৩৯৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জাতীয় বেতন স্কেল-১৯৯৬ অনুসারে ২০০১ সালে রাজস্ব খাতভুক্ত ওয়ার্কচার্জ করা হয়। তাদের মধ্যে আব্দুল লতিফ হেলালী রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী হয়ে অবসরে গেছেন। উজ্জ্বল মল্লিকও প্রধান প্রকৌশলীর পদে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি তাঁকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া আবু হাসান মোর্তজা ও মো. হাফিজ নগর পরিকল্পনাবিদ হয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে অবসরে গেছেন। ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া মোজাফ্ফর উদ্দিন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে বর্তমানে কর্মরত। আরও কয়েকজন আছেন নির্বাহী প্রকৌশলী পদে। এ ছাড়া আরও অনেকে নিয়মিত হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। অনেকে কর্মকর্তা হয়ে অবসরে গেছেন। তিনজন নিম্নমান সহকারীর চাকরি স্থায়ী হওয়ার আগেই মৃত্যু হয়েছে। বাকি যারা পড়ে আছেন, তারা ছোট পদে কর্মরত। এ জন্যই তাদের দিকে রাজউকের নজর কম বলে অভিযোগ।
ভুক্তভোগীরা জানান, নিয়োগ ও পদোন্নতি কোটার ৪৫টি পদ এখনও শূন্য। কিন্তু রাজউক পরিচালনা পর্ষদ কোনো নিয়ম অনুসরণ না করে একেক সময় একেকজনের চাকরি নিয়মিত করেছে। সর্বশেষ গত ৫ সেপ্টেম্বর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাজী অমিত ও নুরুল আলমকে নিয়মিত করা হয়েছে। এ দু’জনই ছিলেন প্রকল্পের কর্মচারী। ওয়ার্কচার্জভুক্ত যে ২১ জনের চাকরি নিয়মিত হয়নি, তাদের প্রত্যেকের চেয়ে এ দু’জন অনেক কনিষ্ঠ।
ভুক্তভোগী এক কর্মকর্তা বলেন, তাঁর দেড় বছর চাকরি আছে। এখনও বলতে পারেন না চাকরিটি স্থায়ী হয়েছে। এ জন্য পরিবারের কাছেও লজ্জা পেতে হয়। আরেকজন বলেন, চাকরি নিয়মিত হলে অবসরে গেলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। কিন্তু এ অবস্থায় অবসরে গেলে একদম নিঃস্ব হাতে বিদায় নিতে হবে।
আরেকজন ভুক্তভোগী বলেন, গত বছর তাদের চাকরি স্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছিল রাজউক বোর্ড। তখন তথাকথিত রাজউক শ্রমিক লীগের কয়েকজন নেতা এতে বাধা দেন। ওই নেতারা আমাদের কাছে কিছু আর্থিক সুবিধা দাবি করেছিলেন। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। তখন শ্রমিক লীগের নেতারা আমাদের ২১ জনকে বিএনপি-জামায়াতের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করে বোর্ডকে প্রভাবিত করেন। ফলে আমাদের চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগ থমকে যায়।
এসব প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, ২১ ওয়ার্কচার্জ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিষয়টি মানবিকভাবে আমরা দেখার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে বোর্ডে দু-তিনবার তুলেছি। কিন্তু বিভিন্ন সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এমন কিছু নিয়ম করেছে যে, তাদের নতুন করে সব সনদ জমা দিতে হবে। তারা সেটা পারে না। এ কারণে রাজউকেরও কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে এটা বুঝতে পারছি মানবিক কারণে হলেও তাদের চাকরিটা স্থায়ী করা দরকার।’