মাগনা তরমুজ না পেয়ে ব্যবসায়ীকে পেটাল সাবেক ছাত্রদল নেতা
Published: 5th, March 2025 GMT
গাজীপুরের শ্রীপুরে জোর করে তরমুজ নিতে বাধা দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে বেদম পিটিয়েছেন এক সাবেক ছাত্রদল নেতা। মারধরের পর ওই ব্যবসায়ীর কাছে থাকা টাকা লুট করে প্রায় অর্ধশত তরমুজ সড়কে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে বাজারজুড়ে মহড়া দেন ওই সাবেক ছাত্রদল নেতাসহ তাঁর সহযোগীরা। গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সাতখামাইর বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সন্ধ্যার পর বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ী বিক্ষোভ করে ওই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। খবর পেয়ে থানা পুলিশের দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে শান্ত হন ব্যবসায়ীরা। মারধরের শিকার ব্যবসায়ীর নাম এনামুল হক মুনসী (৪৮)। তিনি ওই এলাকার মৃত আবদুল কাদির আকন্দের ছেলে। এনামুল সাতখামাইর বাজারের মৌসুমি ফল ব্যবসায়ী। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম রমিজ উদ্দিন সৈকত (৩০)। তিনি একই এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। সৈকত গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক।
মারধরের শিকার এনামুল হক মুনসী জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে সৈকত তাঁর দোকানে গিয়ে ‘টেস্ট’ করার জন্য একটি তরমুজ চান। তিনি ফ্রিতে তরমুজ দিতে পারবেন না জানালে ক্ষেপে যান সৈকত। তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে প্রায় অর্ধশত তরমুজ সড়কে ছুড়ে ফেলে দেন। এরই মধ্যে তাঁর (সৈকত) আরও ১০ থেকে ১২ সহযোগী সেখানে জড়ো হন। পরে সৈকত তাঁকে লাথি মেরে ফেলে দিয়ে বেদম পেটান। একপর্যায়ে এক সহযোগী এনামুলের পকেট থেকে ফল বিক্রির সাত হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। তাঁর চিৎকারে ব্যবসায়ীরা ছুটে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন।
সাতখামাইর বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি রাসেল আকন্দ জানান, ঘটনার পর সৈকতের নেতৃত্বে তাঁর কয়েকজন সহযোগী ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাজারজুড়ে মহড়া দেন। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ওই দিন সন্ধ্যার পর ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে শ্রীপুর-সাতখামাইর সড়কে বিক্ষোভ করেন। বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী তানজির আকন্দ বাবু জানান, তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রদর্শন করা ধারালো অস্ত্র উদ্ধারসহ সৈকত ও তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। বরমী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সমবায়বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল আকন্দ রনি বলেন, ‘খবর পেয়ে থানা পুলিশের আলাদা তিনটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রদর্শন করা ধারালো অস্ত্র উদ্ধারসহ সৈকতকে গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীরা ফের দোকান খোলেন। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমিজ উদ্দিন সৈকত সমকালকে বলেন, এলাকার ছাত্রদলের নেতাকর্মী ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি তদারকি করছিলেন। এ সময় এনামুল তাদের গালাগাল শুরু করেন। এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, একটি অভিযোগ করেছেন মারধরের শিকার ফল ব্যবসায়ী। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উৎস: Samakal
কীওয়ার্ড: ছ ত রদল ন ত ব যবস য় র ম রধর র আকন দ সহয গ তরম জ
এছাড়াও পড়ুন:
‘‘মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করে দেন, জনগণ আস্ত একটা মিডিয়া’’
গৃহকর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পিংকি আক্তার গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার ভাটারা থানায় অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। এরপর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে ফেসবুক লাইভে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন পরীমণি। এ সময় বেশ কয়েকবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন এই নায়িকা।
২১ মিনিট ৬ সেকেন্ডের দীর্ঘ ফেসবুক লাইভে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আইনিভাবে মোকাবিলার কথা জানান পরীমণি। এ সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও। অভিনেত্রীর ক্ষোভ মূলত তার বক্তব্য ছাড়া কেবল অভিযোগকারীর লিখিত অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে খবর প্রকাশ করায়।
ফেসবুক লাইভের শুরুতেই নিজের টিমের সদস্যদের প্রসঙ্গে পরীমণি বলেন, “আপনারা আমার বিগত জীবনযাপন দেখলেই বুঝবেন, কোনো আত্মীয়স্বজন নিয়ে আমার জীবনযাপন না, আমার পুরো পরিবারটাই হলো আমার স্টাফদের নিয়ে। বিভিন্ন বিশেষ দিবসে তাদের নিয়ে লেখালেখি করতাম। মাদার্স ডে, ফাদার্স ডে যা–ই বলেন না কেন, কারণ আমি তাদের নিয়েই থাকি। সেখানে একজন আমার গৃহকর্মী, যে এক মাসও হয়নি। না আসলে...সে দাবি করতেই পারে, তবে আমি বলব সে আমার গৃহকর্মী না।”
অভিনেত্রী আরো বলেন, “আমার হাতে সব প্রমাণ আছে, কিন্তু দিতে চাচ্ছি না কেন জানেন, কারণ আমি আইনের ওপর শ্রদ্ধাশীল।’’
থানায় সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে পরীমনিকে নিয়ে গণমাধ্যম যেভাবে খবর প্রকাশ করেছে, এতে তিনি মিডিয়া ট্রায়ালের শিকার হয়েছেন বলেও এ সময় অভিযোগ করেন।
পরীমনি বলেন, “আমরা কি একটু ওয়েট করতে পারতাম না, যারা মিডিয়াকর্মী ছিলাম। তারা আমাকে যেভাবে টর্চারটা করল, যেভাবে ফলাও করে ওই নিউজটা করা হলো, যেভাবে তার ইন্টারভিউ করা হলো; তার মানে কি আমরা মিডিয়াকর্মী হয়ে তাকে প্রিভিলেজ দিচ্ছি না? যে কেউ যে কারও বিরুদ্ধে জিডি করলেই সাথে সাথে এটা জাস্টিফাই হয়ে যাবে? এতে আমি ছোট হয়েছি বা বড় হয়েছি তা না, আমি যদি অন্যায় করি ডেফিনেটলি আমার শাস্তি পাওয়া উচিত। যে কেউ অভিযোগ করতেই পারে, কিন্তু সেটা প্রমাণিত হওয়ার আগেই আপনি তাকে দোষী সাব্যস্ত করে দেবেন?”
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার দিকে বাসায় পুলিশ এসেছিল বলে লাইভে জানান পরীমণি। তিনি বলেন, “পুলিশ সদস্যরা বাসার সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন।” ফেসবুক লাইভের শেষ দিকে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পরী। বলেন, “এত মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধ করে দেন, জনগণ কিন্তু আস্ত একটা মিডিয়া।”
ঢাকা/রাহাত